যুদ্ধ, মৃত্যু, তবুও স্বপ্ন…

“যুদ্ধ, মৃত্যু, তবুও স্বপ্ন…
ফসলের মাঠ, ফেলে আসা সুখ”

একটা যুদ্ধক্লান্ত পৃথিবী। পরিশ্রুত পানীয় জল, জীবনদায়ী ওষুধ, দু’বেলার পেট ভরা খাবার যেখানে শুনতে লাগে উৎসবের মতো। পৃথিবীর এই প্রান্তে সূর্যকে বলপূর্বক অস্তমিত করে রাখা হয়েছে কুচকওয়াজের ছন্দে, বোমারু বিমানের শব্দে যাতে অপর প্রান্তে কোনোদিন সূর্য অস্তগামী না হয়। যাকে গম্ভীরভাবে উপনিবেশবাদ বলেই শুধু এড়িয়ে যাওয়া যায় তার ভিতরে লুকিয়ে থাকে আত্মপরিচয়ের লড়াই, থাকে স্বাধীনতার আকাঙ্খা যা এক থেকে দুই, দুই থেকে চার হয়ে সংক্রামিত হতে থাকে সভ্যতা জুড়ে; থাকে স্বপ্নালু চোখ জোড়া যা মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়ায় গোটা মানচিত্র- বিধ্বস্ত, ক্লান্ত, জীর্ণ মানচিত্র। এই পৃথিবীটাই আমার পৃথিবী, এই পৃথিবীতেই প্রয়োজনীয় চাহিদা আর না পাওয়ার দর কষাকষির মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছে একের পর এক প্রজন্ম। এই পৃথিবীর এক প্রান্তে যেমন বনগাঁ, বরাহনগর, বিজয়গড় আছে তেমনই আরেক প্রান্তে আছে গাজা, ন্যাপেল্স, রোজারিও। এরকম একটা দিগন্ত বিস্তৃত পৃথিবীর নব্বই ভাগ কেড়ে নিয়েছে ওই দশভাগীয় প্রথম বিশ্ব। এরই মধ্যে আত্মপরিচয়ের খোঁজে একটা মিছিল ন্যাপেল্স হয়ে ঢুকছে যন্তর মন্তরে। নিজের দেশে, নিজের মাটিতে নিজের অস্তিত্বের অধিকার চেয়ে এই মিছিলের অভ্যর্থনায় উপস্থিত রাষ্ট্রের তাক করা AK-47, M4 – Carbine, টিয়ার গ্যাসের শেল সহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শামিয়ানা।


আরেকদিকে রেফারি বাঁশি বাজালো, সবুজ গালিচায় বেটে, ঝাঁকড়া চুলের এক হাট্টা গাট্টা যুবক ছুটে যাচ্ছে আলোর গতিকে হার মানিয়ে। ওই দশভাগীয় প্রথম বিশ্ব লুটিয়ে পড়ছে তার পায়ের কাছে। পাঁচজন, সাতজন, আটজন ঘিরে ধরছে। একটাই লক্ষ পৃথিবীর সম্ভবত অষ্টম আশ্চর্য ওই বাঁ পায়ের গতি থামিয়ে দিতে হবে, প্রয়োজনে ভেঙে দিতে হবে! ভাগ্যিস খেলার মাঠে M4 – Carbine বা অন্যকিছু নিয়ে ঢোকা যায়না, নাহলে হয়তো…। সেই গতি আগ্নেয়গিরির লাভার মতো নেমে আসছে ‘সভ্য সমাজ’-এর দিকে। ধুলো চাটিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমী আভিজাত্যকে, সেই গতির সাথে মিশে আছে বিউনেস এয়ার্সের একদম দক্ষিণ প্রান্তের বস্তিবাসীদের আজীবন বয়ে চলা অবজ্ঞা ও অপমানের কাহিনী , মিশে আছে খিদের জ্বালা, মিশে আছে ইতিহাসের সাথে পুরোনো হিসেব মিলিয়ে নেওয়ার দায়। ফকল্যান্ডের যুদ্ধ। যেভাবে শিকারী পাখি শিকার করে সেভাবেই ছোটো ছোটো ছেলেদের কামানের মুখে বেঁধে উড়িয়ে দিয়েছিল ইংরেজরা। স্বাধীন মালভিনাসের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করেছিল শয়ে শয়ে তরুণ। তাদের মায়েদের বুক ফাটা আর্তনাদ, বাপের হাহাকার আর প্রেয়সীর জমাট বাধা শোকের ভার কাঁধে নিয়ে সবুজ গালিচায় বিদ্যুৎ বেগে এগিয়ে যাচ্ছে সেই ঝাঁকড়া চুলের তরুণ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো করেই জালে বল জড়িয়ে গেল। গোটা মাঠ দাপাদাপি করছে ইংরেজরা, গোল বাতিল করতে হবে কিন্তু খেলার অলক্ষ্যে সেদিন ফুটবল ঈশ্বর জানতেন এটা নিছক একটা গোল নয়। এটা ইতিহাসের সাথে বোঝাপড়া মিটিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ। তারপর কুচকওয়াজের ছন্দে ঘিরে ধরলো ইংরেজ বাহিনী। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচজন তবুও গতিবিধি থামানো যাচ্ছে না। সেই ঝাঁকড়া চুলের যুবক পায়ে বল নিয়ে এঁকে দিচ্ছে শতাব্দীর সেরা গোল। যেন অলক্ষ্যে বসে তুলি বোলাচ্ছেন ‘দ্যা ভিঞ্চি’ নিজেই। অপমানিত, ভূলুণ্ঠিত ইংরেজরা। এই জয় ফকল্যান্ডের যোদ্ধাদের। এই জয় উপনিবেশবাদ বিরোধী প্রতিটা মানুষের।

খবর এলো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। ভারতবর্ষে এটা কোনো নতুন খবর নয়। এর আগেও বহুবার, বহুভাবে কয়েক লাখ উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে, কয়েক লাখ ভবিষ্যত ডাক্তারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে দেশের সরকার। কিন্তু এখানেও একটা বিরাট দ্বন্দ্ব! কোনটা বেশি লজ্জাজনক? কয়েক লাখ ছেলেমেয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নাকি স্বাধীনতার প্রায় আশি বছর অতিক্রান্ত হওয়ার মুখে দেশে একটা সীমিত সংখ্যার ছেলে মেয়েরাই কেবল উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারছে, সেটা! শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে সরকার, ঠিক যেমন নারী নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে এঁটে থাকে। প্রশ্ন করলে, নিজের অধিকার রক্ষার কথা বললে মহামান্য আদালত তরুণ সমাজকে আরশোলা-র সাথে তুলনা করছে। একটা দিন, ২৪টা ঘন্টা কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যান বলছে এক দিনে ছাত্র আত্মহত্যা গড়ে ৪০টা। শিক্ষার পরিকাঠামো, দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত সময়ে পাহাড় প্রমাণ সিলেবাস শেষ করার চাপ, অনিশ্চিত ভবিষ্যত দেশের ছাত্রসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে আত্মহত্যার দিকে। ভেবে দেখবেন একবার, এগুলো আত্মহত্যা নাকি প্রাতিষ্ঠানিক খুন! আমার দেশের মানচিত্র ভেসে যাচ্ছে ছাত্র সমাজের রক্তে, সেই রক্তে হাত, মুখ, পা ধুয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন দেশের শিক্ষামন্ত্রী। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠছে রাজধানী। আরশোলা-র দল কিলবিল করছে যন্তর মন্তরে। ভয় খুব সংক্রামক কিন্তু একবার ভেঙে গেলে বেপরোয়া স্পর্ধা কোনো বাঁধ মানতে চায়না। প্রবল তুফানের সময় সমুদ্র যেভাবে আঁচড়ে পরে কিনারে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় তার পথে চলে আসা সবকিছু, সেভাবেই দেশের তারুণ্য বেপরোয়া স্পর্ধার সাথে দখল নিচ্ছে রাজধানীর। এ এক অন্য ভারতবর্ষ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ ইত্যাদি যাদের ঐক্যকে ভয় পায় শাসক তারাই এক হয়ে বিনিদ্র রাত্রিযাপন করছে দিল্লীতে। লড়াইয়ের মাঠ নিজের নেতা নিজেই ঠিক করে নেয়, ভারতবর্ষের অপর নাম আজ তাই সোনাম ওয়াংচুক।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক প্রতিশোধের পর পেরিয়েছে অনেকটা সময়। সেদিনের সেই ঝাঁকড়া চুলের তরুণ আজ প্রয়াত। এরই মাঝে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করেছে মোট ৪০ বার কিন্তু সেদিনের সেই তরুণের প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা গোটা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষকে উদ্বেলিত করেছে। তার দেখানো স্বপ্নেও স্পর্ধায় বুঁদ হয়ে তার দেশের মানুষ রোজারিওতে গড়ে তুলেছে তার নামে একটা গির্জা! গোটা দেশের মানুষ আরাধনা করে তার। এই রোজারিওতেই বেড়ে উঠছিল আরেক আশ্চর্য। বেটে, ছিপছিপে গড়ন কিন্তু সেই মায়াবী বাঁ পায়ের জাদু! শিশুকালেই নিজের দেশ পেরিয়ে পৃথিবীর অন্যতম সফল ফুটবল এ্যাকাডেমিতে ‘লা মাসিয়া’ জায়গা করে নিল সেই বিস্ময়বালক। দারিদ্র, অনাহার, শারীরিক গঠনের সমস্যাকে বাঁ পায়ে ড্রিবল করে এগিয়ে যেতে থাকলো নীল সাদা জার্সির সেই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। তৃতীয় বিশ্ব এক অদ্ভূত জায়গা। এখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। খুঁজলে প্রতিটা এলাকায়, পাড়ায়, মহল্লায় এরকম সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু এর কারণ খুঁজতে গেলে ডাক্তারি বিজ্ঞানের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আর্থসামাজিক বিজ্ঞান এবং উপনিবেশবাদ ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। আর্থসামাজিক অবস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, আত্মসম্মানের লড়াইয়ে আমার ভারতবর্ষ আর আর্জেন্টিনা খুব আলাদা নয়। তাই ভেঙে পড়ার রাতে যখন দেখি সেদিনের সেই বিস্ময়বালক ফুটবলকে শিল্পের শিখরে তুলে দিচ্ছে, একের পর এক চোখ ধাঁধানো ড্রিবল করে বল জড়িয়ে দিচ্ছে বিপক্ষের জালে, গতি ও শারীরিক ক্ষিপ্রতাকে নাস্তানাবুদ করে ঘটাচ্ছে এমন সব কান্ড যার বোধহয় কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হবেনা তখন মনে হয় আমি, তৃতীয় বিশ্বের আরেক প্রান্তে বসে থাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে জেরবার এক দেশের নাগরিক একটু একটু করে জিতে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে আমারই সব লড়াইয়ের প্রতিনিধি হয়ে মাঠে ঝড় তুলে দিচ্ছে এই জাদুকর।

এই জিতে যাওয়া আমার একার নয়। দেশের পূর্ব প্রান্তের মণিপুর থেকে পশ্চিমের গোধরা, উত্তরের গৃহযুদ্ধে জেরবার কাশ্মীর থেকে দক্ষিণের দুর্গম পথ বেয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক, সবাই নিজেকে খুঁজে পায় যখন ১০ নং জার্সির উত্তরাধিকার কাঁধে নিয়ে সেদিনের বিস্ময়বালকটা বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে যায় আর হয়ে ওঠে পৃথিবীর সব বঞ্চিত মানুষদের একজন। ১৪-র স্বপ্নভঙ্গ, ১৮-র বিভীষিকা পেরিয়ে সেই বিস্ময়বালক তার দেশ এবং ফুটবল মাঠে গোটা তৃতীয় বিশ্বের সবথেকে নির্ভরযোগ্য নাম। নিরন্তর রক্তক্ষরণের রাত পেরিয়ে সেই মহাকাব্যিক মুহূর্তে যখন রোজারিওর ছেলেটা ছুঁয়ে ফেলে চার দশক আগের ঝাঁকড়া চুলের নায়ককে তখন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে যুদ্ধবিদ্ধস্ত আফগানিস্তানের এক শিশু নীল সাদা প্লাস্টিক কেটে জার্সি বানায়, পিছনে লেখে ‘১০’ আর স্বপ্ন বোনে স্বাধীনতার, স্বপ্ন বোনে মানচিত্রের বেড়া টপকে গোটা পৃথিবীকে বল পায়ে ভালোবাসতে শেখানোর। এই আবেগের কি নাম হতে পারে? যে ছেলেটা স্কুলছুট হলো লকডাউনে, সেও তো সেই নীল সাদা ১০ নং জার্সি গায়ে প্যাডেল করে আইসক্রিম বেঁচতে বেরোয়। তার জীবনে স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাষ্ট্র, তাকে স্কুলে ফেরানোর দায় কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলেছে সরকার তবুও সে স্বপ্ন বুনছে প্রতিনিয়ত কারন নব্বই মিনিট তার সব অসুখের আন্টিডোট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোজারিও-র নায়ক। বদলে দিচ্ছে সব হিসেব। শুধু একটা দল নয়, দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দুর্নীতিগ্রস্তদের হাতে, মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছে না স্টেডিয়ামের স্টাফেরা। ভাঁড়ার শূন্য! সেখানেও পরিত্রাতা সেই ১০ নং জার্সির উত্তরাধিকারী, নিরবে দিনের পর দিন নিজের থেকে বেতন দিয়ে চালিয়েছে কয়েকশো পেট।

তৃতীয় বিশ্বের কাছে আত্মসম্মান এবং লড়াইয়ের জেদ ছাড়া কিছুই বিশেষ নেই। আমাদের যাবতীয় অগ্রগতি এই দুটোকে সামনে রেখেই। আমরা জানি দাঁতে দাঁত চেপে ৯০ মিনিটের খেলাকে আর্থসামাজিক যুদ্ধে পরিনত করা কাকে বলে! আমরা জানি আমাদের কাছে ফকল্যান্ড আর ফিলিস্তিন আলাদা নয়। শাসকের চরিত্র বদলানোই নিয়ম কিন্তু আমরা, যাদের ৯০ ভাগ থেকেও ওই ১০ ভাগের হাতে বঞ্চিত! আমরা জানি আমরা স্বাভাবিক নিয়মেই আধিপত্যের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। সরকার তাবেদার হলেও সংগ্রামী মানুষ নিজেদের চরিত্রে অনড় থাকে তাই নীল-সাদা জার্সি স্পর্ধা জোগায় পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাথে হাত না মিলিয়ে নেমে যাওয়ার! তাই ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার দশক পর আবার ইংরেজ বধের পরেই মাঠে নেমে আসে হাতে লেখা ব্যানার যা খুঁচিয়ে দেয় চার দশক আগের সেই ক্ষত “Las Malvinas, son Argentinas” অর্থাৎ ফকল্যান্ডের জনগণ আর্জেন্টিনার জনগণ। কোনো আধিপত্যবাদ এই সত্যিকে মুছে দিতে পারবে না। যে পৃথিবীতে খিদাকে অবজ্ঞা করে, পেটে গামছা বেঁধে মানুষ বেছে নেয় ফুটবল। সেই পৃথিবীতে নেমে আসে রাষ্ট্রের বোমারু বিমান, সব লড়াইয়ের রাস্তা এসে মিশে যায় ওই ১০নং জার্সির স্পর্ধায়। নব্বই মিনিটের হার-জিত পেরিয়ে জীবন সংগ্রামের পাঠ শিখিয়ে সেই বিস্ময়বালক আজ তুলে রাখছেন তার বুটজোড়া। এই সময়কালের স্বর্ণযুগের উত্থাপন করে তিনি শিখিয়ে গেলেন লড়াইয়ের পাঠ। যে লড়াই অবরুদ্ধ করছে আমাদের দেশের রাজধানীকে।

আজীবন ঋণী থাকলাম, কিচ্ছু না পাওয়ার জীবনে ওই নীল সাদা জার্সি পেয়েছিলাম, তাই মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ঝাঁপ দিতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *