সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা : ব্রিটিশ ভারত থেকে আজকের ভারত

কয়েক বছর আগের একটি পরিসংখ্যান এই বাস্তবতাকেই দৃঢ় করে। ২০১৪ থেকে ২০১৯—এই পাঁচ বছরে ভারতে প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক গুরুতর আক্রমণের শিকার হন, ৪০ জনকে হত্যা করা হয়। অন্তত ২১টি ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে হত্যার কারণ ছিল তাঁদের সাংবাদিকতা। আক্রমণকারীদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী, সরকারি সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী, ধর্মীয় সংগঠন ও স্থানীয় মাফিয়া—যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। লক্ষণীয়, এই সময়ে আক্রান্ত কোনও সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই অপরাধীর সাজা নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার যোগসাজশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষীদের রেহাই দেওয়া হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের উপর আক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষত শবরীমালা বিতর্কের সময়।

রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, “নানা আকস্মিকতার মালা গেঁথে তৈরি হয় ইতিহাস” । ভারতবর্ষে সংবাদ মাধ্যমের পথ চলাও সেই আকস্মিকতার সূত্র ধরেই শুরু হয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় ফিরে দেখলে দেখা যাবে, বহু ক্ষেত্রেই কোনো নতুন উদ্ভাবনের সূচনাকারীরা মহান কোনও আদর্শের টানে নয়; বরং মুনাফা লাভ ও সমসাময়িক বাস্তবতার চাপের মুখে এই পথে হাঁটা শুরু করে। স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গুটেনবার্গের ছাপাখানার কথা। সেই সময় বাইবেল ছেপে মুনাফা অর্জন করাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলেও এই ছাপাখানাই ইউরোপে তথ্য বণ্টনের কাঠামোকে আমূল বদলে দিয়েছিল। এই পরিবর্তন কোনো নীতি-আদর্শগত আন্দোলনের ফলাফল ছিল না , বরং ছিল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাজারে চাহিদার সৃষ্টি করে মুনাফা অর্জন।

ইউরোপের অভিজ্ঞতার ছায়াপথ ধরেই ভারতবর্ষে সংবাদপত্রের পথ চলা শুরু করেছিল। ২৯শে জানুয়ারি ১৭৮০, কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় Hickey’s Bengal Gazette or the Original Calcutta General Advertiser। এটি ছিল ভারতবর্ষে প্রকাশিত প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র। এই প্রকাশনার ক্ষেত্রে হিকির কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল না। তার উদ্যোগ সাংবাদিকতাগত স্বাধীন মতপ্রকাশের সুপরিকল্পিত আদর্শ থেকেও উৎসারিত হয়নি। এমনকি ইংল্যান্ডে থাকাকালীন সংবাদপত্রের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও ছিল না। ঔপনিবেশিক প্রশাসনের শাসনব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং তার নিজস্ব আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই এই উদ্যোগের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।

হিকির কলমে হেস্টিংসের ভুল নীতি, তার ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি, সেনাদের প্রবঞ্চনা, আদালতের বেআইনি কাজ এবং প্রশাসনিক ঘুষখোরী আচরণের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকলে শাসক মহলে তার বিরোধী সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। এক পর্যায়ে জেনারেল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বেঙ্গল গেজেট পাঠানোর সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে নানা মামলায় জের বার করে দু’বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিতও করা হয়েছিল। ১৭৮২ সাল নাগাদ তার প্রেস ও টাইপরাইটার বাজেয়াপ্ত করার ফলে দু বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেঙ্গল গেজেটের পথ চলা —যাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রথম আঘাত হিসেবে ধরা হয়। তবে এ কথা অনুস্বীকার্য যে শেষদিন পর্যন্ত হিকি শাসক শক্তির সঙ্গে কোনো আপোষ না করে একরোখা মনোভাবে অটুট থেকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং রোপণ করেছিলেন ভারতীয় সাংবাদিকতার ভবিষ্যত লড়াইয়ের বীজ ।

এরপর থেকে একের পর এক ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ব্রিটিশ প্রশাসন সংবাদপত্রকে কখনোই স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাভাবিক মাধ্যম হিসেবে মেনে নেয়নি। প্রশাসনের সমালোচনা বা বিরোধী মত প্রচারের অভিযোগে উইলিয়াম দুনে, জেমস বাকিংহাম ও চার্লস ম্যাকলিনকে জোরপূর্বক দেশছাড়া করা হয়েছিল—যা সংবাদপত্রের প্রতি শাসকের অসহিষ্ণু মনোভাবের প্রাথমিক দৃষ্টান্তগুলির একটি ছিল। একই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল লর্ড ওয়েলেসলির প্রণীত পাঁচ দফা নিয়মে, যেখানে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই বিধিনিষেধ স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে ব্রিটিশ শাসন সংবাদপত্রকে একটি সম্ভাব্য বিরোধী শক্তি হিসেবেই দেখত।

এই দমননীতিকে আরও সুসংহত ও আইনি রূপ দেওয়া হয়েছিল ১৮২৩ সালে জন অ্যাডামের কুখ্যাত রেগুলেশন লাইসেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীন কণ্ঠ কার্যত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীন চলে গিয়েছিল। এই অবস্থার প্রতিবাদে রাজা রামমোহন রায় তাঁর প্রকাশিত মিরাত-উল-আখবর বন্ধ করে দিয়েছিলেন—যা ভারতীয় সংবাদপত্রের ইতিহাসে নীরব কিন্তু দৃঢ় এক নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

১৮৩৫ সালে চার্লস মেটকাফের আইনে কিছুটা স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছিল; সংবাদপত্রের ওপর থেকে বহু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং স্বাধীন প্রকাশের পরিসর সাময়িকভাবে প্রসারিত হয়েছিল। এই কারণেই মেটকাফকে ‘ভারতীয় সংবাদপত্রের মুক্তিদাতা’ বলা হতো। তবে এই উদারতার মূল্য তাঁকে নিজের প্রশাসনিক পদ হারিয়ে দিতে হয়েছিল, যা নিজেই প্রমাণ করেছিল যে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার ভেতরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটি কতটা স্পর্শকাতর ছিল।

তবে এই স্বস্তির পর্বও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় লর্ড ক্যানিং আবার সংবাদপত্রের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিলেন; এই দমনমূলক ব্যবস্থা ‘গ্যাগিং অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত হয়েছিল। এরপর ১৮৭৮ সালে “এক নায়কদের এক নায়ক” লর্ড লিটনের প্রণীত ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট দেশীয় ভাষার সংবাদপত্রগুলিকে সরাসরি নিশানা করেছিল। এই আইনের বিরুদ্ধে অমৃতবাজার পত্রিকা-র রাতারাতি ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরিত হওয়া সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও কৌশলগত প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল।

বিশ শতকের শুরুতেও দমননীতি থেমে থাকেনি। ১৯০৮ সালের নিউজপেপার অ্যাক্টের মাধ্যমে বিপ্লবী সংবাদপত্র ‘যুগান্তর ‘ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল , কারাবরণ করতে হয়েছিল সম্পাদক ভূপেন্দ্রনাথ দত্তকে। এই পর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে সংবাদপত্র ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তাই প্রশাসন সংবাদপত্রের কণ্ঠকে নিয়ন্ত্রণ ও নিস্তব্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে ক্রমাগত।

এরপর ৪৭ এর স্বাধীনতা । এই স্বাধীনতা শুধু দেশবাসীর কাছে নয় সংবাদজগতের কাছেও হাজির হয়েছিল নতুন আশা নিয়ে। প্রশাসনের রক্ত চক্ষু চলার পথকে ক্রমাগত আর বন্ধুর করে তুলবে না সংবাদপত্রের কাছে এই ছিল তখন স্বস্তির বিষয়। ব্রিটিশ মালিকরাও তখন অধিকাংশ সংবাদপত্রের মালিকানা হস্তান্তরন্তর করে দিয়েছে ভারতীয়দের। ব্যতিক্রমী ছিল স্টেটসম্যান বা ক্যাপিটাল। ধীরে ধীরে সংবাদপত্র তখন শিল্পের পাশাপাশি হয়ে উঠছে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। পেশাদারী দক্ষতার ঘাটতি মেটাবার জন্য প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু সচেতন ভাবে প্রেস আইন গুলি পর্যালোচনা করে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জি এস রাজাধক্ষের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল প্রথম প্রেস কমিশন।

কিন্তু তারপর এল ১৯৭৫। ২৫ শে জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থা। যা জারি ছিল ১৯৭৭ এর ২১ মার্চ অবধি ।এই সময়কালে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রে স্বাধীনতার উপর যে কঠোর ও আক্রোশমূলক বিধি আরোপ করা হয়েছিল তার পরিণামস্বরূপ সরকার প্রায় ২৬০০ সংবাদপত্র ও পত্রিকার প্রকাশ বাতিল করে দিয়েছিল। জারি করা হয়েছিল ‘ প্রাক সেন্সরশিপ ব্যবস্থা ‘। অর্থাৎ সরকারের বিবেচনায় যা কিছু দেশের পক্ষে ক্ষতিকর এমন কোন কিছুই সংবাদপত্র বা পত্রিকায় প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এবং তখন প্রতিদিন প্রতিটি সংবাদপত্র প্রকাশের আগে সমস্ত রকম সংবাদ প্রবন্ধ আলোকচিত্র ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদি সবই সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে প্রাক সেন্সর করিয়ে নিতে হতো। জরুরি অবস্থা ভারতের সংবাদ মাধ্যম তথা ভারতীয় গণতন্ত্রকে এক কঠিন শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিল যে কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে কোন একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা মাথাচারা দিলে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব পক্ষেই তা কতটা বিপজ্জনক।

২০২৫ সালের ২৫ জুন পূর্ণ হয়েছে জরুরি অবস্থার পঞ্চাশ বছর ।জরুরি অবস্থার সময়কালীন সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বরকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা আজকের ভারতে প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সরকারবিরোধী কলম মানেই দেশদ্রোহী—এই সরলীকৃত ও বিপজ্জনক সমীকরণ এখন আর নতুন কোনো ঘটনা নয়। এখনও সংবিধান কাগজে-কলমে বহাল রয়েছে, সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়নি, সেন্সরশিপও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি—তবু বাস্তবে মতপ্রকাশের পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হয়েছে শেষ ১৫ বছরে ।‘দেশ’ শব্দটির অর্থও ধীরে ধীরে বদলে যেতে বসেছে। দেশ আর জনগণ, বহুমত বা নাগরিক সমাজের সমষ্টি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না; দেশ ক্রমে রাষ্ট্র, আর রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে একাকার হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রের সমালোচনাই দেশবিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সর্বব্যাপী নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি। সংবাদমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সংগঠন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের কড়া দৃষ্টি পড়ছে। এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ধর্মীয় আবেগের রাজনীতি, যা যুক্তির বদলে আনুগত্যকে উৎসাহিত করছে। ধর্ম এখানে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ক্ষেত্র ছাড়িয়ে শাসনের সহায়ক ভাষায় পরিণত হয়েছে যা কার্যত এক ধরনের ‘আফিম’, যা প্রশ্নকে স্তব্ধ করে এবং ভিন্নমতকে সন্দেহের চোখে দেখে।

ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম, বিশেষ করে হিন্দি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র, আজ সত্যি সত্যি ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ এর বদলে । পরিণত হয়েছে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক-আদর্শিক প্রকল্পের প্রচার যন্ত্রে। এই প্রকল্পের নাম ‘হিন্দুত্ব’, যার লক্ষ্য ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা এবং সকল প্রকার বহুত্ববাদী, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে খর্ব করা। এই রূপান্তরের কাজে হিন্দি মাধ্যমগুলো সবচেয়ে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তারা আজ আর শুধু খবর পরিবেশন করে না, তারা একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শিক বার্তা তৈরি করে জনমত গঠন করে। এই প্রক্রিয়ায় সংবাদের সত্য উদঘাটন করার ক্ষমতা ও বিশ্লেষণাত্মক গুণ হারিয়ে যায়, তার স্থান দখল করে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় বিভাজন, ‘আমরা বনাম তারা’ এর রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্ধ প্রশস্তি।

২০১৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতীয় মিডিয়ায় চরিত্র আমূল বদলে দিয়েছে। মিডিয়া এখন একটি বিশাল লাভজনক শিল্প, যার মালিকানা কয়েকটি বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত। এই গোষ্ঠীগুলি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নীতির সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক স্বার্থে জড়িয়ে আছে। ফলে, সংবাদ এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে; যা টিআরপি ও রাজনৈতিক আনুকূল্য বাড়ায়, তা-ই প্রধান খবর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হিন্দি মিডিয়াগুলি এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে, কারণ এর শ্রোতা-পাঠক সংখ্যা সর্বাধিক এবং এটি হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানী রাজনৈতিক প্রকল্পের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বাহক।

হিন্দি মাধ্যমগুলোর প্রোপাগান্ডা চালানোর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। এখানে নিয়মিতভাবে একটি ‘শত্রু’ চিত্র তৈরি করা হয়। এই শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয় মুসলিম সম্প্রদায়, আর্টিকেল ৩৭০ সমর্থক, ‘উপনিবেশবাদী মানসিকতাসহ’ বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, বা কৃষক আন্দোলনের কর্মীদের। চ্যানেলগুলোর বিতর্ক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিপক্ষকে চিৎকার করে, গালিগালাজ করে, ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে হেনস্থা করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এভাবে দর্শকদের মনে ভয় ও ঘৃণা সৃষ্টি করে তাদের একটি আদর্শিক খাঁচায় আবদ্ধ করা হয়।

এই সময়কালে রাষ্ট্রের রোষ এড়ানোর সবচেয়ে সহজ পথ হয়ে উঠেছে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে সুর মেলানো, আর সংবাদমাধ্যমও ধীরে ধীরে সেই পথেই হাঁটছে। কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে মালিকানা কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলে মুনাফা, সরকারি বিজ্ঞাপন এবং নীতিগত অনুমতির ভয়ই অনেক ক্ষেত্রে খবরের সীমা ঠিক করে দিচ্ছে। এর ফল হিসেবে স্বেচ্ছা সেন্সরশিপ এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে—সংবেদনশীল বা সরকার-সমালোচনামূলক বিষয় এড়িয়ে যাওয়াই নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। অনুসন্ধানী ও প্রশ্নমুখর সাংবাদিকতা মূলধারার সংবাদপত্র ও টেলিভিশন থেকে ক্রমশ সরে গিয়ে তার জায়গায় আসছে ক্ষমতার প্রশস্তি, আক্রমণাত্মক জাতীয়তাবাদী ভাষ্য এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা; এই বাস্তবতা থেকেই ‘গোদী মিডিয়া’ শব্দবন্ধটি সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে। যদিও সব সাংবাদিক বা সব সংবাদমাধ্যম এই ধারায় গা ভাসাননি, তবু বড় অংশের কর্পোরেট মিডিয়া এখন আর রাষ্ট্র বা সরকারের মুখোমুখি দাঁড়ানোর ঝুঁকি নিতে চায় না। সৎ সাংবাদিকতার চেয়ে টিকে থাকা ও লাভের হিসেব অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, আর সেই সুযোগেই রাষ্ট্র ও তার অনুগত শক্তি নির্ভীক কিছু সাংবাদিক ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে আলাদা করে নিশানা করছে—যাঁরা দুর্নীতি, নাগরিক-বিরোধী বা সংবিধান-বিরোধী কার্যকলাপের কথা তুলে ধরতে চাইছেন। ফলে সংবাদমাধ্যমের ভেতরেই এক ধরনের ভয় ও দ্বিধার আবহ তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রশ্ন তোলার মূল্য বাড়ছে, আর নীরব থাকাটাই ক্রমে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প বলে মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সত্য পুরোপুরি গোপন রাখা আগের মতো সহজ আর নেই। স্মার্টফোন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতার পরিসর বাড়িয়েছে। কিন্তু ঠিক এই কারণেই রাষ্ট্রের নজরদারি আরও তীব্র হয়েছে এবং সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা ক্রমশ নাগরিকদের হতাশ করে তুলছে। প্রকাশ্য সেন্সরশিপ না থাকলেও শাসকদলের উগ্র সমর্থকেরা কার্যত অনানুষ্ঠানিক সেন্সরের ভূমিকা পালন করছে। সাংবাদিকের ক্যামেরা, কলম, সম্মান—এমনকি প্রাণ কেড়ে নিতেও তারা দ্বিধা করছে না। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিপরীতে দাঁড় করানো হচ্ছে ফেক নিউজের পরিকল্পিত কারবার।

জরুরি অবস্থার সময় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য স্টেটসম্যান সম্পাদকীয় পাতা সাদা রেখে যেভাবে সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়েও সেই প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা ফিরে এসেছে—কাশ্মীরে সাংবাদিক ও সম্পাদক সুজাত বুখারির হত্যার পর একাধিক সংবাদপত্রে সাদা সম্পাদকীয় পাতা প্রকাশ তারই প্রমাণ। তবে কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও গভীর ও ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর উপত্যকায় যে চূড়ান্ত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, তা শুধু রাজনৈতিক অধিকার হরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সংবাদমাধ্যমকেও কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা, সাংবাদিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের উপর প্রশাসনিক নজরদারি—সব মিলিয়ে কাশ্মীরকে এক ধরনের ‘তথ্য-অবরুদ্ধ অঞ্চল’-এ পরিণত করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করা মানে কেবল সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা নয়; এটি সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশের পথ প্রায় সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দেওয়ার সামিল, যেখানে কোন সাংবাদিক খবর পাঠাতে পারবেন আর কে পারবেন না, তা প্রশাসন নির্ধারণ করেছে। বহু সংবাদপত্র বিনা সম্পাদকীয়তে বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে প্রকাশিত হতে বাধ্য হয়—অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে আপসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়। তবু এই দমনের মধ্যেও গওহর গিলানি, মাসরাত জাহারা, পিরজাদা আশিক ও অনুরাধা ভাসিনের মতো সাংবাদিকেরা নির্ভীকভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন; ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হলেও তাঁদের লেখা ও ছবি রাষ্ট্র যে বাস্তবতা আড়াল করতে চেয়েছিল, তাকেই সামনে এনেছে। মাসরাত জাহারার আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজ প্রমাণ করে—রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী সাব্যস্ত হলেও সত্য শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের দলিল হয়ে থেকে যায়।

এই প্রেক্ষাপটেই গৌরী লঙ্কেশের হত্যার কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা প্রয়োজন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ির সামনে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন এই নির্ভীক সাংবাদিক। ‘লঙ্কেশ পত্রিকা’-র মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্পোরেট–রাষ্ট্র–ধর্মীয় রাজনীতির আঁতাত, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কলম ধরেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিলেন। গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যু শুধু একজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড ছিল না; এটি ছিল ভিন্নমতকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার এক নগ্ন বার্তা। ভারতে সাংবাদিক হত্যা অবশ্য নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু গৌরীর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, কারণ তাঁর হত্যার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়—এই শাসনব্যবস্থা সমালোচনাকে শুধু অপছন্দই করে না, প্রয়োজনে তা নির্মূল করতেও প্রস্তুত। মতপ্রকাশের মূল্য যে জীবন দিয়েও দিতে হতে পারে, গৌরীর মৃত্যু সেই বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তাঁর হত্যার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের উপর ভয়ের চাপ আরও ঘনীভূত হয় এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বা স্বেচ্ছা সেন্সরশিপ যেন আরও স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়।

কয়েক বছর আগের একটি পরিসংখ্যান এই বাস্তবতাকেই দৃঢ় করে। ২০১৪ থেকে ২০১৯—এই পাঁচ বছরে ভারতে প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক গুরুতর আক্রমণের শিকার হন, ৪০ জনকে হত্যা করা হয়। অন্তত ২১টি ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে হত্যার কারণ ছিল তাঁদের সাংবাদিকতা। আক্রমণকারীদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী, সরকারি সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী, ধর্মীয় সংগঠন ও স্থানীয় মাফিয়া—যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। লক্ষণীয়, এই সময়ে আক্রান্ত কোনও সাংবাদিকের ক্ষেত্রেই অপরাধীর সাজা নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার যোগসাজশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষীদের রেহাই দেওয়া হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের উপর আক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষত শবরীমালা বিতর্কের সময়।

সিএএ–এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের যেভাবে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছিল, তা এই দীর্ঘ দমননীতিরই ধারাবাহিক রূপ। টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করা, সাংবাদিকদের হুমকি ও হেনস্থা—সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে ক্ষমতার সমালোচনাই তখন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সিদ্দিক কাপ্পানের লড়াই বিশেষ তাৎপর্য পায়। হাথরাসে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রিপোর্ট করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাপ্পান কার্যত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। একইভাবে রবিশ কুমার মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ভেতর থেকেই সততা ও পেশাদারিত্বের বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন—নিরবচ্ছিন্ন অপপ্রচার, সংগঠিত অনলাইন হয়রানি ও আক্রমণের মুখেও তিনি ক্ষমতার জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে সরে যাননি। ঠিক এই দমনমূলক পরিবেশের মধ্যেই ডিজিটাল ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের উত্থান এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। কর্পোরেট মূলধারার মিডিয়া যখন ক্রমশ ক্ষমতার অনুগত হয়ে পড়ছে, তখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও স্বতন্ত্র সাংবাদিকরা বিকল্প তথ্যপ্রবাহের পথ তৈরি করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি সংবাদকে ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে দৃশ্যমান করার সুযোগ এনে দিয়েছে। নিউজক্লিক-এর মতো প্ল্যাটফর্ম গভীর বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী রিপোর্ট ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন সামনে এনে এই বিকল্প সাংবাদিকতার পরিসর তৈরি করেছিল বলেই তারা রাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়ে—২০২৩ সালের অভিযান ও সম্পাদকদের হেনস্থা তারই প্রমাণ। একইভাবে স্বতন্ত্র সাংবাদিক মহম্মদ জুবের ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ভুয়ো খবর উন্মোচন ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের প্রশ্ন তুলতেই মামলা, গ্রেপ্তার ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের শিকার হন। ডিজিটাল পরিসরকে পুরোপুরি সেন্সর করা সম্ভব না বলেই সেখানে ভয়, আইনি হয়রানি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কৌশল বেছে নেওয়া হচ্ছে। তবু এত বাধা সত্ত্বেও ডিজিটাল ও স্বাধীন সাংবাদিকতা স্তব্ধ হয়ে যায়নি; বরং নাগরিক সাংবাদিকতা, বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ও কিছু নির্ভীক কণ্ঠ একত্রে রাষ্ট্রের তৈরি করা নীরবতার পর্দায় ফাটল ধরিয়ে দিচ্ছে—বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, সংবাদ চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু প্রশ্নকে চিরতরে স্তব্ধ করা যায় না।

২০১৪ সালের পর থেকে কেন্দ্রে যে রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, তাদের রাজনীতির দিকটা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে গেছে। নানা ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা এই দেশটাকে তারা একটাই পরিচয়ের মধ্যে আটকে ফেলতে চাইছে। সেই চেষ্টার ফল হিসেবেই সংখ্যালঘু মানুষের ওপর হামলা, ভয় দেখানো আর প্রান্তিক মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তোলার ছবি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সমাজের একাংশকে বারবার কোণঠাসা করে রাখা যেন নীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ছবিটাও বদলেছে। সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আসেনি, বরং কাজ, আয় আর নিরাপত্তা—সব দিক থেকেই চাপ বেড়েছে। দারিদ্র্য আরও গভীর হয়েছে, অথচ বড় বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর সম্পদ বেড়েই চলেছে। স্বাধীনতার পর এত অল্প সময়ে সমাজ ও অর্থনীতির এমন অবনমন আগে কখনও দেখা যায়নি। এই ক্ষয় শুধু সংখ্যার হিসেব নয়—এর প্রভাব পড়ছে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার ওপর। দেশটা যেন ধীরে ধীরে নিজের চেনা রূপটাই হারাতে বসেছে।

একটি দেশের গণতন্ত্র তখনই মজবুত হয়, যখন তার সাংবাদিকরা সরকারকে নির্ভয়ে বলতে পারে, “রাজা, তোর কাপড় কোথায়?” আজ আমাদের দেশের সংবাদ ব্যবস্থার কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল সেই কড়া সত্যি কথা বলার সাহস ধরে রাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *