আজ ইনকিলাবের দিন

গত কয়েক দশক ধরেই দেখা যাচ্ছে ভগৎ সিং-কে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক / অরাজনৈতিক সংঘগুলির দড়ি টানাটানি খেলা। সরকারি – বেসরকারি, প্রগতিশীল, আধা – প্রগতিশীল, দক্ষিণপন্থী – চরম দক্ষিণপন্থী, আধাবামপন্থী সকলেরই দাবি ভগৎ সিং তাদের। তারাই ভগৎ সিং – এর প্রকৃত উত্তরাধিকার। এদের দাবি করায় কোনো দোষ নেই। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। ভগৎ সিং কি ভাবতেন, কেন ভাবতেন এবং কেমন করে ভাবতেন – এসব প্রশ্নে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তাদের মূল আগ্রহ শহীদ সম্রাট ভগৎ সিং নামক বিপ্লবীকে নির্বাচনী স্বার্থে নিজেদের মান্য প্রতিমা হিসেবে তুলে ধরা। কিন্তু চাইলেই কি পাওয়া যায়?? ফলে শুরু হয় ট্যাগ অভ ওয়ার! তাঁকে পকেটে পোরার লড়াই! আর এসব যখন চলে তখন প্রায় সকলের অলক্ষ্যে ভগৎ সিং -এর লেখাগুলো এদের দিকে বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে থাকে। ভগৎ সিং যেসব বিষয়কে সমর্থন করতেন, এরা সে ভাবনা থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন। তিনি যে মত বা রাজনীতিক / অর্থনৈতিক শ্রেণীকে ঘৃণা করতেন, এদের কাছে সেই মতগুলোই অনুসরণযোগ্য, আর সেই ঘৃনীত পুঁজিপতিরাই পূজনীয়। যে শোষনমূলক শ্রেণীসমাজ- রাষ্ট্র ও ব্রাহ্মণ্যবাদ বর্ণ-জাতিভেদকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিলেন এরা তাদেরই প্রধান উপাসক। তিনি ঈশ্বরের স্থানে মানুষকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, এরা সেই মানুষকে এমন একটা বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে যেখানে মানুষ বাধ্য হচ্ছে ঈশ্বর ও ধর্মের দাসত্ব গ্রহণ করতে। তার মুক্তচিন্তা বুদ্ধির, মুক্তি বাস্তববাদ আজ এদের হাতে ভূলুণ্ঠিত। তার অস্ত্রগুলোকে ব্যবহার করতে হবে – এটাই সময়ের দাবি।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের শুরুয়াত –

১৮৫৭- ৫৮ মহাবিদ্রোহের পর ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে, আর শুরু হয় ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ শাসন। নতুন ব্যবস্থা শাসনের নীতির ক্ষেত্রে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সাবেকি পদ্ধতি ত্যাগ করলো। যেমন – নানা অজুহাতে দেশীয় সামন্ত রাজ্যগুলিকে দখল করার পরিবর্তে রাজা-মহারাজা ও জমিদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দিকেই ব্রিটিশ সরকার নজর দিল। সামন্তরাজা ও জমিদারদের অবাধ কৃষক শোষণের অধিকার দেওয়া হল। ফলত সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সঙ্গে জুড়ে নেওয়া হলো দেশীয় সামন্তপ্রভুদের। ব্রিটিশ স্বার্থের সহায়ক সামন্তরাজারা ছিল ভারতীয় জনগণের অন্যতম প্রধান শত্রু। অপরদিকে উপনিবেশিক শাসনের গর্ভে বণিক ও শিল্পপতিদের আবির্ভাব ঘটতে থাকে। এরা তাই ব্রিটিশ পুঁজির আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য ছিল। আর শিল্পপতি শ্রেণীর একটি সহায়ক শ্রেণীর আবির্ভাব ততদিনে ঘুরতে শুরু করেছে। এরা ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যেমন – উকিল,চিকিৎসক, শিক্ষক,সাংবাদিক, শিল্প-পরিচালক ইত্যাদি। তবে উনবিংশ শতাব্দী দ্বিতীয় ভাগে এদের অবস্থাও ধীরে ধীরে সংকটপন্ন হয়ে পড়তে থাকে। ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে হাজারে হাজারে শিক্ষিত বেকারের আবির্ভাব ঘটে। স্কুল কলেজ আদালত প্রশাসন সর্বক্ষেত্রেই ভারতীয় শিক্ষিত শ্রেণী নানাভাবে ইংরেজদের দ্বারা অপমানিত ও বঞ্চিত হয়। ব্রিটিশ সরকারের একের পর এক অপমানকর নীতি এবং ভারতীয়দের অধিকার খর্ব করা হতে থাকে। ব্রিটিশ ও সামন্ত রাজাদের যৌথ শোষণে ভারতের একদা সমৃদ্ধ কৃষকও ভিকারীতে পরিণত হয়। এর ফলে দুর্ভিক্ষের আবির্ভাব ঘটে এবং প্রায় কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। এই ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি ও কৃষক সম্প্রদায়। বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়। বাংলায় নীল বিদ্রোহ,সুন্দরবন অঞ্চলের বিদ্রোহ, সিরাজগঞ্জ বিদ্রোহ, যশোরের নীল বিদ্রোহ, রাচির আদিবাসী কোলচাষীদের বিদ্রোহ, মুন্ডা বিদ্রোহ ইত্যাদি। ১৮৬২ তে হাওড়ায় রেল শ্রমিকটা ধর্মঘটের ডাক দেন। ১৮৮২ থেকে ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বোম্বাই,মাদ্রাজ ও বাংলায় কয়েকটি বড় সব ধরনের ধর্মঘট সংঘটিত হয়। শ্রমিকদের দাবি ছিল ৮ ঘণ্টা কাজের সময়। এইরকম একাধিক কৃষক শ্রমিক আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে করতে থাকে। ভারত ধীরে ধীরে একটা বারুদের স্তুপে পরিণত হয়। আসন্ন বিদ্রোহের ভয় ব্রিটিশ শক্তি আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজন পড়লো একটি জাতীয় স্তরের হাতিয়ারের যার মাধ্যমে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে প্রশমিত করা যাবে। তৈরি হলো ভারতের জাতীয় কংগ্রেস,১৮৮৫।

কংগ্রেস গঠনের পেছনে যে লক্ষ্য ছিল তার স্পষ্ট। ভারতে যে বৈপ্লবিক অসন্তোষ ঠেকানো নিরাপত্তা যন্ত্র হিসেবে কংগ্রেস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে ইউম পরিকল্পনা করেছিল। ব্রিটিশ শক্তির উদ্দেশ্য সফল হলো। কংগ্রেস গঠনের মধ্যে দিয়ে একদিকে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও আইনিসভার নির্বাচনের মধ্যে আটকে রাখা গেল। তেমনি কৃষক আন্দোলনগুলির সঙ্গে সংযোগ ঘটানো সম্ভাবনাও কমে গেলো। কংগ্রেসের শেষ সময়কার দাবিগুলি ছিল স্বশ্রেণীর স্বার্থবাহী। কিন্তু তারা কখনোই স্বরাজের কথা ভাবতে পারেনি। উপনিবেশের অবসান, স্বাধীনতা ইত্যাদি তাদের কাছে তখন অচিন্তনীয়। কংগ্রেসের নেতারা ব্রিটিশ সরকারের কাছে নানা দাবি উত্থাপন করতেন আর সরকার তা অবজ্ঞা করতো, সরকারের অবক্ষা উপেক্ষা অপমানের বিরুদ্ধে এই নেতারা কোনদিনই আবেদন নিবেদন বাদ দিয়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের কথা ভাবেনি বা গড়ে তোলেনি। কংগ্রেসের এই মেরুদণ্ডহীনতার শিক্ষিত মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর একাংশ বিরক্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে দিয়েই ভারতের নতুন রাজনৈতিক চিন্তার স্ফুরন ঘটে।

আবির্ভাব ঘটে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের।

আবেদন নিবেদনের রাজনীতি পরিত্যক্ত হয়।

শুরু হয় সশস্ত্র বিপ্লবের সংগ্রামের ইতিহাস।

মতাদর্শের ফেরিওয়ালা –

১৯২০ এর দশকে উত্তর ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে দেশ বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য। প্রথমত জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যা (১৯১৯) সহ ব্রিটিশ সরকারের বর্বর দমন-পীড়ন। দ্বিতীয়ত, অসহযোগ আন্দোলনের বর্বরতা ও গান্ধীর ব্রিটিশ তোষণনীতি। তৃতীয়ত রুশ বিপ্লব ও মার্কসবাদী ধ্যান ধারণার প্রসার, চতুর্থত, বিপান চন্দ্রের মতে, ‘সোভিয়েত প্রভাবের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য নেওয়া’। ১৯২৬ সালে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের আশফাকুল্লাহ রাশিয়া যাবার পরিকল্পনা করার সময় কারোরি ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন। ১৯২৮ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত হিন্দুস্তান সোশালি রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন বিজয় কুমার সিংহকে সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। পঞ্চমত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রমিক শ্রেণীর জাগরণ, সশস্ত্র বিপ্লবীদের উদীয়মান নেতারা ছাড়া প্রবীণ নেতাদের অনেকেই এই নতুন সামাজিক শক্তির মধ্যে নতুন বৈপ্লবিক সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এবং তাকে জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিপ্লবীরা গড়ে তোলেন নওজোয়ান ভারতসভা। ১৯২৬ এ গড়ে তোলায় প্রকাশ্য সংগঠনটির মূল কারিগর ছিলেন ভগৎ সিং। নওজোয়ান ভারত সভার ইস্তেহারে রাশিয়ার পথকেই অনুসরণযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইশতেহারে সুস্পষ্ট ঘোষণা – ‘ মহান রাশিয়ায় আজ সারা পৃথিবীতে মুক্তির পথ দেখাচ্ছে’।

এই ইস্তেহারেই নির্দেশিত হয়েছে তাদের লক্ষ্য – ‘জনগণের স্বার্থে গণ বিপ্লব ‘। অর্থাৎ দেশের নব্বই ভাগ মানুষের কাছে স্বাধীনতাকে পৌঁছে দিতে হবে। স্বাধীনতা শুধু পেলেই হবে না, জনগণের স্বার্থেই স্বাধীনতাকে চালিত করতে হবে। দেশের ছাত্র – যুবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে, মেহনতি মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বিপ্লবের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশানের মত ভারত সভার ইশতেহারে সমাজতন্ত্রকে সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা না হলেও, পরোক্ষভাবে তাকেই মেনে নেওয়া হয়েছিল। তার প্রমাণ সোভিয়েত ইউনিয়নের পথকেই অনুকরণযোগ্য ও অনুসরণযোগ্য বলে ঘোষণা।

শুধুমাত্র তাই নয় ১৯২৬ শে ভগৎ সিং এর বয়স যখন মাত্র ১৯ বছর। সেই বয়সেই তিনি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সেকুলারবাদ ও বস্তুবাদ এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এর ধারণা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তার কাজের মাধ্যমে। হিন্দু – মুসলিম – শিখ নির্বিশেষে একই সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতেন। এমনকি নিষিদ্ধ মাংস খেতেন, যা তাদের ধর্মীয় গোড়ামী ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করতো। ১৯২৬ থেকে ২৭ পর্বে ভগৎ সিং তার সময়কে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়োগ করেছিলেন বিপ্লবের কাজে। একদিকে অধ্যায়ন আর অন্যদিকে সংগঠনের প্রসারের কাজ। মার্কসবাদী দর্শন এবং সমাজতন্ত্রবাদ এর উপর তার আস্থা সুদৃঢ় হয়েছিল এই সময়েই। ১৯২৭এর মে মাসে পুলিশ লাহোরে দশেরা উৎসবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যার সাথে ভগৎ সিং এর কোন হস্তক্ষেপ ছিল না, পুলিশ চক্রান্ত করে ভগৎ সিং এবং তার সাথে কয়েক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয় গোটা এক মাস। কিন্তু কোন অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন মামলা তৈরি করতে পারল না। আদালতে পেশ না করেই জামানতের ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হল। জামানতের মূল্য ছিল চল্লিশ হাজার টাকা। এই বিরাটঙ্কের জামিন দেওয়া সত্বেও ভগৎ সিং কে থাকতে হলো গৃহবন্দী দশায়।

ভগৎ সিং এর রচনার মধ্যে সমকালীন সময় তার চিন্তার ধারণার বিবরণ পাওয়া যায় –
পুলিশ যখন চক্রান্ত করে ভগত সিং কে গ্রেফতার করল, তার কাছে এটা বেশ অপ্রত্যাশিতই ছিল। পুলিশি হেফাজতে ভগৎ সিং কে অফিসাররা নানাভাবে জেরা করতে শুরু করে, পুলিশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবী দলের সম্পর্কে তথ্য আদায় করা এবং এই তথ্য পুলিশের হাতে তুলে দিলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে এই কথা বলা হয়েছিল তাঁকে । এ প্রস্তাবে ভগৎ সিং অফিসারদের অপদার্থের দল বলে সম্বোধন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন আমার দলের যা আদর্শ, তাতে আমরা কি নিজের দেশে নিরীহ মানুষের উপর বোমা ফেলতে পারিনা। পুলিশি হেফাজতে তাকে বিভিন্ন রকমের হেনস্তা মারধর হুমকি দেখিয়ে আর মুখ থেকে কথা বিপ্লবী সংগঠনের কথা এবং কাজকর্ম আদায় করতে চায়। একদিন কয়েকজন পুলিশ অফিসার এসে ভগৎ সিংকে রীতিমত পীড়াপীড়ি করতে থাকে যাতে তিনি ভগবানের অন্তত দুবার নাম নেয়। কিন্তু ভগৎ সিং যে নাস্তিক। সুখের দিনে নাস্তিকতার বড়াই করে অপরদিকে জীবনের কঠিনতমক্ষণে নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে থাকার সামর্থ্য সবার থাকেনা। ভগৎ সিং তখন একবারের জন্য নিজেকে বাঁচাবার তাগিদে নিজের বিশ্বাসকে বিসর্জন দেওয়ার কথা তার মাথাতেও আসেনি। ভগৎ সিংয়ের এই বিপ্লবী দৃঢ়তা দাঁড়িয়েছিল তার রাজনৈতিক এবং দার্শনিক অবস্থানের ভিত্তিতে। তিনি ততদিনে বুঝে গিয়েছিলেন যে ভারতের বিপ্লবের কাজ সম্পন্ন করা এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট দার্শনিক অবস্থান। পূর্ববর্তী বিপ্লবীরা রুশ বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথা ভাবলেও, দর্শনগত দিক থেকে ছিলেন তাঁরা ভাববাদী। ফলে তাদের লক্ষ্য ও পদ্ধতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান তৈরি হয়। ভগত সিং এই স্ববিরোধিতা থেকে ভারতের বিপ্লব কর্মকাণ্ডকে মুক্ত করলে। সমাজতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করলেন বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে। রাজনীতিকে মুক্তি দিলেন ধর্মের নিয়ন্ত্রণ থেকে। ভারতীয় রাজনীতিতে সেকুলারবাদের সুস্পষ্ট প্রয়োগ শুরু হলো ভগৎ সিং -এর মধ্যে দিয়েই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *