এল ও সি এফ : পেছনের দিকে হাঁটছে ভারতবর্ষ
পাভেল ধর চৌধুরী
ভারতবর্ষের অসাম্প্রদায়িক মননকে অস্বীকার করে সরাসরি ধর্মীয় মেরুকরণের পথ প্রস্তুত করেছে এই খসড়া কারিকুলাম। এখানে অবশ্যপাঠ্য বই হিসেবে সাজেস্ট করা হয়েছে RSS ঘনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং লেখক সঞ্জীব স্যানালের লেখা তিনটি অতীব নিম্নমানের বই - Land of the Seven Rivers, The Incredible History of Indian Geography, The Indian Renaissance : India’s Rise after a Thousand years decline। এই সঞ্জীব স্যানাল ঘোষিতভাবেই হিন্দুত্ববাদী এবং ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক মানুষ, তিনি প্রধানমন্ত্রীর Economic Advisory Council এর সদস্য। তিনি ভারতবর্ষের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে দাগিয়ে দেন মার্কসীয় এবং নেহেরুভিয়ান বিকৃতি বলে।
ইউজিসি জারি করলো এদেশের শিক্ষার কারিকুলাম সংক্রান্ত তার নবীনতম ফ্রেমওয়ার্ক। প্রাথমিকভাবে ৯ টি বিষয়ের পাঠ্যসূচীর চূড়ান্ত রদবদল করে তা খসড়া আকারে আনা হলো এবং তা নিয়ে ‘ ফিডব্যাক ’ দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলো একমাস৷ তার নাম এল ও সি এফ বা লার্নিং আউটকামস্ বেসড্ কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক। এই দলিলটি শুধু আর গৈরিকীকরণের প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ রইলো না, বরং পা থেকে মাথা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ে গেলো একটা রক্ষণশীল, কদর্য, পশ্চাদপদ অন্ধকার যুগে – যেখানে এই সভ্যতার আধুনিকতম প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সহাবস্থান করবে সভ্যতার প্রাচীনতম অবৈজ্ঞানিক যুক্তিহীন সামন্ততান্ত্রিক বিশ্বাসগুলোর সাথে। ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের নামে রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে রসায়ন সর্বত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রাচীন ভারতের গৌরবগাথার নামে কিছু ভ্রান্ত অনৈতিহাসিক কাল্পনিক ধারণা, যা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের মর্মবস্তু৷ এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির মারফত যা কিছু পড়ানো হতো , তা এবারে সরাসরি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর নীলনকশা নিয়ে এসেছে সরকার।
গণিতশাস্ত্রের কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্কটি বিস্মিত হয়ে যাওয়ার মতো। উচ্চশিক্ষায় যেখানে উন্নততর গাণিতিক সূত্রায়ন বা প্রয়োগ শেখার কথা, সেখানে বেদের যুগের গণিতের খুঁটিনাটি পড়ানো হবে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাচীন ভারতে কালের নিরিখে গণিত বিজ্ঞানের যে সুসমৃদ্ধ ভান্ডার, তা অতি অবশ্যই প্রশংসনীয় – কিন্তু তা বর্তমান সময়ের গণিতের থেকেও উন্নত ছিল বা বর্তমানের উদ্ভাবনগুলি বেদের যুগেই হয়ে গেছিল; এমন ধারণা পোষণ করা হাস্যকর। সেই ধারণাকে কার্যত প্রতিষ্ঠা দেওয়ার লক্ষ্যেই গণিতের কারিকুলামে ঢুকে গেছে নারদপুরাণ, জৈষ্ঠ্যা দেবী আর শূল্ব্য সূত্র। সূর্য-চন্দ্রের অবস্থান দেখে কালজ্ঞাপনের প্রাচীন তত্ত্ব পড়িয়ে মোহবিস্তার করা হবে এমন একটি যুগ এবং সমাজ সম্পর্কে – যে সমাজ বর্ণাশ্রমের প্রতিনিধিত্ব করে, যে সমাজ প্রতিনিধিত্ব করে ভারতবর্ষের অন্ধকারতম হিংস্র আস্ফালনের যুগের।চলে যাই রসায়নে, দেখবো রসায়নশাস্ত্র সংক্রান্ত যে খসড়া কারিকুলাম, তার সূত্রপাত হচ্ছে সরস্বতীবন্দনা দিয়ে। শুরুতেই দেবী সরস্বতীর চিত্রসহ তার নীচে মোটা মোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে – “ Salutations to Devi Saraswati, the giver of boons and fulfiller of wishes. O Devi, When I begin my studies, please bestow on me the capacity of right understanding always.” নির্দিষ্ট একটি ধর্মের দেবতাকে দেশের শিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিলে সগর্বে স্থান দেওয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ এবং যুক্তিবাদী প্রাণস্পন্দনের ঘোরতর পরিপন্থী। CHY – DSE – 404 নং কোর্স কোডে রয়েছে ভারতীয় ঔষধবিদ্যার ইতিহাস (আয়ুর্বেদ ও সিদ্ধ) সংক্রান্ত আলোচনা৷ এইজাতীয় বিষয় রসায়নের মূল বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং তা খানিক রসায়নের ইতিহাস। যা স্কুলপাঠ্য সিলেবাসে খানিক আলোচিত হতেই পারে, কিন্তু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয় অপ্রাসঙ্গিক। CHY – DSE – 406 নং কোর্স কোডে রয়েছে ভারতীয় রসায়নের ইতিহাস। এই অংশটি ভীষণভাবেই আপত্তিকর এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদী মননের পরিপন্থী। পারমানবিক বর্ণালী এবং কুন্ডলিনীর ধারণার তুলনা কোনোভাবেই সমান্তরালভাবে তুল্য নয়, একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্বনির্ভর – অন্যটি একটি আধ্যাত্মিক ধারণা। ইলেকট্রনের এক এনার্জি লেভেল থেকে উচ্চতর এনার্জি লেভেলে উত্তরণের ধারণার সাথে কুন্ডলিনীর ধাপে ধাপে চক্রে উত্তরণের ধারণার তুলনা হাস্যকর। Maxwell – Boltzman এর Distribution of velocities & energies – এর ধারণার সাথে ‘Samata – Vishamata ’ র ধারণাও তুল্যমূল্যের দাবী রাখে না। গ্যাসের মধ্যে অনুগুলির মধ্যে গতি এবং শক্তির বিষমতার সাথে দর্শনশাস্ত্রের একটি বিষয়ের তুলনা পড়ানো হচ্ছে রসায়নের স্নাতক স্তরে – এর চেয়ে অবৈজ্ঞানিক কিছু হতে পারে না। প্রলয় ধনঞ্জয়ের ধারণাগুলো সম্পূর্ণভাবে আধ্যাত্মিক এবং আধুনিক বিজ্ঞানের পরিপন্থী, Radioactivity ’র সাথে একে যুক্ত করে মৃত্যু পরবর্তী অস্তিত্বের ধারণাকে পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ একটি রক্ষণশীল এবং অবৈজ্ঞানিক চেতনাকে নবীন প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করা৷ প্রাচীন ভারতে ধাতুবিদ্যার ইতিহাস সংক্রান্ত চর্চাও মৌলিক বিজ্ঞানের চর্চার মধ্যে ভীষণভাবেই অপ্রাসঙ্গিক!
অর্থনীতির পাঠেও ঢুকেছে প্রাচীন ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক নৈতিকতা সম্পর্কিত ধারণা। নৃতত্ত্বের কারিকুলামে ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেমের নামে যে ধারণা সুকৌশলে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হবে, তা হলো আর্যরক্তের বিশুদ্ধতা সম্পর্কিত সংঘের বয়ান৷ ফিজিকাল এডুকেশনের কোর্সে নানা প্রাচীন ভারতীয় মার্শাল আর্টস্ কিংবা আত্মরক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সুসঙ্গত, তা এদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ধারক ও বাহক। কিন্তু সমস্যা হলো খুব সুকৌশলে যুদ্ধকলা পড়ানো নিয়ে। এদিন খুব দূরে নয়, যেখানে তীর-ধনুক-গদা-বল্লম নিয়ে যুদ্ধ করার মহড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠেই দেওয়া হবে, এবং সেই মহড়ায় পালিত হবে যাবতীয় হিন্দুত্বের আচারবিচার৷ এই কারিকুলাম যুদ্ধোন্মত্ত ভারতবর্ষের পক্ষে সম্মতি নির্মাণেরই প্রাক-প্রস্তুতি। ভূগোল সংক্রান্ত যে খসড়া Learning Outcome based Curriculum Framework ইউজিসি প্রস্তুত করেছে, তা সমসাময়িক ভারতবর্ষের উন্নততর ভূগোল সংক্রান্ত ডিসিপ্লিনের থেকে প্রায় একদশক পিছিয়ে। স্নাতক প্রথম বর্ষের ভ্যালু অ্যাডেড কোর্সের সিলেবাসে প্রস্তাবিত হয়েছে একটি অংশ যার নাম - Land, People & culture of Bharat। সেখানে রয়েছে ভারতবর্ষের নামকরণ, ভারতবর্ষের ভৌগোলিক সীমারেখার ইতিহাস, ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংক্রান্ত অধ্যায়৷ এই আলোচনার অভিমুখ কী হবে? কোন দৃষ্টিভঙ্গির চাষ করা হবে এই অংশে? - ধরা পড়ে যায় Recommended Readings এর তালিকাটি দেখলে। ভূগোল একটি বিজ্ঞাননির্ভর ডিসিপ্লিন, কিন্তু ভারতের ভূগোল জানতে গেলে কিনা পড়তে হবে বাল্মিকী রামায়ণ - যা একটি সাহিত্য। এখানে ছাত্রদের অবশ্যপাঠ্য বই হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সাভারকর রচিত ‘Hindutva : Who is Hindu?' (১৯২৩) বইটির। বুঝতে বাকি থাকে না ভারতের অতীত অনুশীলনের নামে কোন রাজনৈতিক দর্শন ছাত্রমননে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি এই তালিকায় বাদ যাচ্ছে না বিষ্ণু পুরাণ - ভূগোলের মধ্যে বিষ্ণু পুরাণের প্রাসঙ্গিকতা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ ব্যাখ্যা করতে পারবে না৷ দ্বিতীয় সেমেস্টারের ভ্যালু অ্যাডেড কোর্সের Geography of Heritage of Bharat অংশে রেফারেন্স বই হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পদ্মপুরাণ, স্কন্দপুরাণ এবং বরাহপুরাণের৷ স্নাতক তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমেস্টারে মেজর কোর্সে পড়ানো হচ্ছে - Historical Geography of Bharat। এই অংশে রয়েছে ষোড়শ মহাজনপদের ইতিহাস, বেদের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সাংস্কৃতিক উত্তরণের ধারা, ভারতমাতার ধারণা। ভারতবর্ষের বর্তমান ভৌগোলিক ধারণাকে অস্বীকার করে RSS তাদের মনোলোকে যে ভারতবর্ষের মানচিত্র কল্পনা করে, তাকে বৈধতা দেওয়া হবে এই কারিকুলামের মধ্যে দিয়ে। ভারতবর্ষের মিশ্র সংস্কৃতি, ধর্মীয় সম্প্রীতিকে অস্বীকার করে ছাত্রমননে ছড়িয়ে দেওয়া হবে হিন্দুত্বের ভারতবর্ষ সংক্রান্ত ধারণা। সমস্ত ভারতীয় মানুষের দেশভক্তির অবলম্বন মোটেই ‘ভারতমাতা’র ধারণা নয়৷ বরং ‘ভারতমাতা’র ধারণা অনেক বেশী সম্পৃক্ত একটি নির্দিষ্ট ধর্মের আচার এবং কাঠামোর সঙ্গে। এমন লক্ষ লক্ষ ভারতীয় মানুষ রয়েছেন, যারা ভারতমাতা’র ধারণার বাইরে গিয়েও দেশের প্রতি সম্ভ্রম রাখেন। ভারতবর্ষের অসাম্প্রদায়িক মননকে অস্বীকার করে সরাসরি ধর্মীয় মেরুকরণের পথ প্রস্তুত করেছে এই খসড়া কারিকুলাম। এখানে অবশ্যপাঠ্য বই হিসেবে সাজেস্ট করা হয়েছে RSS ঘনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং লেখক সঞ্জীব স্যানালের লেখা তিনটি অতীব নিম্নমানের বই - Land of the Seven Rivers, The Incredible History of Indian Geography, The Indian Renaissance : India’s Rise after a Thousand years decline। এই সঞ্জীব স্যানাল ঘোষিতভাবেই হিন্দুত্ববাদী এবং ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক মানুষ, তিনি প্রধানমন্ত্রীর Economic Advisory Council এর সদস্য। তিনি ভারতবর্ষের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে দাগিয়ে দেন মার্কসীয় এবং নেহেরুভিয়ান বিকৃতি বলে। তিনি রাজা অশোককে গণহত্যাকারী বলে দাবী করেন, এবং দাবী করেন নেহেরুই দায়ী রাজা অশোককে মহৎ বলে প্রচার করার জন্য। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সাম্প্রদায়িক কদর্য কন্টেন্ট তৈরীর সাথেও এই লোকটি যুক্ত। ভারতবর্ষের ভূগোলের সিলেবাসে তার লেখা বই পড়ানো হবে, তা খুবই আপত্তিকর৷ পড়ানো হচ্ছে জে সাই দীপকের বই - ‘ India, That is Bharat ’। জে সাই দীপক RSS এর বৌদ্ধিক গোষ্ঠীর অন্যতম বড়ো মাথা৷ ইনি ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিক ঝোঁক থেকে মুক্ত করার নামে সরাসরি হিন্দুত্বের ভাবনা বপন করার পক্ষে সম্মতিনির্মাণ করেন, অক্সফোর্ড থেকে দিল্লি সংবিধান - ধর্মনিরপেক্ষতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরাসরি হিন্দুত্বের ভাবনা প্রচার করে বেড়ান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠেও নিয়ে আসা হয়েছে সাম্প্রদায়িকতার রসদ৷ সাভারকর, দীনদয়াল উপাধ্যায় সম্পর্কে রয়েছে নানা অধ্যায়, তার সাথে যুক্ত এমন অবশ্যপাঠ্য বইয়ের লম্বা তালিকা যা সংঘের আঁতুড়ঘর থেকে প্রকাশিত৷ যোগক্ষেম বা রাজধর্মের তত্ত্ব যেমন উঠে এসেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল আঙিনায়, তেমনি Tradition of Political Thinking in Bharat - এ দেওয়া হচ্ছে মনুসংহিতার পাঠ৷ Bharatiya Struggle for Independence অংশে অবশ্যপাঠ্য বইয়ের তালিকায় রয়েছে সাভারকর রচিত ‘The Indian War of Independence’। সমগ্র কারিকুলামজুড়ে বিরাজ করছে সংঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংস্থার( IPSA) -র সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুমার শর্মার অসংখ্য বই৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মহিলাদের অবদান সংক্রান্ত একটি অধ্যায় রয়েছে, যেখানে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে লিপ্ত মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাথে নাম রয়েছে মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াইরত স্থানীয় হিন্দু মহিলা শাসকদের। অর্থাৎ, মুঘলদের খুব সুকৌশলে ব্রিটিশদের সাথে একই রেখায় ফেলে এদেশের মুসলমানদের বহিরাগত এবং আক্রমণকারী বলে ভাবতে শেখাবে এই কারিকুলাম৷ মুঘলদের সাথে স্থানীয় শাসকদের যুদ্ধ, তা যে কোনোমতেই স্বাধীনতা সংগ্রামের আওতায় পড়ে না - উত্তরকালের প্রজন্মকে একথা বলবে কে?
দেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নিবিড়ভাবে চেনা জানার মধ্যে কোনো ভুল নেই। কিন্তু বিজেপি যে ইতিহাস পড়াতে চাইছে, তা আদৌ ভারতবর্ষের ইতিহাস নয়, বরং একটি বিকৃত সাম্প্রদায়িক অনৈতিহাসিক কল্পনাবিলাস৷ ভারতবর্ষের ইতিহাসেই রয়েছে যুক্তিবাদের প্রাচীনতম রসদ – চার্বাকদর্শন কিংবা উদ্দালক আরুণীর বিজ্ঞানমনস্ক বক্তব্য। এদেশের ইতিহাসে রয়েছে সুফিসন্তদের গান, লালন ফকিরের উদাত্ত কণ্ঠ আর মীরাবাঈ কিংবা কবীরের কথা৷ বিজেপির সরকার এসবের ধার ধারে নি৷ এমন কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ভারতবর্ষ শুধু নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও আগে আসেনি৷ সর্বশক্তি দিয়ে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ নেই।