বিস্মৃতির গৈরিকীকরণ: ইতিহাসে মেহনতির লড়াই ব্রাত্য
মঞ্জুর আলম মল্লিক
“মানুষের ইতিহাস কোনোদিন শেষ হয় না,
মাটির ভেতরে যারা পুঁতে রাখে মানুষের হাড়—
তাদের হাতের রক্ত ধুয়ে ফেলার কোনো নদী নেই।”
— বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যখন ১৯৭৩ সালে তাঁর ‘রাস্তায় যে হাঁটতে জানে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘মানুষের ইতিহাস’ কবিতায় এই অমোঘ পঙ্ক্তিগুলো লিখেছিলেন, তখন গোটা দেশ এক চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রাষ্ট্রের চরম দমন-পীড়ন আর সত্য গোপনের যে নির্লজ্জ প্রচেষ্টা কবি এই কবিতার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছিলেন, তা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কবি বলতে চেয়েছেন, ইতিহাস কোনো মরা কঙ্কাল নয়; বরং তা এক জীবন্ত উত্তরাধিকার। শাসকদল যতই তার রক্তমাখা হাত ধুয়ে ফেলতে চাক কিংবা ইতিহাসের পাতা থেকে মেহনতি মানুষের লড়াইকে গুম করে দিতে চাক, সেই সত্যের অবিনশ্বর অস্তিত্বকে কোনোদিনই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ে যখন রাষ্ট্রের মদতে আরও একবার সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে, তখন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কবিতা আপামর পাঠকের মননে শুধুমাত্র সাহিত্য রূপেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নয়া ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে এক অবিনাশী প্রতিরোধের ইশতেহার হয়ে ওঠে।
একবিংশ শতাব্দীর ভারতকে আজ এক অদ্ভুত অন্ধকার গ্রাস করেছে। দেশের উচ্চশিক্ষার অলিন্দে আজ এক নিঃশব্দ ‘স্মৃতিহত্যা’ বা ‘Historical Amnesia’-র মহোৎসব চলছে। বিশেষ করে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে NCERT-র ‘রেশনালাইজেশন’ নথি ভালো করে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট দেখা যায়, যে সমস্ত অধ্যায় মানুষের অধিকার চেতনা বাড়ায় বা সরকারের অস্বস্তিকর অতীত সামনে আনে, সেগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার উপরে ইউজিসি (UGC)-র নতুন LOCF কাঠামো আসলে এক মগজধোলাইয়ের হাতিয়ার, যেখানে সিলেবাসের আধুনিকীকরণের নামে ‘লার্নিং আউটকামস’-এর দোহাই দিয়ে ছাত্রদের স্বাধীন চিন্তাভাবনাকে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে; ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বিকাশে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক। বইয়ের পাতায় সরস্বতী বন্দনার আবশ্যিকতা থেকে শুরু করে ইতিহাসে মেহনতি জনতার লড়াইকে ব্রাত্য রেখে ‘রাম রাজত্বের’ কাল্পনিক মহিমা কীর্তন—গোটা সিলেবাসকে ‘হিন্দুত্বের ল্যাবরেটরি’তে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। যেখানে স্বাধীন চিন্তাভাবনা, মতপ্রকাশ ও বুদ্ধির মুক্তি থাকবে না; তৈরি করা হবে অন্ধ আনুগত্য।
যখন ইতিহাসের পাতা থেকে কৃষক-শ্রমিকের রক্তে ভেজা লড়াই বাদ দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে শাসকদল তার সিংহাসন নিয়ে চূড়ান্ত আতঙ্কিত। তারা ভয় পায় সেইসব অতীতকে, যা আজও মানুষকে শৃঙ্খল ভাঙার গান বাঁধতে শেখায়। আচ্ছা, সুপরিকল্পিতভাবে ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলার কারণ কি শুধুমাত্র সিলেবাসের চাপ কমানো? নাকি সেটার দোহাই দিয়ে সংঘের দীর্ঘদিনের হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা? সংঘ বছরের পর বছর ধরে প্রচার করে আসছে যে এ দেশে হিন্দুরা মুসলমানদের হাতে যুগের পর যুগ নির্যাতিত হয়ে আসছে।ফলত, ‘হিন্দু খতরে মে’—এই মিথ্যা ন্যারেটিভটিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুঘল ইতিহাস বা গুজরাট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস মুছে ফেলা যেমন জরুরি, তেমনই প্রয়োজন তেভাগা আন্দোলন, নকশালবাড়ি আন্দোলনের মতো শ্রেণি-সংগ্রামের ইতিহাসকে আড়াল করা। কারণ, যখনই মেহনতি মানুষ তার শ্রেণি-উৎস বুঝতে পারে—ঠিক তখনই সে বুঝতে পারে যে লড়াইটা আদতে হিন্দু-মুসলমানের নয়, বরং শোষক বনাম শোষিতের। আর তখনই আরএসএস-এর এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা মানুষকে গেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কেবল মুঘল সাম্রাজ্য বা গুজরাট দাঙ্গার ইতিহাস নয়, এমনকি দলিত প্যান্থার, চিপকো, নর্মদা বাঁচাও-এর মতো মেহনতি মানুষের সংগঠিত লড়াইয়ের ইতিহাসকেও সিলেবাস থেকে গুম করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষের চেতনার বিকাশকে সরাসরি রুদ্ধ করা যায়।
সিলেবাসে পরিকল্পিত ব্যবচ্ছেদ: কী বাদ পড়ল?
শিক্ষার তথাকথিত ‘আধুনিকীকরণ’ এবং ছাত্রছাত্রীদের ওপর থেকে ‘পাঠ্যক্রমের বোঝা’ (Content Load) কমানোর এক আজগুবি দোহাই দিয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এনসিইআরটি (NCERT) সিলেবাসের ওপর যে কাঁচি চালিয়েছে, তার গভীরে দৃষ্টিপাত করলে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের দলিল খুঁজে পাওয়া যায়। এনসিইআরটি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর জন্যই নাকি এই ‘রেশনালাইজেশন’ বা যৌক্তিকীকরণ। তাহলে প্রশ্ন জাগে, কেন সেই কাঁচি কেবল মেহনতি মানুষের লড়াই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বৈজ্ঞানিক চেতনার ওপর দিয়েই চলল? এই অজুহাত যে আদতে কতটা দুর্বল ও হাস্যকর, তা বাদ পড়ে যাওয়া বিষয়গুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Politics in India since Independence) বইয়ের সপ্তম অধ্যায়— ‘Rise of Popular Movements’ (পৃষ্ঠা নং ১২৮-১৪৭) সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এই কুড়িটি পৃষ্ঠাতেই ছিল চিপকো আন্দোলন, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন এবং দলিত প্যান্থারের মতো জনপ্রিয় আন্দোলনের বিস্তারিত ইতিহাস। এই বাদ পড়ে যাওয়া অধ্যায়ে পরিস্কার করে বর্ণনা দেওয়া ছিল যে, এই লড়াইগুলো কেবল পরিবেশ রক্ষার লড়াই ছিল না, বরং সেগুলো ছিল জল-জঙ্গল-জমির ওপর মেহনতি জনতার অধিকার রক্ষার এক সংগঠিত লড়াই। আসলে আরএসএস চায় গোটা দেশের মধ্যে একটা মেকি ‘অখণ্ড হিন্দু পরিচয়’ গড়ে তুলতে। কিন্তু দলিত প্যান্থারের ইতিহাস পড়লে উচ্চবর্ণের হিন্দুর অত্যাচার ও ব্রাহ্মণ্যবাদী শোষণের নগ্ন রূপটি সামনে চলে আসে, যা সংঘের সাজানো হিন্দু ঐক্যের মূলে আঘাত করে। আসলে সংঘ পরিচালিত দেশের সরকার একদমই চায় না আগামীর তরুণ প্রজন্ম জানুক যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ দিয়ে কর্পোরেট শক্তির গতিরোধ করা সম্ভব।
এছাড়া নবম অধ্যায় ‘Recent Developments in Indian Politics’ থেকে ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গার সমস্ত উল্লেখ এবং তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) কঠোর সমালোচনাগুলো (পৃষ্ঠা নং ১৮৭-১৮৯) স্রেফ মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি প্রথম অধ্যায় ‘Challenges of Nation Building’ থেকে মহাত্মা গান্ধীর ওপর হিন্দু চরমপন্থীদের ক্ষোভ এবং নাথুরাম গডসের আরএসএস-এর সাথে সম্পর্কের উল্লেখ থাকা অনুচ্ছেদগুলো (পৃষ্ঠা নং ১৮-১৯) খুব সন্তর্পণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো পাঠ্যক্রমের বোঝা কমানোর চেষ্টা নয়, বরং বর্তমান শাসকদলের অস্বস্তিকর অতীতকে ইতিহাসের পাতা থেকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।
ইতিহাসের ওপর ছাঁটাইয়ের স্বরূপ আরও ভয়ঙ্কর। দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের (Themes in Indian History-Part II) নবম অধ্যায়— ‘Kings and Chronicles: The Mughal Courts’ (পৃষ্ঠা নং ২২৪-২৫৪) —সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা হয়েছে। প্রায় ত্রিশ পৃষ্ঠার এই অধ্যায়ে মুঘলদের কেবল যুদ্ধ নয়, বরং তাদের কৃষি ব্যবস্থা, ভূমি রাজস্ব এবং পাণ্ডুলিপি তৈরির ইতিহাস ছিল। আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের প্রোপাগান্ডা হলো মধ্যযুগকে কেবল ‘হিন্দুদের ওপর মুসলিম অত্যাচারের কাল’ হিসেবে দেখানো। মুঘল স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক সংহতির ইতিহাস পড়ানো হলে তাদের সেই ‘বিদেশি আক্রমণকারী’ তকমা দেওয়ার বয়ানটি আদতে ধোপে টিকবে না। তাই এই অধ্যায়টি সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের তৃতীয় খণ্ড (Themes in Indian History-Part III) থেকে দ্বাদশ অধ্যায়— ‘Colonial Cities’ (পৃষ্ঠা নং ৩১৬-৩৩৯) এবং চতুর্দশ অধ্যায়— ‘Understanding Partition’ (পৃষ্ঠা নং ৩৭৬-৪০৫) সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতভাগের সময়কার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রকৃত কারণগুলোকে আড়াল করা এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ঘৃণাকে উসকে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় এই ষাট পৃষ্ঠার বিশাল ইতিহাস মুছে ফেলা আসলে ছাত্রদের একপাক্ষিক অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া।
সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো দ্বাদশ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান (Social Change and Development in India) বইয়ের অষ্টম অধ্যায়— ‘Social Movements’—যেখান থেকে কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক শ্রেণির লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো (পৃষ্ঠা নং ১৪৭-১৫৪) প্রায় বাদ দিয়ে তাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে মূল বিষয়ের গুরুত্ব হ্রাস করা হয়েছে। কৃষক সভার নেতৃত্বে তেভাগা বা তেলেঙ্গানার মতো লড়াইগুলো যখন হিন্দু-মুসলিম কৃষকের অভিন্ন শ্রেণি-স্বার্থকে তুলে ধরে, তখন শাসকের ‘ধর্ম বিপন্ন’ বলে মানুষের চোখে ঠুলি পরানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই শ্রেণি-সংগ্রামের শিকড়গুলোকেই ইতিহাসের পাতা থেকে উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই থেকে ‘Evolution’ (বিবর্তনবাদ) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে ‘Democracy and Diversity’ ও ‘Challenges to Democracy’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে ছাত্রদের বিজ্ঞানমনস্কতা এবং দেশের বহুত্ববাদী যুক্তরাষ্ট্রীয় ধারণার ওপর উলঙ্গ আক্রমণ শানাতেই এই সংকোচন। এই ব্যবচ্ছেদ আসলে শুধুমাত্র জ্ঞানচর্চার সংকোচনই নয়, বরং এক অনুগত, প্রশ্নহীন এবং ইতিহাস-বিস্মৃত আগামীর প্রজন্ম তৈরির এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক নীল নকশা। শিক্ষার এই পরিকল্পিত গৈরিকীকরণ আসলে ইতিহাসের ওপর সংঘ পরিচালিত সরকারের নয়া ফ্যাসিবাদী সুলভ এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
শেষ কথা: ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই মূলত বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই। ফ্যাসিস্ট শাসকদলের নজরদারিতে পাঠ্যবই থেকে বিশেষ কয়েকটি অধ্যায় মুছে ফেললেই ইতিহাসের মৃত্যু ঘটবে না। আসলে ইতিহাস বেঁচে থাকে কারখানার সাইরেনে, ধানক্ষেতের আলপথে এবং শোষিত মানুষের সংঘবদ্ধ বজ্রমুষ্টিতে। বিস্মৃতির এই গৈরিকীকরণ আসলে শাসকের এক গভীর পরাজয়ের চিহ্ন—শাসকদল ভয় পাচ্ছে সেই শাণিত শ্রেণিচেতনাকে, যা একবার জাগ্রত হলে কোনো ভেজাল প্রোপাগান্ডা তাকে রুখতে পারবে না,মেহনতি মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াই-ই শেষ কথা বলবে।
আর এই সংকটের মুহূর্তে আমাদের পরম আশ্রয় হয়ে ওঠে কবি শঙ্খ ঘোষের অমোঘ কিছু পঙ্ক্তি। ২০০৪ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি এক চরম বিপন্নতার কথা বলেছিলেন; যেখানে শাসকের কলমে লেখা ইতিহাসে সাধারণ মেহনতি মানুষের লড়াইয়ের ঠাঁই হয় না, যেখানে শ্রেণির প্রকৃত পরিচয়কে সুকৌশলে আড়াল করে রাখা হয়—যেন তাদের কোনো মুখ নেই, কোনো স্বকীয় অস্তিত্ব নেই। বর্তমান সময়ে যখন পাঠ্যবই থেকে জনপ্রিয় জনআন্দোলন আর শ্রেণি-সংগ্রামের ইতিহাস মুছে ফেলে ছাত্রদের ‘চোখ মুখ ঢাকা’ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, শাসকের তৈরি করা সেই বিকৃত ইতিহাসের দর্প চূর্ণ করতে কবি যেন ঠিক এভাবেই
আমাদের ‘বেঁধে বেঁধে থাকার’ শেষ আশ্রয়টি চিহ্নিত করেছিলেন:
“আমাদের কোনো ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখ মুখ ঢাকা
আমাদের পথ নেই কোনো আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”