মূল নিবাসী, বহিরাগত বনাম জিন তত্ত্ব

বর্তমান পরিস্থিতিতে বহিরাগত শব্দটা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান হয়ে পূর্ববাংলা থেকে ভারতে আসা দেশান্তরিত মানুষের নাগরিকত্বের সমস্যা, দেশের সরকার দেশের আইন প্রতিনিয়ত আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা এদেশের কেউ নই, আমরা এদেশের এক ভারী বোঝা, আমরা নাকি বিদেশি বেনাগরিক। রাষ্ট্রের এই মনোভাবকে অন্যায় বলে মনে করি, দেশের নীতি নিয়ম আইন পরিবর্তনের দাবি জানাই। দেশভাগের ইতিহাস, সরকার ও দেশনায়কের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সবথেকে বড় উপলব্ধি আমার এটাই যে দেশভাগ হওয়ার কারণেই আমরা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। দেশভাগ যেহেতু আমরা করিনি তাই দেশত্যাগী তকমা গ্রহণে আমরা দায়বদ্ধ নই। ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার মধ্যে সমাজের একাধিক স্তরে বিতর্ক করতে গিয়ে আমার মনের মধ্যে যে প্রশ্ন সর্বাধিক বার জেগেছে যে বহিরাগত কারা আর ভারতীয়ই বা কারা? এই প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে যেটা বুঝতে পারলাম যে সৃষ্টির সেই আদিমতম যুগ থেকে মানুষের স্থানান্তরন, দুঃসাহসিক অভিযান ও মহাপরিযানের ইতিহাস পৃথিবীতে সভ্যতা বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজ থেকে মাত্র ২৭০০ বছর আগে অনার্য বলে কথিত নাগবংশ মগধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তার আগে এই অঞ্চলে কোনো দেশের অস্তিত্ব ছিল না। তাই বিদেশি বলে কোনো শব্দ তখনো সৃষ্টি হয়নি।


জিন হলো মানুষের বংশগতির মৌলিক এবং কার্যকরী একক। তাই জিন নিয়ে চর্চার মাধ্যমে পূর্বেকার মানুষের সম্পর্ক, তাদের পরিযান এবং যে সমস্ত প্রাচীন ফসিল পাওয়া গেছে তার ডিএনএ পরীক্ষা করে সেই অঞ্চলের মানুষের বসবাসের সময়কাল নির্ধারণ করাও সম্ভব। জিনতত্ত্ব প্রমাণ করে যে মানবপ্রজাতি সৃষ্টি হয় পূর্ব আফ্রিকার এথিওপিয়ায়, আজ থেকে আনুমানিক ২০০ লক্ষ বছর আগে। বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের আধুনিক মানুষ সৃষ্টি হয় প্রায় ৩ লক্ষ্য বছর আগে।(Homo sapiens)। Homo erectus রা আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০ লক্ষ বছর অবধি এরা আফ্রিকার বাইরে টিকে ছিলো আর প্রায় পঞ্চাশ হাজার বছর আগে এরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যে বাকি অংশ আফ্রিকায় থেকে গেছিলো, Homo heidelbergensis, যা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আজ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ বছর আগে। প্রায় ৩ লক্ষ বছর আগে নিয়ান্ডারথালরা উত্তর পশ্চিম দিকে এবং ডেনিসোভান রা পুব দিকে চলে আসে। ধীরে ধীরে যথেষ্ট ব্যাবধান সত্বেও নিয়ান্ডারথালের মায়ের গর্ভে ডেনিসোভান ঔরসজাত কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। যে অংশটি আফ্রিকায় থেকে গিয়েছিল তার মধ্যে থেকেই প্রায় ৩ লক্ষ বছর আগে Homo sapiens এর সৃষ্টি হয়। তারা কমবেশি ৭০ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে আসে তুষার যুগের সময়, কেনিয়া, ইথিয়োপিয়া, ইয়েমেন হয়ে ইরানে চলে আসে; তারপর সিন্ধুনদ পেরিয়ে আসে ভারতে। এই পরিযান চলে প্রায় ৫০০০ বছর ধরে। এটি প্রমাণিত সত্য যে Homo Sapiens দের সঙ্গে নিয়ান্ডারথালদের প্রজনন সম্ভব হয়েছিলো। সেই কারণে আমাদের মধ্যে এক চতুর্থাংশ হলেও নিয়ান্ডারথালদের জিন পাওয়া যায়। DNA গবেষণা নিশ্চিত করেছে , ভারতে সমস্ত বর্ণ – ধর্ম এবং ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ মিশ্রিত মানুষ। ব্রাহ্মণ সমাজের মধ্যেকার বিভিন্ন মানুষজনের মধ্যেও বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের রক্ত বইছে। এ দেশের অধিকাংশ ব্রাহ্মণদের মাতৃক্রম এবং অন্যান্য ভারতীয় দের মাতৃক্রম একই। বরং পিতার দিক দিয়ে মূল এক নয়। পৃথিবীতে মোট ৭ টি Y ক্রোমোজোম হ্যাপ্লো গ্রুপের মানুষ আছে। দেখা যাচ্ছে ব্রাহ্মণদের মধ্যেও ৭ টি হ্যাপ্লো গ্রুপের অস্তিত্ব বর্তমান। অন্যদের মতই তারাও কয়েকটি ভিন্ন মূল থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণ – অব্রাহ্মণ সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে তাই “পবিত্র রক্ত” বলে যেটি দাবী করা হয় সেটি সম্পূর্ণ বেঠিক এবং ভ্রান্ত ধারণা। আফ্রিকার বাইরে যারা ছড়িয়ে পড়ে সেই সব মায়েদের মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA ছিল L3 হ্যাপ্লো গ্রুপের। এবং এই L3 হ্যাপ্লো গ্রুপ থেকেই উদ্ভুত হয়েছে M,N এবং R হ্যাপ্লো গ্রুপ। দক্ষিণ এশিয়াতেই M,N এবং R হ্যাপ্লো গ্রুপের অস্তিত্ব দেখা যায়, ইউরোপে আছে শুধুমাত্র N এবং R হ্যাপ্লো গ্রুপ। L1 এবং L2 রা আফ্রিকা ছাড়েনি। ভারতের অতি প্রাচীন অধিবাসী বলতে বোঝায় সিন্ধু নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষজন। তারা পরে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সত্তর হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে ৬৫ হাজার বছর আগে ভারতে পৌঁছে যায়। এদেরই এক অংশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছে যায় এবং এরাই অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন মানুষ। ফসিলের DNA পরীক্ষা করে জানা যায় ১১-১২ হাজার বছর আগে ইরান থেকে এক বড় জনগোষ্ঠী সিন্ধুনদের এলাকায় চলে আসে। মূলত প্রাচীন ইরান সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী ও সিন্ধু নদ এলাকার অতিপ্রাচীন ভারতীয়রা মিশে যায় এবং তারা হরপ্পা – মহেঞ্জোদারো সভ্যতা গড়ে তোলে। গবেষক দের এই সিদ্ধান্তের কারণ হলো ওই সময়কালের ফসিলের মধ্যে ৮২-৪৫% ফসিল প্রাচীন ইরানীদের এবং ৫০-১১% সিন্ধুনদ এলাকার প্রাচীন ভারতীয়দের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। (প্রাগিতিহাস : মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়)


এই মিশ্র জনগোষ্ঠীকে বলা হতো হরপ্পান জনগোষ্ঠী। খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ থেকে ১০০০ অব্দের মধ্যে অর্থাৎ ৯০০ বছর ধরে মধ্য এশিয়ার স্টেপ অঞ্চল থেকে পশুপালক জাতির মানুষরা আসা শুরু করে এবং ধীরে ধীরে হরপ্পান জনগোষ্ঠীর সাথে মিলিত হয়। মনে করা হয় নতুন ভাষা, গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি কিছু ধর্মীয় জীবনচর্চা এবং বৈদিক সংস্কৃতির আগমন ঘটায় এরাই। (প্রাগিতিহাস : মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, পৃষ্ঠা : ১৩০) যেমন শবদাহ, অগ্নি সংস্কার এসব প্রথা এরাই নিয়ে আসে। ঐতিহাসিক রামশরণ শর্মার মতে, স্টেপভূমি থেকে চলে আসা একদম শুরুর দিকের মানুষদের দুর্বল অংশ কে *দাস” বলা হতো। আর যারা হরপ্পার মূল অধিবাসী তাদের বলা হয়েছে “দস্যু”। ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রাচীন সিন্ধুনদ অঞ্চলের মানুষ, ইরান অঞ্চলের মানুষ এবং ইউরেশিয়া অঞ্চলের যে পশুপালক গোষ্ঠী একসাথে যাদের বলা হতো “প্রাচীন উত্তর ভারতের মিশ্র জাতি”। আরেক গোষ্ঠী, ৬৫ হাজার বছর আগে যারা মধ্য এবং দক্ষিণ অঞ্চলে চলে এসেছিল তাদের মিলন হয় ৬-৭ হাজার বছর আগে ভারতের উত্তর – পূর্ব অঞ্চল থেকে আসা মানুষের সাথে এবং হরপ্পা সভ্যতার পতন শুরু হলে, সেই জনগোষ্ঠীর মানুষরাও দক্ষিণ ও মধ্য অঞ্চলে নেমে আসতে থাকে এবং মিশ্রিত হতে থাকে। প্রাচীন দক্ষিণ ভারতের মিশ্র জাতি এভাবেই তৈরি হয়। উত্তর ভারতের মিশ্র জাতির সাথে দক্ষিণ ভারতের মিশ্র জাতিরও মিশ্রণ অব্যাহত আছে। ভারতের বিভিন্ন অংশের মানুষের মধ্যে সামাজিক আদান প্রদান, বিয়ে এগুলো বন্ধ হয়েছে আজ থেকে ১৬০০ বছর আগে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়। তার আগে পর্যন্ত এই মিশ্রণ অব্যাহত ছিল। গ্রেট আন্দামানিজ, জারোয়া, সেন্ট্রিনেল এরাই বিশুদ্ধ মানুষ বলা যায়, যারা ৬৫ হাজার বছর আগে আফ্রিকা থেকে ভারতে আসে। মানুষের মধ্যে মিলন এবং মিশ্রণ সাবলীল গতিতেই চলছিল। জাত ব্যবস্থার প্রবর্তনের কারণেই এই মিলন অনেকটা সীমিত হয়ে গেছে। মিলন এবং মিশ্রণ মানুষের উৎকর্ষতার শর্ত এবং সভ্যতার বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক শ্রেণীর প্রগতিশীলতা বিরোধী মানুষ সেটা বুঝেও বুঝতে চান না কারণ তারা জাত ব্যবস্থার সুবিধাভোগী শ্রেণী। পবিত্র রক্তের উত্তরাধিকারের দাবী যারা করে তার কারণ সন্ধানে এটাই আমার উপলব্ধি যে সামাজিক কোনো ব্যবস্থা হাওয়ার ওপর টিকে থাকে না , তার একটা আধার লাগে সেটা ভালো হোক বা মন্দ। স্বাভাবিকভাবেই, কোনো সামাজিক ব্যবস্থার যারা সুবিধাভোগী তারাই এই ব্যবস্থা কে টিকিয়ে রাখতে চায়। ভারতবর্ষের সেই গোষ্ঠী হল ব্রাহ্মণ সমাজ। ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধিতা করতে হবে কারণ তারা বর্ণাশ্রম প্রথার ধারক এবং বাহক। ড: আম্বেদকরের সেই কথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে “বর্ণ বিভাজন হল একই অবয়বের ভারতীয় জনগণকে কৃত্রিম উপায়ে বিভক্ত করা। এ হল বর্ণ ও ধর্মের অজুহাত দিয়ে মানুষের মধ্যে সামাজিক বিভাজন।” কিন্তু এই বর্ণ বিভাজনের সময়কাল নিয়ে সবারই প্রশ্ন আছে। ঋগবেদের সময়কালেও কোনরকম বর্ণ বিভাজনের উল্লেখ নেই। গোটা ভারতের মাতৃক্রমের হিসেবে সবাই প্রাচীন ভারতীয় সে ভাষাগত হোক, চামড়ার রং মিলিয়ে হোক অথবা ধর্ম বা বর্ণগোষ্ঠী; যাই হোক কাউকে বিদেশী বা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না, করলে সেটা হবে মূর্খামি। ব্রাহ্মণ সমাজ বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী-তাও বলা যায় না। এমনকি যে প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তাভাবনা থেকে বলা হয় যে ব্রাহ্মণরা বিদেশী সেই প্রচারের অর্থ বর্ণাশ্রম প্রথার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মুখটাকে ভোঁতা করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। ডঃ আম্বেদকর লিখছেন যে- জাতবিভাজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্তের পবিত্রতাকে নিরাপদে রাখা। কিন্তু এটাই সত্য, পৃথিবীর সর্বাংশে জাতিকূলের সংমিশ্রণ ঘটেছে। বিশেষভাবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য। জাতভেদ প্রথা কুলের বিভাজন করেনা। জাতভেদ প্রথা হলো একই জাত, কুলের মানুষদের মধ্যে সামাজিক বিভাজন। পাঞ্জাবের ব্রাহ্মণ ও চামাররা একই মূল থেকে উদ্ভুত এবং মাদ্রাজের ব্রাহ্মণ ও পরিহারাও তাই একই মূলের। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম দিকচিহ্ন হল ৬৪২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিহারে মগধ রাজত্বের উদ্ভব, প্রতিষ্ঠাতা শিশুনাগ ছিলেন অনার্য নাগ জাতিভুক্ত। আর্যরা এদের জয় করতে না পেরে শান্তিস্থাপন করে সমান মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এরাই পৃথিবীর ইতিহাসে ভারতকে মহান করে তোলে। নাগবংশ ৪১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিল। পরবর্তীকালে গৌতম বুদ্ধ বর্ণাশ্রম প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। জাত প্রথাকে ঘিরে বর্তমানের মত গোঁড়ামি তখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি। কিন্তু জাতপ্রথাকে ঘিরে অসাম্য তখনো প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। আমরা দেখতে পাই গৌতম বুদ্ধের জন্মের পূর্বেও জাতিগত সংমিশ্রণ ঘটেছে। কোনো বর্ণগোষ্ঠীই তথাকথিত বিশুদ্ধ রক্ত বহন করছে না। গৌতম বুদ্ধের সময়কালে জাত বর্ণ ব্যবস্থা সেরকম ভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। এমনকি গৌতম বুদ্ধের আগে মহাবীর জন্মগ্রহন করেন এবং তিনি জৈন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। জৈনরা মারাত্নক ভাবে বেদ এবং বর্ণাশ্রম প্রথার বিরোধীতা করেন। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি, বৈদিক যুগের সমাপ্তিকাল হলে জৈন যুগ এবং তার পরবর্তীকালে বৌদ্ধ যুগ শুরু হয়। ইতিহাস ঘাঁটলে বোঝা যায়, শুরুতে বৈদিক যুগে বর্ণ এবং বর্ণবিভাগ শুরু হলেও জাতবিভাগ তখনও শুরু হয়নি। ডঃ আম্বেদকরের মতে, বর্ণ এবং জাত এক নয়। মর্যাদা এবং পেশা কে জন্মভিত্তিক করাই হলো বর্ণব্যবস্থাকে জাতব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা যেটা হয় ব্রাহ্মণ্যবাদী যুগে।


বর্ণ ব্যবস্থার সময় কালে মনু এবং সপ্তর্ষিরা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের বর্ণ নির্ধারণ করতো। সে ক্ষেত্রে তারা ছিল নির্বাচন কমিটির মতো, এবং এই এলোমেলো ব্যবস্থার পরিবর্তে গুরুকূল ব্যবস্থা চালু হয়। গুরুকে বলা হতো আচার্য। বারো বছরের শিক্ষার শেষে আচার্যই বর্ণ নির্ধারণ করতেন তখনও বর্ণ জন্মগত নির্ধারিত ছিল না। আরো পরে আচার্যের পরিবর্তে পিতাকে উপনয়ন করাবার অধিকার দেওয়া হয় এই ব্যবস্থাকে বর্ণ জন্মাধিন বলা হয় অর্থাৎ জাত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়।পরবর্তীকালে সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ব্রাহ্মণদের বিশেষ সুবিধা জাগযজ্ঞ, পশু বলি ইত্যাদি বন্ধ করেন এবং তাতে ব্রাহ্মণ সমাজ সমস্যায় পড়েন এবং তারই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পুষ্যমিত্র শুঙ্গ মগধ সাম্রাজ্য দখল করে এবং ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন সেই জন্য ব্রাহ্মণদের বিশেষ সুবিধার জন্যে লেখা হয় মনুসংহিতা। পরবর্তীকালে এই সাম্রাজ্য বেশি দিন টেকেনি। পরবর্তীকালে গুপ্ত বংশের সময় কালে কঠোর ব্রাহ্মণ্যবাদী রেয়াজের জন্যে সামাজিক আদান প্রদান বিবাহ এগুলো বন্ধ করা হয়। পরবর্তীকালে পাল রাজত্বে বর্ণাশ্রম নিয়ে এতো কড়াকড়ি ছিল না। মানুষের মধ্যে রক্তের মিশ্রণ অব্যহত ছিল।


মূলনিবাসী তত্ত্বর ধারক বাহক রা বহিরাগত বলছেন কাদের? বিশেষ করে যদি ইরান আফগানিস্থান, তুর্কমেনিস্তান,তাজাকিস্থান ইত্যাদি যদি মগধ সাম্রাজ্যের অংশ হয়। খ্রিস্ট জন্মের সময় কালে এবং তারপরেও ভারতের বিভিন্ন ধারার মানুষের সংমিশ্রণ সভ্যতার অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা একই মায়ের সন্তান হলেও আন্দামানের আদিবাসীরা যেই প্রাচীন যুগে পরে আছে শুধু সংমিশ্রণ বা মেলামেশা হয়নি বলে। সেই জন্যে সংমিশ্রণ কে নিন্দা করা এবং পবিত্র রক্তের দাবি করাটা প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা ভাবনার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *