সাম্রাজ্যবাদ 2.0 বনাম আজও আজাদি…

ফিলিস্তিনের কোনও শিশু ক্ষুধার্ত বুকে এক টুকরো রুটির পেছনে ছুটতে ছুটতে, জোহানেসবার্গের বিদেশী মালিকের খনি থেকে হীরে তুলে এনে বিশ্রামরত কোনও তরুণী, প্রথমে লীগের পুলিশ তারপর আবার জামাতের হাতে মার খেতে খেতে স্থির হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের কোনও পীর, ভারতের হাসদেও অরণ্যের শেষ গাছটা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকা সেই আদিবাসী বৃদ্ধা — সকলের মনেই হয়ত ঘুরপাক খায় একই প্রশ্ন, এই পৃথিবীটা কার? প্রশ্নটা নতুন নয়। বরং বহু শতাব্দী ধরে মানুষের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই একই প্রশ্ন। পৃথিবীর ইতিহাস যতটা সভ্যতার, ততটাই শোষণের। আর ততটাই তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের ইতিহাস।

একসময় আফ্রিকার মানচিত্র শাসকরা রুলার দিয়ে ভাগ করেছিল। মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি—কিছুই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। প্রয়োজন ছিল কেবল হীরা, সোনা, তেল আর শ্রম। আজও আফ্রিকার বহু দেশ সেই ইতিহাসের ক্ষত বয়ে বেড়ায়। কঙ্গোর খনিজসম্পদ পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি। অথচ সেই সম্পদের মালিক সেখানকার সরকার বা জনগণ নয়। মুনাফার বড় অংশ চলে যায় আন্তর্জাতিক কর্পোরেট শক্তির হাতে।

লাতিন আমেরিকার ইতিহাসও একই রকম শিক্ষা দেয়। চিলি, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা—প্রত্যেক দেশ কোনো না কোনো সময়ে আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। কখনও নির্বাচিত সরকার উৎখাত হয়েছে, কখনও অর্থনৈতিক অবরোধ চাপানো হয়েছে, কখনও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পথ নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে। হালে, স্রেফ রাতের অন্ধকারে সেনা পাঠিয়ে অপহরণ করে আনা হয়েছে বলিভিয়ার সর্বাধিনায়ককে। তবু সেখানকার ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ বারবার রাস্তায় নেমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। রক্ষা করেছেন বিপ্লবের শক্তিকে।

ফিলিস্তিনে যখন প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ, হামলা হচ্ছে হাসপাতালেও, ট্রাম্প তখন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন, এআই দিয়ে বানানো একটি ভিডিও যেখানে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইলিয়ন মাস্ক গাজা ভূখন্ড দখল করে সেখানে ব্যক্তিগত দ্বীপ বানিয়ে কিভাবে আমোদ প্রমোদ করবেন। সাম্রাজ্যবাদ এতটাই ঘৃণ্য এতটাই নিষ্ঠুর। আবার উল্টোদিকে রয়েছে গ্রেটা থুনবার্গ সহ একাধিক সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীর হাজার হাজার ত্রানবাহী নৌকো নিয়ে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে নাটকীয় সাগরযাত্রা। গোটা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের সংহতিতে মানুষের লড়াই। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার বিরুদ্ধে যে কোনও লড়াইয়ের পতাকা হয়ে উঠেছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। শেষ বিশ্বকাপ ফুটবলেও ট্রাম্পের নাকের ডগায় মাঠ থেকে গ্যালারিতে উঠে এসেছে ফিলিস্তিনের উপর আমেরিকা ইসরায়েলের দখলদারির প্রতিবাদ।

এশিয়ার ইতিহাসও কম নাটকীয় নয়। ভিয়েতনামের মানুষের সংগ্রাম আজও পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। বিশ্বযুদ্ধে জাপানে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আজ পর্যন্ত বিশ্বের যে সবচেয়ে ভয়ানক আক্রমণ হয়েছিল তার পেছনেও দায়ী এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইরাক থেকে আজ ইরান পর্যন্ত যত যা যুদ্ধ সবই আসলে তেল বা বা অন্য কোনও সম্পদেরই লোভে। মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে পাপেট সরকার বসিয়ে সবসময় এই লুন্ঠনই করে গিয়েছেন ট্রাম্প ও তার পূর্বসূরীরা। বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে হাসিনাও বলে গেছিলেন তাঁর কাছে প্রস্তাব ছিল সেন্ট মেরিজ দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বানাতে দেওয়ার। তিনি রাজি হননি। সেজন্যেই নাকি এই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি। ভারতের রয়েছে ২০০ বছরের পরাধীনতার ইতিহাস। আর স্বাধীনতার লড়াই। অনেকেই সহজ সত্যটা ভুলিয়ে দিতে চায় যে আসলে যে কোনও স্বাধীনতার লড়াই-ই হল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই।

সাম্রাজ্যবাদ শব্দটা শুনলেই এখনও অনেকের চোখে ভেসে ওঠে যুদ্ধজাহাজ, সৈন্যবহর, গোলা বারুদ ইত্যাদি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্যবাদ আর কেবল সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে আসে না। কখনও আসে ঋণের চুক্তি হয়ে, কখনও বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপন হয়ে, কখনও তথ্যপ্রযুক্তির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হয়ে, কখনও বা সংস্কৃতির বাজার হয়ে। ভারতের ইংরেজের শাসন এসেছিল বণিকের মানদন্ডের হাত ধরেই। পৃথিবী বদলেছে, আধিপত্যের কৌশল বদলে বদলে আরও সূক্ষ্ম হয়েছে।

আগে সাম্রাজ্যবাদে বিদেশি শক্তি বন্দুক নিয়ে আসত। তারা দেশ দখল করত, পতাকা উড়াত, নিজেদের গভর্নর বসাত। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন ছিল তারই উদাহরণ। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একে একে উপনিবেশগুলো স্বাধীন হয়ে গেল। মনে হল সাম্রাজ্যবাদ শেষ। কিন্তু সত্যিই কি শেষ হলো? আসলে, সাম্রাজ্যবাদ হারিয়ে যায়নি—সে শুধু নিজের পোশাক বদলেছে। বন্দুকের বদলে এসেছে ব্যাংক, যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসেছে বহুজাতিক কর্পোরেশন, আর উপনিবেশের বদলে তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক নির্ভরতার জাল।

আমরা একে নিও ইম্পিরিয়ালিজম বা নয়া সাম্রাজ্যবাদ বলতেই পারি।
ধরুন, একটি দরিদ্র দেশ উন্নয়নের জন্য বিপুল ঋণ নিল। ঋণদাতা সংস্থা বলল — ঋণ দেব, কিন্তু শর্ত আছে। সরকারি সংস্থা বেসরকারি করতে হবে, কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে হবে, বিদেশি কোম্পানির জন্য বাজার খুলে দিতে হবে। ভারতের ক্ষেত্রেও হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের দরজা হাট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্ভরতা বেড়েছে আমেরিকার উপর। ফলে, পাকিস্তানের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে সেই বিষয়ে মতামত দেওয়ার সাহস পায় ট্রাম্প। নয়া সাম্রাজ্যবাদে একটি দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন থাকলেও অর্থনীতি, বিদেশনীতি সহ আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত হয়ে আসে।

কোনো দেশের খনিজ সম্পদ, তেল, গ্যাস বা বিরল খনিজ উত্তোলনের বড় অংশ বিদেশি কর্পোরেশনের হাতে। স্মার্টফোন বা বিভিন্ন মাইক্রো চিপ তৈরিতে যে মহামূল্য খনিজ কোবাল্ট, লিথিয়াম, কোলটান ইত্যাদি প্রয়োজন হয় তা বিরাট পরিমাণে মজুদ আছে কঙ্গোর মত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। তা উত্তোলিতও হয়। কিন্তু এই নয়া সাম্রাজ্যবাদের কল্যাণে তার লাভের গুড় চলে যায় বিদেশে, অথচ স্থানীয় মানুষ পায় সামান্য মজুরি আর দুষিত পরিবেশ। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে কি হচ্ছে। কাগজে-কলমে দেশ স্বাধীন, কিন্তু সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই তাদের।

সাম্রাজ্যবাদ আজ আর শুধু অর্থনীতি বা বিদেশনীতিতেও সীমাবদ্ধ নয়। এটি সংস্কৃতিতেও প্রভাব বিস্তার করে। প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা সারা বিশ্বের সিনেমা বা কনটেন্ট যে কোনও দেশে বসে দেখতে পারি। একই অ্যাপ ব্যবহার করি, একই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে খবর পড়ি। এর সুযোগ নিয়ে বড়লোক ব্যবসায়ীরা ঠিক করছে কখন কী জনপ্রিয় হবে, কোন বিষয়টা ট্রেন্ড করবে, কোন মতামত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। মনে করা হচ্ছে, গোটা বিশ্বের প্রায় সমস্ত নিউজ এজেন্সি ও মিডিয়ার মূল মালিকানা রয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৫টি কোম্পানির হাতে। তারাই ঠিক করতে পারে গোটা দুনিয়ার মানুষ কোন খবরটা পাবে অথবা পাবে না।

এভাবেই আধিপত্য বিস্তৃত হয়। পৃথিবীতে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বরাবরই হাত ধরাধরি করে থেকেছে । তবে এই মুহূর্তে তাদের যে কোল্যাব তা অতুলনীয়। পুঁজিবাদের উপযোগী বাজার তৈরির জন্য সবসময় সচেষ্ট রয়েছে সাম্রাজ্যবাদ। বাজারের রুচি, পছন্দ ইত্যাদির উপর এখন পুঁজিবাদ নির্ভর করে প্রোডাক্ট বানায় না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে ব্যবহার করে নিজেদের বানানো প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য বাজারে ট্রেন্ড সেট করে নেওয়া হয়। উদাহরণ রয়েছে আমাদের হাতের সামনেই। গোটা বিশ্বের তেল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি প্রায় নিঃশেষ করে এখন বিগ হাউজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন তারা জনসংখ্যার ব্যবসা করবে। মানে যে প্রোডাক্টই বানাক তা যাতে সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বড় বাজারে ছেড়ে দেওয়া যায়। সেজন্যেই নজর দক্ষিন এশিয়ায়। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনঘনত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যবসার সহায়ক সরকার যাতে থাকে অথবা না থাকলে তৈরি করে নেওয়ার মত ঘৃণ্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত দেখছি আমরা বারবার।

একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই নয়া সাম্রাজ্যবাদের প্রবল চাপ। তথ্য কার? প্রযুক্তির মালিকানা কার? এই প্রশ্নেই আপাতত ঘুরপাক খাবে পৃথিবীর সমস্ত সংঘাত। ডেটা ইজ দ্য নিউ কারেন্সি। ডেটা ইজ দ্য নিউ মিসাইল। ডেটার দখল কার হাতে থাকবে তার উপরেই নির্ভর করবে বিশ্বের দখল কার হাতে থাকবে। তাই এই ডেটার দখল নিতে থাবা বসিয়েছে পৃথিবীর সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। ভেবে দেখুন, আপনি একটা স্মার্টফোন কিনছেন। ফোনটা বানিয়েছে এক বহুজাতিক কোম্পানি। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আরেকটি কোম্পানির। সোশ্যাল মিডিয়া আরেক দেশের কোম্পানির। ক্লাউডে আপনার ছবি, নোট, মেসেজ—সব জমা হচ্ছে অন্য দেশের সার্ভারে। আপনি কোনো দেশের নাগরিক, কিন্তু আপনার প্রতিদিনের জীবন, কেনাকাটা, বিনোদন, তথ্য, এমনকি মতামতও ধীরে ধীরে গড়ে দিচ্ছে এমন কিছু শক্তি, যাদের আপনি চেনেনও না, ভোটও দেন না। কিন্তু তারা আপনার মনোভাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এটাই নয়া সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে নয়া কৌশল।

বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম মূল শিক্ষা হলো—শোষণকে কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বোঝার চেষ্টা করা। একজন শ্রমিকের কম মজুরি, একজন কৃষকের ঋণ, একজন শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত শিক্ষাব্যয় কিংবা একজন বেকারের হতাশা—এসব আলাদা আলাদা ঘটনা নয় – এগুলো বৃহত্তর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আর এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য দায়ী পুঁজিবার ও সাম্রাজ্যবাদের এই আনহোলি নেক্সাস। তাই আমাদের সকল ডিপ্রেশন, সমস্ত ফ্রাস্ট্রেশনের আসল কারণ হল এই দুইয়ের কোল্যাব। তাই হারাতে হবে একে। সরাতে হবে।

পৃথিবীর মানচিত্রে অসংখ্য সীমান্ত আছে। কিন্তু ক্ষুধার কোনো পাসপোর্ট নেই। বেকারত্বের কোনো ভিসা লাগে না। যুদ্ধের আগুন ধর্ম দেখে জ্বলে না। জলবায়ু পরিবর্তনও পতাকা দেখে আঘাত হানে না। তাই প্রতিরোধও ক্রমশ আন্তর্জাতিক হয়ে উঠছে। সেজন্যেই এক দেশের ছাত্র অন্য দেশের শ্রমিকের পাশে দাঁড়ায়। এক দেশের কৃষক অন্য দেশের পরিবেশ আন্দোলনের খবর রাখে। এক দেশের শিল্পী অন্য দেশের জন্য যুদ্ধবিরোধী গান গায়। মানুষই বোঝে — পৃথিবীকে ভাগ করা গেলেও মানবতার প্রশ্নকে ভাগ করা যায় না। আমাদের ভাগ করতে, আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে যে অস্ত্রকে ব্যবহার করতে চাওয়া হয়েছিল, এখন সেই অস্ত্রই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে আক্রমণকারীদের। গ্লোবাইলাইজেশনের দাপট ঠেকাতে অস্ত্র হয়েছে গ্লোবাল ইউনিটি। সারা পৃথিবীর তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মধ্যে কানেক্টেড। তারা বুঝতে পারছে সংকট একই। শত্রুও এক। তাই ঠেকাতেও হবে একসাথে।

ভারতবাসী ব্রিটিশকে তাড়িয়েছিল নানা মতের সমাহারেই। কাদের কৃতিত্ব বেশি তা নিয়ে আমাদের মধ্যে তর্ক থাকতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি যখন দাপট দেখাতে চায় তার বিপরীতে সবাইকে একজোট হতে হয়। আরএসএসের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর প্রতিরোধ স্বাভাবিকভাবেই কাছে এনে দিচ্ছে ইনকিলাব জিন্দাবাদ, জয় হিন্দ আর জয় ভীমকে। আমাদের শুধু মনে করিয়ে দেওয়া কাজ, যে সেদিনের সমস্ত বীর বিপ্লবীরা লড়েছিলেন, জান দিয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেই। তাই আজও ওরা ভয় পায় ‘আজাদি’র স্লোগানকেই। ঠেকাতে চায়। ভয় দেখাতে চায়। ভারত ভয় পায়নি। মানুষ ভয় পায় না। সেদিনও এই দেশের তৎকালীন জেন-জি এক বুক সাহস নিয়ে স্লোগান দিয়েছিল আজাদির। বৃটিশরা ভয় পেয়েছিল, আজও ভয় পায় তাদের দালালরা। আর এই ভয় আমাদের ভালো লাগে। এই ভয় আমাদের মাথার তাজ। আজাদি যত এগোবে সাম্রাজ্যবাদ তত পেছোবে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *