E-20: পরিবেশবান্ধবের নামে ধাপ্পাবাজি

মেঘালয় নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা আর নির্মল প্রকৃতির ছবি। এই রাজ্যেই রয়েছে এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিনং (Mawlynnong) এবং ভারতবর্ষের স্বচ্ছ জলের জন্য বিখ্যাত নদী ডাওকী (Dawki)।


কিন্তু এই পরিচ্ছন্নতার গল্পের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর বাস্তবতা [1]। মেঘালয়ের কাছেই, আসাম-মেঘালয় সীমান্তে অবস্থিত বার্নিহাট (Byrnihat)—যে জায়গা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে [1], [2]।

এখানে PM2.5-এর মাত্রা 128.2 μg/m³ পর্যন্ত পৌঁছেছে—যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রস্তাবিত নিরাপদ সীমা 5 μg/m³-এর তুলনায় প্রায় 25 গুণ বেশি [1], [2]।

তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়—যে রাজ্য পরিচ্ছন্নতা ও নির্মল প্রকৃতির প্রতীক, সেই রাজ্যের দোরগোড়াতেই এমন ভয়াবহ বায়ুদূষণের ছবি কেন? মেঘালয়ের সবুজ আবরণের আড়ালে কি তৈরি হয়েছে এক নতুন পরিবেশগত সংকট?

2018 সালে ভারত সরকার “জাতীয় বায়োফুয়েল নীতি 2018” [3] প্রকাশ করে। যেটি একটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য ছিল পেট্রোলের সাথে 20% ইথানল মিশ্রণ করা এবং 1 লা এপ্রিল, 2026 থেকে ভারত সরকার দেশ জুড়ে সাধারণ পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করে শুধুমাত্র E-10 (পেট্রোলের সাথে 10% ইথানল মিশ্রণ) গ্রেডের পেট্রোল বিক্রি শুরু করেছে। দাবি করা হচ্ছে যে, i) ভারতকে তার চাহিদার 87% বেশি অপরিশোধিত খনিজ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়; E-20 র ফলে ভারতের আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং গত এক দশকে 1.4 লাখ কোটি টাকারও [4] বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। ii) ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ইঞ্জিনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, এর ফলে গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর কার্বন মনোক্সাইড (CO), হাইড্রোকার্বন এবং PM দূষণ অনেকাংশে কমে আসে। iii) ইথানল এক ধরনের অ্যালকোহল, যা ভারতে উদ্ভিজ্জ উৎস অর্থাৎ আখের রস, গুড়, ভুট্টা, চাল, গম দিয়ে তৈরি হয়। তাই কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

কিন্তু ভারতের ছাত্রসমাজ কোনো রাষ্ট্রীয় নীতিকে গ্রহণ করে তখনই, যখন তার পিছনে থাকা বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যকে সরিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ করে, এবং এটা অত্যন্ত জরুরি। তথাকথিত এই ‘সবুজ জ্বালানি’ বা বায়োফুয়েল বিপ্লবের অন্তরালে যে গভীর পরিবেশগত সংকট, খাদ্য সুরক্ষার বিপর্যয় এবং কর্পোরেট পুঁজির একচেটিয়া মুনাফা লোটের বন্দোবস্ত লুকিয়ে রয়েছে তার একটি সামগ্রিক ও তথ্যসমৃদ্ধ ব্যবস্থা তুলে ধরা প্রয়োজন—


মিনিস্ট্রি অফ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস (Ministry of Petroleum and Natural Gas) (2023)-এর মতে, বর্তমানে E-10 পর্যায় ইথানল মিশ্রণ প্রতিবছর প্রায় 25 লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমন হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এবং অনুমান করা যায়, E-20 বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় 1 কোটি মেট্রিক টন CO₂ নির্গমন কমানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু পরিবেশ বিজ্ঞানের জীবনচক্র মূল্যায়নে (Life Cycle Assessment বা LCA) শুধু জ্বালানি ব্যবহারের সময় কতটা দূষণ হচ্ছে তা নয়, জ্বালানিটির পুরো জীবনচক্র জুড়ে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ LCA একটি জ্বালানির মোট (cradle-to-grave বা cradle-to-wheel) পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করে।


ভারতের নীতি আয়োগের “রোডম্যাপ ফর ইথানল ব্লেন্ডিং ইন ইন্ডিয়া 2020-25” [5] প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ভারতের ইথানলের প্রধান উৎস আখ এবং উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য (যেমন— চাল ও ভুট্টা), যা অত্যন্ত জল নিবিড়। 2.5ml ইথানল উৎপাদনে গড়ে প্রায় 25 লিটার (25000ml) জলের প্রয়োজন [6]। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটে যেখানে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে, সেখানে জ্বালানি তৈরির জন্য এই বিপুল পরিমাণ জলের অপচয় চরম পরিবেশগত অপরাধের শামিল।

নীতিন গাডকরি, BJP নেতা এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক; সাম্প্রতিক একটি পডকাস্ট এ জলের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করায় উত্তর দিয়েছিলেন, যে সেচের 100% নষ্ট হয়ে যায় না। কিছু জল বাষ্পীভূত হওয়ার পরেও বেশীরভাগটা মাটির নিচে প্রবেশ করে [15]। কিন্তু উনি যেটা বলতে চায়নি, তা হলো— আখ বিশ্বের অন্যতম বেশি জল নিবিড় ফসল, অতএব এমন অঞ্চল যেখানে জল সংকট বর্তমান সেখানে আখ চাষ সমস্যা বাড়িয়ে তুলবে। এবং মাটিতে যাওয়া সব জল ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডারে ফিরে যায় না; তাই শুধু ‘জল মাটিতে গেছে‘ বললেই সেই জল অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য থাকে- এমন ধরে নেওয়া যুক্তিপূর্ণ নয়।

আমাদের প্রত্যেকের যেই বিষয় সবচেয়ে ভাবা উচিত, তা হলো দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষার উপর এই ইথানল নীতির মরণকামড়। ভারত বর্তমানে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (Global Hunger Index) অত্যন্ত লজ্জাজনক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দেশের একটি বিশাল অংশের শিশু ও নারী অপুষ্টির শিকার। সেখানে দাঁড়িয়ে: i) যদি খাদ্যশস্য (যেমন— ভুট্টা, আখ থেকে চিনি) বড় পরিমানে ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় তাহলে একই জমি ও সম্পদ খাদ্য উৎপাদনের বদলে জ্বালানি উৎপাদনে চলে যেতে পারে। ফলে খাদ্য সরবরাহ কমার ঝুঁকি থাকে। ii) ইথানলের চাহিদা বাড়লে কৃষক বেশি লাভজনক জ্বালানি ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, ফলে খাদ্যশস্যের জমি কমে যাবে। iii) অন্যদিকে ডাল ও তৈলবীজের মত প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর ফসলের চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলে তার ঘাটতি মেটাতে ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল ও ডাল আমদানি করতে হবে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। একদিকে পেট্রোলের সাশ্রয়ের গল্প শোনানো হচ্ছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের বাজারে আগুন জ্বলছে। এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত উপায়ে কর্পোরেট স্বার্থে দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার কৌশল [7]।

   শাসক দলের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে যে, E-20র ফলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং এর জন্য সুফল পাবে দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের (MoPNG) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে— তার কতখানি পয়সা সাধারন মানুষের পকেটে এসেছে? প্রতিদিন সকালে কেন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে?

     আসলে এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে নয়া উদারবাদী অর্থনীতির চরিত্র ও ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের মধ্যে।

নীতিন গাডকারী, তার ছেলে নিখিল গাডকারীর কোম্পানি “CIAN এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড” (“CIAN Agro Industries & Infrastructure Limited”)-এর গত দু বছরে রেভিনিউ বা মোট রাজস্ব 17 কোটি থেকে 1522 কোটি হয়েছে [8], [9]। কোম্পানিটি ভোজ্য তেল, মশলা ও জৈব সার ব্যবসায় যুক্ত থাকলেও, 2024 সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইথানল উৎপাদনের ক্ষেত্রে পা রেখেছে।
অন্যদিকে, ইথানল উৎপাদনের সাথে যেহেতু চিনিকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাই যত ইথানল উৎপাদন হবে তত এই চিনিকল এর মালিকগুলোর লাভ হবে। মহারাষ্ট্রে 104 টি চিনিকল পলিটিশিয়ান দ্বারা পরিচালিত। তার মধ্যে 6টি চিনিকল অজিত পাওয়ারের (NCP) পরিবারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে, সুভাষ দেশমুখ (BJP) 10টি চিনিকল, জয়ন্ত পাতিল (NCP), বিশ্বজিৎ কদম (Indian National Congress) সহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া 61 জন কোনো না কোনো চিনিকল এর চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর বা মালিক [10]। কর্নাটকে সচল 80টি চিনিকলের মধ্যে 40 টিরও বেশি মিল সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের (কংগ্রেস, বিজেপি এবং জে.ডি(এস)) মালিকাধীন বা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে [11]। তাহলে ভাবাচ্ছে তো!? ইথানলকে ‘সবুজ জ্বালানি’র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু যখন এই নীতির আর্থিক লাভের বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী চিনি শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের কাছে যাচ্ছে, তখন “গ্রিনওয়াশিং” (greenwashing)-এর প্রশ্ন উঠছে—এটা কি সত্যিই পরিবেশ রক্ষা, নাকি সবুজ মোড়কে ব্যবসায়িক স্বার্থ?

নব্বইয়ের দশকের (1990s) আগে সেই বার্নিহাটে ফিরে যাই, যখন এই সমস্ত ইথানল ও ভারী কারখানা আসেনি। তখন বার্নিহাট ছিল সম্পূর্ণ সবুজ, শান্ত এবং একটি কৃষিপ্রধান পাহাড়ি এলাকা, যেখানে ছিল উমত্রু নদীর পরিচ্ছন্ন জল, বিষাক্ত গন্ধহীন মুক্ত বাতাস। আর এখন গাছের সবুজ, সতেজ পাতা কালো ছাই বা ধুলোর আস্তরণে মোড়া, কারখানাগুলোর কেমিক্যাল বা ইথানল প্ল্যান্টের বর্জ্য জল (Wastewater) নদীতে মিশে মানুষের অব্যবহারযোগ্য জলে পরিণত হয়েছে। সেখানে মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন, যেমন— শ্বাসকষ্টের মহামারি, ক্যান্সারের আতঙ্ক, চোখ ও চামড়ার রোগ। তার সাথে জীবিকা ধ্বংস এবং তীব্র জলের সংকটে ভুগছে গোটা বার্নিহাটের মানুষ। বার্নিহাটের ভৌগোলিক গঠন একটি বাটি আকৃতির (Bowl-shaped) উপত্যকার মতো, ফলে কারখানা বা গাড়ি থেকে যে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর ধূলিকণা বের হয়, তা চারপাশের পাহাড় টপকে সহজে বাতাসে মিশে যেতে বা দূরে সরে যেতে পারে না।

মাথায় রাখতে হবে, এই বার্নিহাটের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে বর্নিহাটের মতো আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই কারখানাগুলোর জন্য পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে এবং স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করেছেন, তা হলো—পাঞ্জাবের জিরা (Zira, Punjab)-মালব্রোস ইথানল প্ল্যান্ট [12]; ছত্তিশগড়ের বেমেতরা (Bemetara, Chhattisgarh)-পাথররা প্ল্যান্ট [13]; রাজস্থানের হনুমানগড় (Hanumangarh, Rajasthan) [14]।

তাই উপরের ঘটনা দেখলেই বোঝা যায়, বর্তমান ইথানল মিশ্রণ নীতি কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রকৃত পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। এটি আসলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এমন একটি সংকট মোচন প্রক্রিয়া, যা পরিবেশ রক্ষার নামে, প্রকৃতির ক্ষতি করে এবং মানুষের সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কর্পোরেটদের পকেট ভরায়।


তাই একটি বিজ্ঞানসম্মত ও জনমুখী বিকল্পের দাবি তোলা উচিত আমাদের: i) খাদ্যশস্যের বদলে কৃষিজাত বর্জ্য যেমন— ধানের খড়, গমের ভুসি, বাঁশ বা আখের ছিবড়ে (Bagasse) ব্যবহার করা উচিত। এতে ফসল পোড়ানো বন্ধ হবে এবং কারখানার বর্জ্যও কমবে।


ii) সমুদ্র বা পুকুরের শৈবাল (Algae) ব্যবহার করে ইথানল তৈরি করা, যাতে কোনো চাষের জমি বা অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন না হয়।


iii) কারখানায় ZLD (Zero Liquid Discharge) প্ল্যান্ট বসানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। এই প্ল্যান্টের প্রধান কাজ হলো কারখানা বা শিল্পের বর্জ্য পানিকে পুরোপুরি বিশুদ্ধ করে পুনরায় ব্যবহারের (Recycle) উপযোগী করা এবং কোনো বিষাক্ত তরল বর্জ্য পরিবেশে বের হতে না দেওয়া।


iv) কারখানায় কার্বন ক্যাপচার টেকনোলজি (Carbon Capture Technology) ব্যবহার করা। এটি এমন একটি টেকনোলজি, যা কয়লা বা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড় বড় শিল্প কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) বায়ুমণ্ডলে ছড়ানোর আগেই বাতাস থেকে আলাদা করে ফেলে বা আটকে ফেলে। এই সংগৃহীত CO₂ গ্যাস পরবর্তীতে কোল্ড ড্রিঙ্কস ইন্ডাস্ট্রি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে বিক্রি করা সম্ভব।


v) ইথানল তৈরির পর যে কঠিন বর্জ্য পড়ে থাকে, তা শুকিয়ে পুষ্টিকর পশুখাদ্য বা মাছের খাবার তৈরি করা যায়।


vi) তরল বর্জ্য থেকে অ্যানারোবিক ডাইজেস্টর (Anaerobic Digestor) ব্যবহার করে বায়োগ্যাস বা মিথেন গ্যাস তৈরি করা সম্ভব। এই অ্যানারোবিক ডাইজেস্টর হলো, একটি এয়ারটাইট পাত্র, যেখানে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্যকে ভেঙে ফেলে। এই গ্যাস দিয়ে কারখানার নিজস্ব বয়লার চালানো যাবে, ফলে কয়লা পোড়ানোর প্রয়োজন হবে না। vii) বয়লার চালানোর জন্য কয়লা বা ফার্নেস অয়েল পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এর বদলে কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল বসানো এবং বয়লারে কয়লার পরিবর্তে ধানের তুষ (Rice husk) বা কাঠের গুঁড়োর বায়ো-মাস পেলেট (Biomass Pellets) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে বায়ু দূর্ষণ শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে। বায়োমাস পেলেট হলো বর্জ্য পদার্থ বা উদ্ভিদ থেকে তৈরি ছোট, শক্ত নলের মতো এক ধরণের জৈব জ্বালানি, যা সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব ও শক্তিশালী বিকল্প।

শুধুমাত্র “সবুজ” বা “পরিবেশবান্ধব” শব্দ ব্যবহার করলেই কোনো নীতি sustainable হয়ে যায় না। যদি পরিবেশ রক্ষার নামে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হয়, অথচ এর মূল সুবিধা সীমিত কয়েকটি কর্পোরেট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের কাছে চলে যায়, তাহলে সেই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন—উভয়ই জনস্বার্থের বিচারে পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে।
প্রকৃত পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, দূষণকারী শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকর जवाबদিহি, নীতিনির্ধারণে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ব্যবহার এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। একই সঙ্গে কর্পোরেট গ্রিনওয়াশিং—অর্থাৎ প্রকৃত পরিবেশগত উন্নতি ছাড়াই নিজেদের পরিবেশবান্ধব হিসেবে প্রচারের প্রবণতা—চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (Sustainable Development) কেবল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং দূষণ কমানোর বাস্তব পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ রক্ষার লড়াই তখনই সফল হবে, যখন উন্নয়ন, অর্থনীতি ও প্রকৃতির মধ্যে একটি ন্যায্য ও দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

References:
[1] Mongabay India, “Living in the most polluted city in the world,” Mongabay India, May 2025. [Online]. Available:
[2] Sarthak Documentaries, “Inside The World’s Most Polluted City,” YouTube, June 26, 2026. [Online]. Available:
[3] Ministry of Petroleum and Natural Gas (MoPNG), National Policy on Biofuels 2018, Government of India, 2018. [Online]. Available:
[4] Google Share Document, Reference Link for Forex Savings. [Online]. Available:
[5] NITI Aayog, Roadmap for Ethanol Blending in India 2020-25, Government of India, Jun. 2021. [Online]. Available:
[6] ChiniMandi, “India’s ethanol expansion raises new concern over water use as blending targets climb,” ChiniMandi. [Online]. Available:
[7] International Journal of Agricultural Sciences, vol. 7, no. 6, 2025. [Online]. Available:
[8] CIAN Industries, “A greener tomorrow: CIAN Agro Industries & Infrastructure Ltd joins forces with Ram Charan Group for sustainable ethanol production,” CIAN Industries. [Online]. Available:
[9] Google Share Document, Reference Link for Corporate Revenue Data. [Online]. Available:
[10] The Wire, “Special: Sugarcane Politics and Power Factories,” The Wire. [Online]. Available:
[11] Deccan Chronicle, “Only in Karnataka do politicos own so many sugar mills: Kurubur Shanthakumar,” Deccan Chronicle, Nov. 21, 2018. [Online]. Available:
[12] The Times of India, “3 years on, Zira vows to continue fight against distillery pollution,” The Times of India. [Online]. Available:
[13] Mongabay India, “Ethanol push sparks concerns about food security, environment and health,” Mongabay India, Aug. 2025. [Online]. Available:
[14] Groundxero, “Ethanol giant in Rajasthan face fierce peasant resistance despite police brutality,” Groundxero, Dec. 12, 2025. [Online]. Available:
[15] Sagar Sinha Podcast, “Ethanol सही है या गलत?”, Youtube, July, 2026. [Online].

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *