ফ্যাসিশক্তি দমনে বাংলার হাতিয়ার
— সায়ন তালুকদার, এসএফআই কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ফ্যাসিবাদ আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্রবণতা। এটি কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার গভীর সংকটের সময় শাসকশ্রেণির ক্ষমতা রক্ষার এক বিশেষ কৌশল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যখন অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়, যখন বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও সামাজিক অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনে অসহনীয় হয়ে ওঠে এবং যখন শাসকশ্রেণির প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল হতে শুরু করে, তখনই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে শাসকশ্রেণি মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না করে বরং জনগণের ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ধর্ম, জাতি, ভাষা, বর্ণ, সংস্কৃতি কিংবা জাতীয়তাবাদের নামে বিভাজনের রাজনীতি গড়ে তুলে তারা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা সৃষ্টি করে। এর ফলে শোষণ ও বৈষম্যের প্রকৃত উৎস আড়ালে থেকে যায়।
ফ্যাসিবাদের ইতিহাস আমাদের এই সত্যই শিক্ষা দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির উত্থান এবং পরবর্তীতে জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় আগমন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এগুলি ছিল গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের ফলাফল। জার্মানির অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত, লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন বেকার এবং সমাজ যখন অস্থির, তখন নাৎসিরা মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধান না করে ইহুদি, কমিউনিস্ট ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। তারা জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে দেশের সমস্যার জন্য দায়ী কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়, অথচ প্রকৃত দায় ছিল সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধনীতি ও পুঁজিবাদী সংকটের। এইভাবেই ফ্যাসিবাদ জনগণের ক্ষোভকে ভিন্ন দিকে পরিচালিত করে।
মার্ক্সবাদী বিশ্লেষণ অনুযায়ী ফ্যাসিবাদ কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটি শ্রেণিশাসনের একটি বিশেষ রূপ। মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ জর্জি দিমিত্রভ ফ্যাসিবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন অর্থপুঁজির সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল, সবচেয়ে শোভিনিস্ট এবং সবচেয়ে সাম্রাজ্যবাদী অংশের প্রকাশ্য সন্ত্রাসী একনায়কতন্ত্র হিসেবে। এই সংজ্ঞা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে ফ্যাসিবাদ কেবল কিছু উগ্র নেতার ব্যক্তিগত চিন্তার ফল নয়; এটি একটি শ্রেণিগত প্রকল্প। এর উদ্দেশ্য হলো শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব ও সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করা এবং শাসকশ্রেণির আধিপত্য বজায় রাখা।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের উত্তরাধিকার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে। বাংলার সমাজজীবনের গভীরে এমন কিছু মূল্যবোধ রয়েছে, যা ফ্যাসিবাদের দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণআন্দোলনের ঐতিহ্য এবং শ্রেণিসংগ্রামের অভিজ্ঞতা বাংলাকে একটি বিশেষ শক্তি প্রদান করেছে।
বাংলার নবজাগরণ এই শক্তির অন্যতম উৎস। উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার নবজাগরণ কেবল একটি সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল চিন্তার মুক্তির আন্দোলন। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন করেছিলেন, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিজ্ঞানচর্চা ও যুক্তিবাদের প্রসারে কাজ করেছিলেন। তারা সকলেই সমাজের পশ্চাৎপদতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। ফ্যাসিবাদ যেখানে অন্ধ আনুগত্য, কুসংস্কার এবং প্রশ্নহীন মানসিকতা তৈরি করতে চায়, বাংলার নবজাগরণ সেখানে মানুষকে প্রশ্ন করতে, চিন্তা করতে এবং যুক্তির ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করতে শিখিয়েছে।
ফ্যাসিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাস বিকৃতি। ফ্যাসিবাদী শক্তি সবসময় ইতিহাসকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তারা অতীতকে বিকৃত করে, মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং মানুষের মধ্যে কৃত্রিম গৌরববোধ সৃষ্টি করে। কিন্তু বাংলার ইতিহাস মানুষকে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে শেখায়। বাংলার নবজাগরণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ—সবকিছুই প্রমাণ করে যে সমাজের অগ্রগতি ঘটে প্রশ্ন, বিতর্ক ও মুক্তচিন্তার মাধ্যমে; অন্ধ আনুগত্যের মাধ্যমে নয়।
বাংলার সাংস্কৃতিক জগতও ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কাছে মানবতা ছিল জাতির চেয়েও বড়। তিনি এমন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে মানুষ বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরকে মানুষ হিসেবে দেখবে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতা ও গানে সাম্য, বিদ্রোহ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে মানুষের পরিচয় তার মানবিকতায়। আজও নজরুলের সাম্যের বাণী এবং রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক অস্ত্র।
শুধু সাহিত্য নয়, বাংলার গণসংস্কৃতির ধারাও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গণনাট্য আন্দোলন, গণসঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল শিল্পচর্চা সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এগুলি মানুষকে বিভক্ত করার বদলে ঐক্যবদ্ধ করে। ফ্যাসিবাদ যেখানে ঘৃণা শেখায়, সেখানে প্রগতিশীল সংস্কৃতি শেখায় সংহতি, সহযোগিতা এবং মানবিকতা।
তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো শ্রেণিচেতনা। কারণ ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি নিহিত রয়েছে মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলিকে আড়াল করার মধ্যে। যখন একজন শ্রমিক বেকার হয়, যখন একজন কৃষক ন্যায্য দাম পায় না, যখন একজন ছাত্র শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের সমস্যার কারণ কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়। সমস্যার মূল রয়েছে অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ এই সত্যকে আড়াল করে। তারা মানুষকে বোঝাতে চায় যে সমস্যার কারণ কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, কোনও অভিবাসী জনগোষ্ঠী বা কোনও রাজনৈতিক বিরোধী শক্তি।
মার্ক্সবাদ আমাদের শেখায় যে সমাজকে বোঝার জন্য শ্রেণি-সম্পর্ককে বুঝতে হবে। একজন শ্রমিক হিন্দু বা মুসলিম হওয়ার আগে শ্রমিক। একজন কৃষক কোনও বিশেষ ধর্মের প্রতিনিধি হওয়ার আগে কৃষক। তাদের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ফ্যাসিবাদ এই ঐক্যকে ভাঙতে চায়। কারণ সংগঠিত শ্রমিক ও কৃষকের শক্তি শোষণমূলক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক। তাই শ্রেণিচেতনার বিকাশ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস এই সত্যকে বারবার প্রমাণ করেছে। তেভাগা আন্দোলন বাংলার কৃষক সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। কৃষকরা জমিদার ও জোতদারদের শোষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিল। তারা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, শ্রেণির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। হিন্দু ও মুসলিম কৃষক একসঙ্গে সংগ্রাম করেছিলেন। এই ঐক্যই ছিল আন্দোলনের শক্তি। ফ্যাসিবাদের বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে তেভাগা আন্দোলন শ্রেণি-ঐক্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
একইভাবে খাদ্য আন্দোলন, শ্রমিক ধর্মঘট, ছাত্র আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম বাংলার মানুষকে সংগঠিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। যখন মানুষ একত্রিত হয়েছে, তখন তারা নিজেদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্যাসিবাদ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, কিন্তু গণআন্দোলন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই কারণেই গণআন্দোলনের ঐতিহ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের একটি মূল্যবান সম্পদ।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও শ্রমিকশ্রেণি এবং বামপন্থী শক্তি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এগিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের জনগণ নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে অসাধারণ আত্মত্যাগ করেছিলেন। স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। যদি নাৎসি ফ্যাসিবাদ সেই যুদ্ধে জয়ী হতো, তাহলে বিশ্বের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। শ্রমিক, কৃষক, কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যই শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিল।
আজকের বিশ্বে ফ্যাসিবাদ আগের রূপে উপস্থিত না থাকলেও তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এখনও দেখা যায়। ধর্মীয় মেরুকরণ, ইতিহাস বিকৃতি, সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মতের উপর আক্রমণ, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ—এসবই ফ্যাসিবাদী প্রবণতার লক্ষণ। তাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেবল অতীতের কোনও স্মৃতি নয়; এটি বর্তমানেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এই সংগ্রামে ছাত্র-যুব সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রগতিশীল পরিবর্তনের প্রায় প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্র ও যুবকদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তারা প্রশ্ন করেছে, প্রতিবাদ করেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামেও তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। কারণ যুবসমাজই ভবিষ্যতের সমাজ গঠন করবে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে কেবল কোনও রাজনৈতিক শক্তির বিরোধিতা নয়। এটি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বৈজ্ঞানিক মনন, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক সমতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সংগ্রাম। যখন ইতিহাস বিকৃত করা হয়, তখন প্রকৃত ইতিহাসকে সামনে আনা; যখন ঘৃণার রাজনীতি করা হয়, তখন সম্প্রীতির পক্ষে দাঁড়ানো; যখন শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার খর্ব করা হয়, তখন তাদের সংগ্রামের পাশে দাঁড়ানো—এসবই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ।
বাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি তার প্রগতিশীল ঐতিহ্য। নবজাগরণের যুক্তিবাদ, রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ, নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা, তেভাগার কৃষক সংগ্রাম, শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস, গণসংস্কৃতির বিকাশ এবং বামপন্থী গণআন্দোলনের দীর্ঘ উত্তরাধিকার বাংলাকে এক বিশেষ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি দিয়েছে। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
অতএব, ফ্যাসিশক্তি দমনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার কোনও একক ব্যক্তি বা সংগঠন নয়; বরং বাংলার প্রগতিশীল ঐতিহ্য, যুক্তিবাদী মনন, শ্রেণিচেতনা, গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং মানবমুক্তির সংগ্রামের ধারাবাহিক উত্তরাধিকার। যতদিন এই ঐতিহ্য জীবিত থাকবে, যতদিন মানুষ বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের পথে হাঁটবে, যতদিন শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-নারীসহ সমাজের নিপীড়িত মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে, ততদিন ফ্যাসিবাদ কখনও স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।
বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে কতটা ধারণ করতে পারে তার উপর। যদি তারা যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ, গণতন্ত্র, বৈজ্ঞানিক চিন্তা এবং সামাজিক ন্যায়ের মূল্যবোধকে ধারণ করে, তবে বাংলার মাটি আবারও প্রমাণ করবে যে ঘৃণা নয়, মানবতাই ইতিহাসের চালিকাশক্তি; বিভাজন নয়, ঐক্যই সমাজের অগ্রগতির পথ; আর শোষণ নয়, মুক্তিই মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য।