আমাজিঘিচ্যুড, আফ্রিকা ও আফকন
দীপ্রভ সিংহ রায়
“Bafana Bafana”, একটি জুলু অভিব্যক্তি, যার আক্ষরিক অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “ছেলেরা, ছেলেরা”। সাংবাদিক সবু মেসেলেকু, ১৯৯২ এর “post apartheid” সময়কালে, একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন, তরুণ, অনভিজ্ঞ(inexperienced) অথচ প্রাণবন্ত(energetic) একটি দলকে সম্বোধন করতে ব্যবহৃত করেছিলেন উল্লেখিত শব্দসমষ্টি। আর আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন, বিশ্ব রাজনীতি, সামাজিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সংহতির এক শক্তিশালী শব্দবন্ধ এই “বাফানা, বাফানা”।
হাজার হাজার বছর ধরে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ও উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়াইয়ে, সারা বিশ্বজুড়ে অধিকারবঞ্চিত মানুষের আন্দোলনে এক প্রকৃত প্রেরণার উৎস আফ্রিকা। পরাধীনতা, শোষণ, লুঠতরাজ, দাসত্ব, ভাগ বাটোয়ারা, প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস সবকিছুর, বর্বরতা এর উর্দ্ধে গোটা বিশ্বের সামনে অসভ্য, অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ রূপে দাঁড়িয়ে ছিল আফ্রিকা। ঔপনিবেশিক শক্তির অবদমন আর বিশ্বমঞ্চ থেকে আফ্রিকার ক্রীড়া প্রতিভা মুছে ফেলার এক গভীর নীলকশা; যা মূলত কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলিটদের বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে সরিয়ে রাখারই এক মরিয়া প্রচেষ্টা। তবে তাতে বিশেষ লাভ কিছু হয়নি, থেমে থাকেনি আফ্রিকা বা দমে যায়নি সেইসব প্রতিভা। আফ্রিকার মাটি জন্ম দিয়েছে একাধিক তারকার, সাক্ষী একাধিক ঘটনার। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে মরক্কোর বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলা, ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুন এর পারফরমেন্স, ২০০৮ এর নর্থ লন্ডন ডার্বির মাঠে ২৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৩ জন আফ্রিকান প্লেয়ারের উপস্থিতি, আরও কত কি! তবে ২০০৮ হোক কি ২০২২ সাল, এই যাত্রাপথটি মোটেও সহজ ছিল না; উপনিবেশবাদ, পুঁজিবাদ এবং কর্পোরেটদের বাণিজ্যিক প্রভাব কাটিয়েই আজকের আফ্রিকা নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।
আফ্রিকা মহাদেশের মানচিত্রে, প্রথম আফ্রিকান “footballing power” ছিল মিশর, যেখানে ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ দখলদার বাহিনীর আগমনের সাথে প্রথম এই খেলার সূচনা হয়। কায়রোতে ব্রিটিশদের উদ্যোগে ১৯০৩ সালে প্রথম ফুটবল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯০৭ এ “আল আহলি” ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়, যা পরবর্তীতে আফ্রিকার অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় ক্লাবগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। আফ্রিকার প্রথম স্বাধীন জাতীয় ফুটবল সমিতি ১৯২১ সালে কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯২৩ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ইজিপ্ট এর ফিফায় যোগদান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে, যখন ব্রিটেনে কলোনিয়াল ইমিগ্রেশন এর ঢল নামতে শুরু করে, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা ইংল্যান্ডে খেলতে শুরু করে। যদিও, ফরাসি সরকারের সহায়তা, আফ্রিকার ফুটবলকে অনেকটা জনপ্রিয়তা দিয়েছে, যার ফলস্বরূপ মাগরেব, এই উপমহাদেশের মধ্যে সবথেকে বেশি আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করেছিল। ১৯৩৮ সালের শুরুতে, প্রায় ১৪৭ জন আফ্রিকান, ফ্রান্সের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডিভিশন এর লিগে খেলেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লার্বি বেন বারেক। কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবল তারকাদের মধ্যে অন্যতম এই বারেক, ফ্রান্সের ন্যাশনাল টিম এর হয়েও বুট পড়েছিলেন। সেসময়কার অলিম্পিকের আরেক স্বনামধন্য খেলোয়াড় ছিলেন আহমেদ বেন বেলা, যিনি পরবর্তীতে স্বাধীন আলজেরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কেবল ফ্রান্স না, পর্তুগালও তাঁর উপনিবেশগুলির পাশে এসে দাঁড়ায়। ১৯৬৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্তুগিজ তারকা ছিলেন ইউসেবিও দা সিলভা ফেরেইরা, যার খেলাধুলার শুরুটা হয়েছিল স্পোর্টিং ক্লাব লরেঙ্কো মার্কেসের সাথে, যা আজকের মাপুতো। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের অভিজাত খেলার প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে দূরত্বের পাশাপাশি সীমিত নগরায়ন ও অনুন্নত শিক্ষা কাঠামো এর জন্য দায়ী ছিল। তাছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য স্থানে ফুটবলের প্রসারে যে চালিকাশক্তি ভূমিকা রেখেছিল, আফ্রিকার ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত ছিল।
১৮৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে গড়ে ওঠে, South African Football Association(SAFA), যা ছিল ইংলিশ FA এর দ্বারা অনুমোদিত, কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য উন্মুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এর পূর্বে, ১৮৮২ নাগাদ, সেইসময় তিনটি শ্বেতাঙ্গ ক্লাব গড়ে উঠেছিল, উমেগি স্টার্স, ডারবান আলফাস, নাটাল ওয়াস্পস, যেগুলি মিলে “Natal Football Association” তৈরি হয়েছিল। প্রধান সমস্যা এখনও সেই বর্ণভেদ(Racism), খেলাধুলা কর্মক্ষেত্র সবকিছুতেই সাদা চামড়ার মানুষদের প্রাধান্য দেওয়া আর কৃষ্ণাঙ্গদের সময়ের যাঁতাকলে পিষে মেরে দেওয়া। ১৯১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর, SAFA, FIFA এর স্বাধীন সদস্য হয়ে ওঠে। ১৯৫১ তে FASA (Football Association of South Africa, যা পূর্বে SAFA নামে পরিচিত) এর প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংগঠন, SASF (South African Soccer Fedaration) এর জন্ম হয়, যা মহাদেশের জনসংখ্যার ৮০% এরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে। FASA ছিল “Apartheid” নীতির (দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বপ্রচলিত বর্ণবৈষম্য নীতি) সমর্থক। যদিও, FIFA, FASA কেই অনুমোদন এবং স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ছিল। ১৯৫৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রথম AFCON এর প্রবেশের জন্য আবেদন করে, কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়, এই মর্মে যে, তাঁরা কোনো মিশ্র জাতির দল গঠনের পক্ষে না। পৃথকীকরণ সত্ত্বেও, বিংশ শতাব্দীর সময়কালে, কালো চামড়ার শহুরে শ্রমিক শ্রেণীর উত্থানের ফলে, ফুটবল ক্রমশ কৃষ্ণাঙ্গদের খেলা হয়ে ওঠে। “Soweto” নামের জোহানেসবার্গের ঘেটোটি কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলের মক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়। শ্বেতাঙ্গদের জন্য, FASA গঠন করে NPFL(National Professional Football League), যার বিপরীতে গড়ে উঠেছিল SASL(South African Soccer League)। ১৯৫৭ য় আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এর জন্ম হয়, নাম “Confédération Africaine de Football (CAF)”। উগ্রবাদী বর্ণবাদ নীতির সমর্থনকারী FASA কে প্রথমে CAF থেকে বহিস্কার এবং পরবর্তীতে FIFA কতৃর্ক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। বলাবাহুল্য, তৎকালীন FIFA সভাপতি স্যার স্ট্যানলি রাউস, বহুসময় ধরে FASA কে নিজের অধীনস্থ রেখেছিলেন। ১৯৬৮ সালে, তিনি “South African Non-Racial Olympic Committee (SANROC)” এর প্রতিনিধিদের “more interested in communist politics than football” বলে অভিযুক্ত করেন। বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, FASA হোক কি রাউস, উভয়ই “Pro-apartheid”! রাউসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ব্রাজিলের জোয়াও হ্যাভেলঞ্জ। ১৯৭৬ সালের ফিফা কংগ্রেসে, হ্যাভেলাঞ্জ ইংরেজদের বিরোধিতা করেন, যার ফলস্বরূপ আফ্রিকান প্রতিনিধিদের দ্বারা নতুন ফিফা বস নির্বাচিত হন এবং ফিফা, দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমস্ত প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে প্রায়, ১৬ বছর পর, আবার ১৯৯২ সালে বর্ণবাদের অবসানের মধ্যে দিয়ে ফিফা দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যুক্ত হয়। ৯৪ সালের মাথায়, FASA, SASF এবং আরও দুটি সংস্থা মিলে “South African Football Association” (SAFA) গঠন করে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্ত জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।
★Negritude, Amazighitude এবং AFCON★
আফ্রিকার রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়াঙ্গনের এক সমন্বয় হলো নেগ্রিচ্যুড (Negritude), আমাজিঘিচ্যুড (Amazighitude) এবং AFCON। “Negritude” এর অর্থ কৃষ্ণত্ববাদ। এটি ছিল ১৯৩০ এর দশকে প্যারিসে অবস্থানরত ফরাসিভাষী কৃষ্ণাঙ্গ লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া একটি সাহিত্যিক এবং আদর্শিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে ছিলেন সেনেগালের প্রথম প্রেসিডেন্ট লিওপোল্ড সেদার সেংঘর, এমে সেজায়ার প্রমূখ। এর মূলে ছিল ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ফরাসি আত্তীকরণ নীতির প্রত্যাখ্যান, পশ্চিমা যুক্তিবাদ এবং শিল্পবাদের প্রতিসাম্য হিসেবে আফ্রিকান ঐতিহ্যের উদযাপন, প্যান-আফ্রিকানিজম। অন্যদিকে, “Amazighitude” ছিল উত্তর আফ্রিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী “আমাজিঘ” (যাদের বার্বার বলা হয়) -দের সংস্কৃতি এবং ইতিহাস রক্ষার আন্দোলন। এর মূল উদ্যেশ্য ছিল, উত্তর আফ্রিকায় আরবিকরণ বা ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসা আমাজিঘ ভাষা এবং তাঁদের প্রাচীন ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার। “AFCON” এর শুরুয়াত ১৯৫৭ তে, খার্তুম এ। খেলাধুলার বাইরে, আফ্রিকার অন্যতম এক রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল এই AFCON। এছাড়াও আফ্রিকার মানুষের জন্য নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের একটি বৈশ্বিক মঞ্চ। তৎকালীন সময়ে বর্ণবাদ পন্থী দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারকে এই টুর্নামেন্ট থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল, যা ছিল নেগ্রিচ্যুড আদর্শের এক বাস্তব প্রতিফলন। ঔপনিবেশিক আমল থেকে প্রাপ্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে আদিবাসী ঐতিহ্যের অভাব থাকায়, স্বাধীন আফ্রিকার রাষ্ট্রনায়করা তাদের বহুধা বিভক্ত জনগণের মাঝে সংহতি তৈরির লক্ষ্যে ফুটবল দলগুলোকে সাজাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ,
(ক)দক্ষিণ আফ্রিকার ঐক্যের প্রতীক: ১৯৯৬ সালে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বহুজাতিভিত্তিক ফুটবল দলের শিরোপা জয় ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বর্ণবাদ পরবর্তী সময়ে দেশটির চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভেদ দূর করতে এবং জাতীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে ফুটবলের এই বিজয়কে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়েছিল।
(খ)আলজেরিয়ার রাজনৈতিক সংকট: বিপরীতে, ১৯৯০ সালে আলজেরিয়া চ্যাম্পিয়ন হলেও সরকার সেই সাফল্যকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। কারণ, আলজিয়ার্সের রাজপথে বিজয় উদযাপনের সময় সমর্থকরা তৎকালীন বিরোধী দল ‘ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট’-এর পক্ষে স্লোগান দিয়ে সরকারের প্রতি তাদের অনাস্থা প্রকাশ করেছিল।
(গ)টোগো ও ক্যাবিন্ডার ট্র্যাজেডি: ২০১০ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা টুর্নামেন্টের আনন্দকে শোকে পরিণত করে। অ্যাঙ্গোলার ক্যাবিন্ডা অঞ্চলে যাওয়ার পথে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে টোগো জাতীয় দলের বাস চালকসহ দুই কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ভয়াবহ হামলার জেরে টোগো টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং প্রতিযোগিতাটি ১৫টি দল নিয়ে সম্পন্ন হয়।
সম্প্রতি, ২০২৫-২৬ এ AFCON মরক্কোয় আয়োজিত হয়েছে। মরক্কোর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফুটবল অগ্রাধিকার পাবে কি না— এই বিতর্কের মাঝে AFCON এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া ট্রান্স-কন্টিনেন্টাল বা আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের দিগন্তগুলোকে উপেক্ষা করার কোনোরূপ অবকাশ নেই। AFCON এর ময়দানে, সেনেগালিজ ঢোল (নেগ্রিচ্যুড) এবং উত্তর আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী জেলিজি শিল্প বা আমাজিঘ সঙ্গীতের অপরূপ সংমিশ্রণ দেখা যায়। আগে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো (মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া) নিজেদের খানিকটা মধ্যপ্রাচ্যের অংশ বলে মনে করত। কিন্তু, সাম্প্রতিক বছর গুলোতে এই খেলার মাধ্যমে তাঁরা তাদের আফ্রিকান পরিচয় বা “Amazighitude” কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। “Negritude” শিখিয়েছে আত্মমর্যাদা, “Amazighitude” শিখিয়েছে শিকড়ের টান, আর AFCON সেই মর্যাদা ও টানকে বিশ্বমঞ্চে উদযাপন করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এর মাধ্যমেই, আজকের আধুনিক আফ্রিকা তার হাজার বছরের বঞ্চনা ভুলে একতাবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে জাতপাত, বর্ণবাদের ঊর্ধ্বে ফুটবল মাঠের আবেগ, আফ্রিকান সত্ত্বা (Africanhood) সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে, ঠিক যেমনটা ডেভিড দিওপ লিখেছিলেন,
“…That is Africa, your Africa
That grows again patiently, obstinately…”