ভবিষ্যতের পরিসমাপ্তি অতীতে হয় নাকি?

ইউরোপজুড়ে ‘উইন্ড অফ চেঞ্জ’। তথাকথিত অকাল বসন্ত। নব্বইয়ের দশক। স্বপ্নের, না কি স্বপ্নভঙ্গের? অদ্ভুত এক দোলাচল। মার্গারেট থ্যাচার বলছেন, ‘দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ’। সংক্ষেপে ‘টিনা’। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-তে মাতোয়ারা প্রজন্মের কাছে তো ‘টিনা’-ই প্রথম প্রেম। উনি একা নন। রামের দোসর সুগ্রীবও আছেন। ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা। বললেন, ‘দ্য এন্ড অফ হিস্ট্রি অ্যান্ড দ্য লাস্ট ম্যান’। অর্থাৎ, ইতিহাসের সমাপ্তি। অথচ সেই সমাপ্তির মধ্যেই নাকি এক নতুন ইতিহাসের অবশ্যম্ভাবী সূচনা! পূর্ব ইউরোপের ভিনাইলের দোকানগুলোয় তখন সাজো সাজো রব। রাতারাতি সাইনবোর্ড পাল্টানোর হিড়িক পড়েছে যে! কমিউনিস্ট পার্টি অতীত। এবার সোশ্যালিস্ট পার্টি। অথবা অন্য কিছু, যা আরও সহস্র ‘স্বপ্নসঞ্চারী’র কল্পনায় ডানা মেলবে। ডানা মেলছে লিবারালাইজেশন, প্রাইভেটাইজেশন আর গ্লোবালাইজেশন। ‘মুক্তি’র বাংলা প্রতিশব্দ হয়ে জন্ম নিয়েছে ‘বিশ্বায়ন’। সোভিয়েত ইউনিয়ন শেষ। যুগোস্লাভিয়া শেষ। মোদ্দা কথা, সমাজতন্ত্র শেষ। অতঃকিম?

তিন দশকের উদারবাদ। শুরুর কয়েক বছরের স্বপ্নদৌড়ে আত্মহারা উদারবাদ। ধাক্কা খেতে পারে নাকি? পারে। ধাক্কা খেল। বৈষম্যের পারদ চড়াতে চড়াতে ২০০৮-এ এসে মুখ থুবড়ে পড়ল। মর্টগেজের ধাক্কা। রিয়েল এস্টেটের অভাবনীয় ভরাডুবি। ভয়াবহ সংকট। নতুন ইতিহাসে এহেন সংকট সম্ভব নাকি? শেষবার এমনটা ঘটেছিল তো তিরিশের দশকের ইউরোপে। এ কেমন বিকল্পহীন বন্দোবস্ত? ‘করলো দুনিয়া মুঠ্ঠি মে’-র সম্মোহন একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল। সত্যিই কি কোনও বিকল্প নেই? থ্যাচার-ফুকুয়ামারা ততদিনে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কিন্তু তাতে পাবলিকের কী? ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। কোটিপতিরা অজস্রপতি হয়েছে, আর পাবলিকের জুটেছে লবডঙ্কা। ক্ষোভের পারদ বাঁধ মানবে কেন? মানুষ ক্ষোভ উগরে দিতে চায়। সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কোন পথে উগরাবে সেই ক্ষোভ? পুরোনো ইতিহাসের বিকল্পগুলোর তো ততদিনে কফিন নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে। নতুন পথ চাই। নতুন পথ এল। ঠিক নতুন নয়। নতুন পথের বেশে হাজির হলো পুরাতন। ফিরল ফ্যাসিবাদ। হিটলার-মুসোলিনি-তোজোর ফ্যাসিবাদ। নতুন রণসাজে পুরাতনের আস্ফালন। ছদ্মবেশে তার স্বরূপ চেনা দায়! অতএব? দুনিয়ার দখল নিল মানবসভ্যতার হীনতম শক্তি। জিভ কাটল ‘টিনা’-র অভিলাষ।

ওয়াল স্ট্রিটের অসন্তোষ কি শুধুই ওয়াল স্ট্রিটে আটকে থাকতে পারে? ব্যবস্থার নাম তো বিশ্বায়ন। ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। জন্ম নিল দুনিয়াজোড়া নজিরবিহীন সংকটকাল। মানুষের ক্ষোভের দিশাহারা দশা। ফায়দা লুটল ট্রাম্প-মোদি-বলসোনারোরা। কৃত্রিম শত্রুর গালগল্প শুনিয়ে জনক্ষোভকে তারা চালিত করল নিপীড়িত মানুষের দিকেই। হিংস্র, অমানবিক সন্ত্রাসবাদী রাজ শুরু হলো দিকে দিকে। হতো না এমনটা, যদি নব্বইয়ের শুরুতে সাইনবোর্ড পাল্টানোর হিড়িক না দেখা দিত।

কত কিছুরই না সাক্ষী হতে হলো নতুন ইতিহাসকে! বাবরি ভাঙল। চূর্ণবিচূর্ণ হলো জগৎজোড়া উদ্বাস্তুর অবশিষ্ট আশা। ধ্বংস হলো সংখ্যালঘুদের স্বপ্ন। প্রায় নিশ্চিহ্ন হলো আশাহত মানুষের সুখের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন। মনে হলো, সত্যিই বোধ হয় এক নতুন দুনিয়ায় এসে পড়েছি আমরা। এলন-জুকার-আদানির দুনিয়া। যেখানে আমরা নই, শেয়ার কথা বলে। মনে হতে লাগল, থ্যাচার-ফুকুয়ামা যেন সত্যিই ভুল কিছু বলেননি।

কিন্তু মনভোলানো রূপকথার গল্প কতক্ষণ খিদের জ্বালায় কান্নায় ফেটে পড়া শিশুকে চুপ করিয়ে রাখে? খিদে তো মোচড় দিয়ে অস্তিত্ব জানান দেবেই। বৈষম্য বিলবোর্ডের পাঁচিল তুলে কিছুদিন ঢেকে রাখা যায়। গগনচুম্বী বৈষম্য ঢাকার মতো বিলবোর্ড কোথায়? যে ক্ষোভকে পুঁজি করে ট্রাম্প-মোদি-বলসোনারোরা নিজেদের স্বপ্নের উড়ান সাজিয়েছিল, সেই ক্ষোভই যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে সেই উড়ানে বাধা পড়বে বৈকি! সালটা ২০১৮। কে জানে কেন, ফুকুয়ামা বলে ফেললেন—মার্কসের সব কথা নাকি ভুল নয়, বরং অনেক কিছুই ঠিক। কীভাবে যেন শ্রীলঙ্কায় ঘটে গেল ছন্দপতন। মার্কসের ভাবশিষ্য বনে গেলেন দেশের প্রেসিডেন্ট। মার্কস কে? আরে, ওই যে ‘লাস্ট ম্যান’, ফুকুয়ামা যার অন্ত ঘোষণা করেছিলেন। তাহলে? ইতিহাস যে শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে জানলাম। হয়নি?

গত কয়েক মাসে পৃথিবীজুড়ে অনেক কিছু ঘটে গেছে। সার্বিয়ায় ট্রাম্পের বন্ধু গো-হারা হেরেছে। ব্রাজিলে আবার জিতেছেন লুলা—যিনি আমাজনকে রক্ষা করতে চান। বুলগেরিয়ায় জিতেছে সোশ্যালিস্ট পার্টি। নিউ ইয়র্ক এবং বার্লিনে মেয়র হয়েছেন ‘বামপন্থীরা’। বামপন্থী মানে? আরে, ওই যে যাদের কফিন নির্মাণ হয়ে গিয়েছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই! সম্প্রতি আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়েছে। ট্রাম্প শুধু হারেনি, জিতেছে তার ঘোষিত শত্রুরাও। মুসলিমরা, কৃষ্ণাঙ্গরা, সমকামীরা এবং ফিলিস্তিন-পন্থীরা। ফিলিস্তিন-পন্থী অর্থ কী? সে অন্যদিন আলোচনা করা যাবে। আপাতত জানা দরকার, ট্রাম্প কে! ট্রাম্প সেই ব্যক্তি, যিনি থ্যাচার-ফুকুয়ামার স্বপ্নসঞ্চারী ঘোষণার মর্মে লুকিয়ে থাকা আর্তনাদের জীবন্ত ট্রাম্পকার্ড।

নয়া উদারবাদ সংকট মোচনে ব্যর্থ। উগ্র দক্ষিণপন্থা আসলে বিশ্বায়নেরই রাজনৈতিক রূপ। মানুষের ক্ষোভকে কৃত্রিম শত্রুর দিকে চালিত করে সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা লোটা গেলেও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান হয়নি। তাই নির্বাচনী প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি তার কপালে জুটছে বীভৎস সব গণ-আন্দোলন। কখনও গ্রিসের গণজাগরণ, কখনও ইতালির ঐতিহাসিক ধর্মঘট, কখনও ফ্রান্সের সাড়া জাগানো অভ্যুত্থান, তো কখনও ভারতের রাজনৈতিক গণপ্রতিরোধ। ভারতের গণপ্রতিরোধ শুনে ভেবলে যাবেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি, এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন, ছত্তরপুরের চিতা সত্যাগ্রহ অথবা অরুণাচলের আন্দোলন—কোনোটাই মামুলি রাজনৈতিক প্রত্যাঘাত নয়; বরং গণপ্রতিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

বিস্তারিত আলোচনা পরে কখনও হবে। আপাতত ভাবার বিষয়, এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কী দারুণ বাস্তব। কোরিয়া, পর্তুগাল, স্পেন, আলবেনিয়া—এমনকি ভারতও পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সেই পরিবর্তনের চেহারা কেমন, তা নিয়ে জ্ঞানী মহলে আবার বেজায় তরজা চলছে। বাম-জনবাদী, না বামপন্থী, নাকি শুধুই প্রগতিবাদী? সেই তরজা কি খুব জরুরি? বোধ হয় নয়। জরুরি হলো, এই পরিবর্তনের অক্ষে রয়েছে দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারি, কর্মসংস্থান, আবাসনের মতো বিষয়।

বিংশ শতকের শুরুর দিকে মার্কসের তত্ত্বে ভর করে পৃথিবীকে নতুন এক পথের দিশা দেখিয়েছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও তাঁর দলবল। সেই নির্দেশিত পথেই পা বাড়িয়েছিল বিশ্বজুড়ে জনকুলের একাংশ। এক বড় অংশ। তারপর তো নব্বই এসেছিল। লেনিনের ইতিহাস চাপা পড়েছিল। কিন্তু আজ আবার কেমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছি যেন আমরা। লেনিনের পদার্পণের ভিত্তি ছিল তো—শান্তি, জমি, রুটি। অনুপ্রবেশকারী, অপর কিংবা জাতির পবিত্রতা নয়। দীর্ঘ তিন দশক পর আবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া কথাগুলো। যেগুলো লেনিন বলতেন। তাঁর দলবল বলত। আমরা কি তবে অতীতের দিকে ধাওয়া করছি? না, তা মনে হয় না। আসলে ইতিহাসের পরিসমাপ্তির ঘোষণা ছিল একটা ভাঁওতা। না, না, আমি বলছি না। ইতিহাসই বলছে। ফুকুয়ামাও জিভ কাটতে শুরু করেছেন। দুনিয়ার তামাম ফুকুয়ামাপন্থীরাও কেমন যেন উল্টো সুরে গাইছেন। রাজনীতির সামনের সারিতে উঠে আসছে ক্ষুধা ও কর্মসংস্থানের কথা, ফিলিস্তিনের কথা, সামাজিক ন্যায়ের কথা, লিঙ্গসাম্যের কথা। সর্বোপরি, সমাজতন্ত্রের কথা। সমাজতন্ত্র কী? এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখবে এবং নিজের চাহিদা অনুযায়ী প্রাপ্য পাবে। সুখকর নয়? সুখের নিশ্চয়তার মধ্যেই তো ভবিষ্যতের ঠিকানা। তাই তো লেনিন আর তাঁর দলবল বলতেন, সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতের পরিসমাপ্তি অতীতে হয় নাকি?

সমাজতন্ত্রই যে বিকল্প, তা ইতিহাসের গতিপথে মূর্তিমান। অর্থাৎ, ‘সোশ্যালিজম ইজ দ্য অল্টারনেটিভ’। কোনো গালগল্প নয়, সমাজতন্ত্র পরীক্ষিত। তার প্রতিটি প্রয়াস সফল হয়নি বটে, তার কোনও মডেলই চূড়ান্ত নয়। কিন্তু ইতিহাসের বুকে তার বাস্তবায়নের চিহ্ন মুছে ফেলার সাধ্য কারও নেই। মার্কসকে ইতিহাসের অন্ধকূপে ছুড়ে ফেলতে চেয়েছিল একদল। কিন্তু হতোদ্যম হয়ে কপালের ঘাম মুছে তারাই ‘দাস ক্যাপিটাল’-এর বিক্রিবাট্টা বাড়িয়ে দিল এই শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে।

এটা নভেম্বর মাস। নভেম্বর বিপ্লবের মাস। অন্য রকম সমাজ যে সম্ভব, তা প্রমাণ করার মাস। ইতিহাসের চলাচলে এই বিকল্প বাস্তবায়নের বহু সংগঠিত প্রয়াসের সাক্ষী আমরা সকলেই। তথাপি, সেই ইতিহাস মুছে ফেলা ন-মুমকিন। কারণ, মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যায় না। মানবসত্তার পূর্ণ বিকাশের স্বপ্নকে চিরকাল আটকে রাখা যায় না। নয়া ফ্যাসিবাদের দানব যখন সভ্যতার টুঁটি টিপে ধরেছে, মানবতার সব আলো কেড়ে নিচ্ছে বলে বোধ হচ্ছে, তখনই আলোকরেখার দেখা! নয়া উদারবাদের গোলকধাঁধায় আটকে পড়া পুঁজি টিকে থাকার তাগিদেই ফিরিয়ে এনেছিল নয়া ফ্যাসিবাদ নামক বিশেষ লাইফলাইনকে। কিন্তু সভ্যতার কী নির্মম পরিহাস! মোহজাল ছিন্ন হয়ে গেল মানুষের। বাঁচার আদিম তাগিদেই সে খুঁজে নিতে থাকল বিকল্প। নব্বইয়ের স্বপ্নউড়ানের মনভোলানো টোটকাও এতদিনে এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়েছে। তাহলে উপায়? লেনিনের অভিমুখে রাজনৈতিক অভিসরণ।

কী বলছেন মশাই? লেনিনের দিকে রাজনীতি ঝোঁকার ধুম পড়েছে? পরিবর্তনের বাংলায় তো লেনিনের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে? হ্যাঁ, হচ্ছে। তীব্র ভয়ে। শোষণের শৃঙ্খলের রাশ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। লেনিনের প্রাণহীন মূর্তিই ভুতের মতো তাড়া করছে ফ্যাসিবাদী হায়নাদের। যেমনটা আগেও করত। এক টুকরো নমুনা শোনা যাক। বোর্টল্ট ব্রেখটের কলমে শোনা যাক।

“তখন যুদ্ধ চলছে,
ইতালির সান কার্লো কারাগার।
আটক সৈনিক, মদ্যপ আর চোর-ডাকাতে গাদাগাদি।
সেই অন্ধকার সেলে এক সমাজতন্ত্রী সৈন্য
এক টুকরো অমোচনীয় পেন্সিলের আঁচড়ে দেয়ালে লিখল:
লেনিন দীর্ঘজীবী হোক!

আলো-আঁধারি সেল। প্রায় অন্ধকার।
সেলের উঁচুতে বড় বড় সুডৌল অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে সেই লেখা।
কারারক্ষীরা তা দেখতেই চটে গেল।
তাড়াতাড়ি ডেকে পাঠাল এক চুনকাম-মিস্ত্রিকে।
বালতি ভরা চুন আর লম্বা ব্রাশ নিয়ে
সে ওই বিপজ্জনক লেখাটার ওপর চুন লেপে দিল।

কিন্তু চুন শুকোতেই
ভেতর থেকে আবার ফুটে উঠল সেই অবাধ্য অক্ষরগুলো:
লেনিন দীর্ঘজীবী হোক!

পরদিন আরেকজন চুনকাম-মিস্ত্রিকে পাঠানো হলো।
সে আগের চেয়েও ঘন করে, দীর্ঘক্ষণ ধরে চুন মাখাল।
কিছুক্ষণের জন্য লেখাটা ঢাকা পড়ল বটে,
কিন্তু সকাল হতেই আবার দেয়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠল সেই স্লোগান:
লেনিন দীর্ঘজীবী হোক!

এবার ক্ষিপ্ত হয়ে জেল কর্তৃপক্ষ পাঠাল এক রাজমিস্ত্রিকে।
সে লোহার ছেনি আর কর্নি দিয়ে
খুব সাবধানে, গভীর করে খুঁড়ে খুঁড়ে তুলে ফেলল দেয়ালের অক্ষরগুলো।
এক ঘণ্টা ধরে চলল সেই কাজ।
কিন্তু কাজ শেষ হতেই দেখা গেল,
দেয়ালের আরও গভীরে চিরতরে খোদাই হয়ে গেছে সেই অজেয় লিপি:
লেনিন দীর্ঘজীবী হোক!

তখন সেই বন্দি সৈনিক হেসে উঠে রক্ষীদের বলল,
‘লেখাটা যদি সত্যিই মুছতে চাও,
তাহলে এবার আস্ত দেওয়ালটাই উড়িয়ে দাও!’”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *