ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম ও নব্য-সাম্রাজ্যবাদ : হিটলারের ছায়া থেকে ট্রাম্প ও মোদী

সাম্রাজ্যবাদের এই জয়গান কেবল উত্তর মেরুতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আজ ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন যুদ্ধে মার্কিন নগ্ন সমর্থনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনের গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তাকে ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সমর্থনই করছে না, বরং তাকে একবিংশ শতাব্দীর ‘লেবেনস্রাউম’ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জায়নবাদী আগ্রাসন আর ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—উভয়ই বিশ্বাস করে যে শক্তির জোরে দুর্বলকে পিষে ফেলাই হলো শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

আমরা আজ ইতিহাসের এমন এক বিষাক্ত ও সংঘাতময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে গণতন্ত্রের খোলসটি খসে পড়ে ফ্যাসিবাদের এক কদর্য রূপ আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের সেই কাল্পনিক ‘সিভিল ওয়ার’ চলচ্চিত্রটি আজ ২০২৬ সালের আমেরিকার রাজপথে এক নির্মম, রক্তঝরা বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আজ মার্কিন মুলুকে যা ঘটছে, তা কেবল কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নয়; এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক উগ্র দক্ষিণপন্থী ও সাম্রাজ্যবাদী মহামারীর বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাসের চাকা যখন ঘুরে ফিরে একই অন্ধকার গহ্বরের দিকে ধাবিত হয়, তখন তাকে আর ‘কাকতালীয়’ বলার সুযোগ থাকে না। যে আগুনের লেলিহান শিখা ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিকে গ্রাস করেছিল, আজ সেই একই শিখা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, নরেন্দ্র মোদীর ‘নতুন ভারত’ এবং জায়নবাদী ও নব্য-সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আস্ফালনের অন্তরালে দাউদাউ করে জ্বলছে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনতন্ত্র, হিটলারের নাৎসি ফর্মুলা এবং সমসাময়িক ভারতের রাজনৈতিক মেরুকরণ একই সূত্রে গাঁথা এবং কীভাবে এই শক্তিগুলো বিশ্বকে এক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

বামপন্থী দর্শনে আমরা রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ক বাহিনীকে সবসময়ই শোষক শ্রেণির লাঠিয়াল হিসেবে চিনেছি। বর্তমানে আমেরিকার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইস (ICE) কোনো সাধারণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়; এটি এখন পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট এক সন্ত্রাসী বাহিনীতে। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯২১ সালে অ্যাডলফ হিটলার তার ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করতে ‘ব্রাউন শার্টস’ বা এসএ (SA) গঠন করেছিলেন। তাদের কাজ ছিল রাজপথে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা। আজকের আইস-ও ঠিক সেই একই মডেলে কাজ করছে। তারা কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ছে, স্কুল থেকে শিশুদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং এমনকি নেটিভ আমেরিকানদেরও ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে হেনস্তা করছে। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আইস এখন ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী বা ‘প্রাইভেট আর্মি’ হিসেবে কাজ করছে, যারা বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে বা যেখানে ভিন্নমতের শক্ত অবস্থান, সেখানে বেশি সক্রিয়। এটি ঠিক নাৎসি জার্মানির ‘গেস্টাপো’ বাহিনীর আধুনিক সংস্করণ, যারা আইনের তোয়াক্কা না করে কেবল একনায়কের খেয়ালখুশি চরিতার্থ করে।

ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা ভিকটিম বা শিকারকে অপরাধী হিসেবে সাজায় এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে ‘আইন-শৃঙ্খলা’ হিসেবে চালিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৭ই জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে ৩৭ বছর বয়সী কবি ও মা রেনে নিকোল গুডকে যখন আইস এজেন্ট জনাথন রস প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করেন, তখন আমরা রাষ্ট্রযন্ত্রের সেই কুৎসিত চেহারাটি আবারও দেখতে পাই। রেনে নিরস্ত্র ছিলেন, অথচ হোয়াইট হাউস তাকে একজন ‘ডোমেস্টিক টেরোরিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ট্রাম্পের নির্লজ্জ সাফাই ছিল— “She was disrespectful”। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতি সামান্যতম অসম্মান প্রদর্শন করলে আপনাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এটি একটি টোটালিটারিয়ান বা সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের স্পষ্ট লক্ষণ। ভারতেও আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিবাদী ছাত্র, শ্রমিক এবং বুদ্ধিজীবীদের ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘আরবান নকশাল’ তকমা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের রক্ষা করার বদলে তাদের ওপর বুট তুলে দেয়, তখন বুঝতে হবে ফ্যাসিবাদের সূর্য মধ্যগগনে। এই শাসকরা সবসময়ই প্রতিবাদী কণ্ঠকে ভয় পায়, কারণ সত্য তাদের মিথ্যার সাম্রাজ্যকে তছনছ করে দিতে পারে।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মুনরো একটি নীতি ঘোষণা করেছিলেন যা ‘মুনরো ডকট্রিন’ নামে পরিচিত ছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল লাতিন আমেরিকায় ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ ঠেকানো, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল সেই অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নীল নকশা। ২০২৬ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আমরা দেখছি এক ভয়ংকর বিবর্তন, যাকে তাত্ত্বিকরা ব্যঙ্গ করে বলছেন ‘ডানরো ডকট্রিন’ (Dunro Doctrine)। এটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘোষণা— “আমরা যা করেছি, তা-ই চূড়ান্ত”। এই ডকট্রিনের অধীনেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ‘ক্যাপচার’ করার বা কেনার এক উদ্ভট ও সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, যা বিংশ শতাব্দীর ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও হার মানায়। এটি কেবল জমি দখল নয়, বরং প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের এক আধুনিক দস্যুতা। হিটলারের যেমন ছিল ‘লেবেনস্রাউম’ বা জার্মানির জন্য বাড়তি বাসযোগ্য স্থানের নেশা, ট্রাম্পের রয়েছে সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের সেই একই আর্য-শ্রেষ্ঠত্ববাদী ক্ষুধা।

সাম্রাজ্যবাদের এই জয়গান কেবল উত্তর মেরুতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আজ ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন যুদ্ধে মার্কিন নগ্ন সমর্থনের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনের গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তাকে ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সমর্থনই করছে না, বরং তাকে একবিংশ শতাব্দীর ‘লেবেনস্রাউম’ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জায়নবাদী আগ্রাসন আর ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—উভয়ই বিশ্বাস করে যে শক্তির জোরে দুর্বলকে পিষে ফেলাই হলো শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। ভেনেজুয়েলায় তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে যে ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আমেরিকা তৈরি করছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সিআইএ-র সেই পুরনো দিনগুলোর কথা, যেখানে তারা একের পর এক গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে স্বৈরাচার বসিয়েছিল। ট্রাম্পের এই ‘ডানরো ডকট্রিন’ আজ বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি মূলত ‘Us vs. Them’ বা ‘আমরা বনাম ওরা’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘৮০-২০ গেম’ যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয় যে অভিবাসীরা তাদের শত্রু। হিটলার ঠিক একইভাবে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। আজকের ভারতেও কি আমরা একই চিত্র দেখছি না? সেখানেও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’র নাম করে ঘৃণা ছড়িয়ে ভোট ব্যাংকের মেরুকরণ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানটি আদতে হিটলারের সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনার আধুনিক সংস্করণ। এই শাসকরা মানুষকে চাকরির অভাব বা মুদ্রাস্ফীতির মতো বাস্তব সমস্যা থেকে চোখ ফিরিয়ে কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত রাখে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্সের নিজেদের স্ত্রীরাই কিন্তু অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা। এটি প্রমাণ করে যে তাদের লড়াই কোনো আদর্শের জন্য নয়, বরং ক্ষমতার চূড়ান্ত মেরুকরণের জন্য। এটিই হলো ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত ভণ্ডামি।

বুঝতে হবে আইস-এর এই বর্বরতা বা বিদেশে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ — এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের এক গভীর মাস্টার প্ল্যান। তিনি চাইছেন দেশজুড়ে এবং বিশ্বজুড়ে এক চরম নৈরাজ্য বা ‘Chaos’ সৃষ্টি করতে। যখন মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নামবে, যখন দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়বে, তখনই ট্রাম্প সেই সুযোগটি নেবেন। তিনি ‘ল অ্যান্ড অর্ডার’ রক্ষার দোহাই দিয়ে দেশে ‘মার্শাল ল’ বা সামরিক শাসন জারি করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে ২০২৯ সাল বা তার পরেও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারেন। এই কৌশলটি হিটলারের সেই কুখ্যাত কৌশলের সাথে হুবহু মিলে যায়, যেখানে তিনি রাইখস্ট্যাগ অগ্নিকাণ্ডের পর নিজেকে একমাত্র উদ্ধারকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ট্রাম্পও এখন ‘আপদকে সম্পদে’ রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন। ২০২৬-এর মিড-টার্ম নির্বাচনে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচতে তারা এই ভয়াবহ পথ বেছে নিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নাৎসি জার্মানির প্রভাব এতটাই প্রকট যে মার্কিন শ্রম দপ্তর থেকে সম্প্রতি টুইট করা হয়েছে— “One Homeland, One People, One Heritage”। এটি হিটলারের সেই ভয়ংকর স্লোগান “Ein Volk, Ein Reich, Ein Führer” (এক জাতি, এক রাষ্ট্র, এক নেতা)-এর হুবহু নকল। ভারতের রাজনীতিতেও আমরা ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বা ‘এক জাতি, এক ভাষা’-র মতো এককেন্দ্রিক স্লোগান দেখতে পাই, যা বৈচিত্র্যময় একটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার প্রাথমিক ধাপ। ফ্যাসিস্টরা সবসময়ই বৈচিত্র্যকে ভয় পায়, কারণ বৈচিত্র্য মানেই ভিন্নমত। তাই তারা ইউনিফর্মিটি বা একমুখিতা চাপিয়ে দিতে চায়। ট্রাম্প যেমন বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছেন, ভারতের বর্তমান সরকারও ঠিক একইভাবে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টিন নোয়েম আইস-এর বর্বরতাকে সমর্থন করতে গিয়ে যে স্লোগানটি ব্যবহার করেছেন— “One of ours, all of yours”—তা আমাদের হাড় হিম করে দেয়। এটি ১৯৪২ সালে নাৎসি নেতা রেইনহার্ড হাইড্রিকের মৃত্যুর পর নাৎসিদের ব্যবহৃত প্রতিশোধমূলক ভাষা। আজ আমেরিকায় সেই একই প্রতিহিংসার ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নির্দেশ করে যে সরকারি বাহিনীর কোনো গায়ে আঁচ লাগলে তারা পুরো দেশ জ্বালিয়ে দেবে।

তবে ইতিহাসের ডাস্টবিনে হিটলারের মতো একনায়কদের স্থান হয়েছে, ট্রাম্প বা মোদীদেরও তাই হবে। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে শুরু করে মিনিয়াপলিস পর্যন্ত আজ হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছে। তারা চিৎকার করে বলছে— “Justice for Rene,” “ICE Out,” এবং “Trump Must Go”। একজন বামপন্থী কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের শেষ নিয়ন্ত্রণ আদালতের হাতে নয়, বরং জনগণের হাতে। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানির মানুষের কাছে কোনো উদাহরণ ছিল না, কিন্তু আমাদের কাছে ৯০ বছরের ইতিহাস আছে। আমরা জানি ফ্যাসিবাদের শেষ কোথায়। গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আমেরিকার রাজপথ—নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর আজ এক হয়ে মিশেছে। আজ আমেরিকার সাধারণ নাগরিকরা লজ্জিত, তারা বিশ্ববাসীকে এই মুহূর্তে আমেরিকায় আসতে নিষেধ করছে এবং এমনকি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করার দাবিও উঠছে। এটিই হলো জাগ্রত জনমতের শক্তি।

উপসংহারে বলা যায়, ট্রাম্প, হিটলার এবং মোদী—এই তিন শক্তির অভিন্ন লক্ষ্য হলো কর্পোরেট-রাষ্ট্রীয় আঁতাতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করা, প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা এবং ঘৃণা ছড়িয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা বা ভেনেজুয়েলায় হামলা—এসবই সেই একই সাম্রাজ্যবাদী লালসার বহিঃপ্রকাশ যা পৃথিবীকে বার বার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, আইস কেবল একটি যন্ত্র; লড়াইটা হলো এই পচা-গলা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। আমাদের এই লড়াই কেবল ইমিগ্র্যান্টদের জন্য নয়, এটি আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের সংবিধান এবং আমাদের মানবতার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পুঁজিবাদ যখন চূড়ান্ত সংকটে পড়ে, তখন সে ফ্যাসিবাদের কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়। আজ বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের যে সংকট, তারই ফসল এই নব্য ফ্যাসিস্টরা। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো—জনগণের মিলিত শক্তির সামনে কোনো স্বৈরাচারীই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। ফ্যাসিবাদের পতন অনিবার্য, এবং সেই পতনের ঘণ্টা বাজাবে রাজপথের লড়াকু জনতা।

ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক! সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক! জনগণের জয় হোক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *