ধুর ! ভাল্লাগেনা…
ঋতঙ্কর দাস
সংবিধানের ২৫ ও ২৬নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষা করা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়লেও সংবিধানকে তো আজকাল বুড়ো আঙুল দেখানোই নিউ নর্মাল!
রাজনীতিকে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব বলে অনেকে অবহিত করতে পারেন, তবে আমরা কেউ কেউ এটাকে নৈতিকতার দৃষ্টিকোণের ফারাক হিসেবেই বেশি দেখি। এই যেমন ধরুন আপনি হুমায়ুন কবীরের এই বাবরি মসজিদ শিলান্যাসকে ভাবতে পারেন ভাঙার বিরুদ্ধে গড়ার ইতিকথা, আবার এও ভাবতে পারেন আরও বেশি বিভাজনের পারফেক্ট পাওয়ার-পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন!
বেশি পিছনে যেতে হবে না, বছর খানেক আগে এই হুমায়ুন বাবুই বলেছিলেন মুর্শিদাবাদের ৩০% হিন্দুকে নাকি খুন করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবেন, তখন যদিও তিনি তৃণমূলের সম্পদই ছিলেন। আবার কাঁথির অধিকারী বাড়ির ছোট ছেলে যদ্দিন তৃণমূলে ছিলেন সুপ্রিমোর সাথে একসাথেই নামাজ পড়তেন, ৬ই ডিসেম্বর বাবরি ভাঙার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করতেন। সেই অধিকারীবাবুরই এখন “বাবরি” নামে অ্যালার্জি!
৬ই ডিসেম্বর শুধু বাবরি ভাঙার দিন নয়, ইতিহাস বদলের গন্তব্যের পথে একটা মাইলফলক। এবার এই ফলক ভালো না খারাপ, সেটা তো আপনি বিবেচনা করবেন কিন্তু ফলকটাকে তো আমরা অস্বীকার করতে পারিনা।
সংবিধানের ২৫ ও ২৬নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষা করা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়লেও সংবিধানকে তো আজকাল বুড়ো আঙুল দেখানোই নিউ নর্মাল!
কাকে কি বলবেন বলুন তো! রাজ্য সরকার করের টাকায় হিডকো’কে দিয়ে দীঘায় জগন্নাথ মন্দির বানাতে গেলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। কোর্ট মনে করে আমার – আপনার কারুরই এই বিষয়ে মাথাব্যথার করা উচিৎ নয়। আর সুপ্রিম কোর্ট তো বাংলা প্রবাদকেই রুলিং বানিয়ে ফেলল অযোধ্যা রায়ে — “বিশ্বাসে মিলায় বস্তু…”
আর বস্তুর যে কি মায়া, তা এখন মোটামুটি ওপেন সিক্রেট। আরাবল্লী পর্বতমালার নিচ থেকে উত্তোলন করা “বস্তু” কিংবা বিনাবিচারে ৬ বছর জেলবন্দি ছাত্র নেতার জামিন খারিজ করে পরের ১ বছর জামিনের আবেদন করার অধিকার কেড়ে নাওয়ার জন্য যে “বস্তু” আছে, তা কি আর আলাদা! এই “বস্তু” ই আবার কাজে লাগে কয়লাচোর, গরুপাচারকারী কিংবা ধর্ষনে দোষী সাব্যস্ত রাম রহিম ১৫ বার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাইরে ঘুরে বেরায়। কি! কিউট নাহ?
যাকগে যেটা বলার ছিল আমরা কেউ কেউ কখনও কখনও রেগে গিয়ে বলি “Don’t Forget – Don’t Forgive”। এবার কথা হচ্ছে forgive করতে গেলে তো forget করা দরকার। কিন্তু আপনি যদি এতকিছুর পরে ধর্ম নিয়ে এই আকচা-আকচি ভুলতে চান, এরা মোটামুটি প্ল্যান করে নিয়েছে আপনাকে সফল হতে দেবেনা। কাল মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ হবে, পরশু কলকাতার ব্রিগেডে বেদ-গীতা পাঠ হবে! “পরম সত্তা ব্রক্ষ্মা” আর ইসলামের “তাওহিদ” -কে পেন্ডুলামের মতো দোলানো হচ্ছে দু’দিকে—আপনার মনোযোগ মাঝখানে। ব্যাপারটা যে একই, সেসব মাথা থেকে যাস্ট আউট…!
কিন্তু এইসবের চক্করে কংগ্ৰেস থেকে বিজেপি ভায়া তৃণমূল হয়ে, আবার তৃণমূলে ফেরা হুমায়ুন বাবু এবার তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হয়ে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত জানিয়ে সেক্যুলার পার্টি গঠনের ডাক দিয়েছে।
ওহ হো! দেখুন তো এসবের চক্করে বায়ুদূষণ, পুকুর ভরাট, ২৬০০০ চাকরি, ১০৫ টাকার পেট্রলের কথা একদম out of sight, out of mind, যাকে বলে forget হয়ে গেছে। ফলে forgive হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে…
লাস্ট একটা ফুটনোট দিয়ে যাই, “চাকরিখেকো” কিংবা “গরুখোর” বলে যাকে আপনাদের সামনে ওরা উপস্থাপন করে সেই ভট্টাচার্য মশাই এরমধ্যে আবার হাইকোর্টে গিয়ে মামলা করে এইসব বিভাজন-তাণ্ডবের শিলান্যাস বন্ধ করতে বলতে গেছে। কি জ্বালা !
ধুর ভাল্লাগেনা…!
Khub valo hoyeche lekhata।
খুব সুন্দর ভাবেই অত্যন্ত স্বল্প ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে তুলে ধরা হয়েছে ❤️
লেখা ঠিক আছে কিন্তু আমার নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই। সব মিলিয়ে একটা হতাশা সামনের রাস্তা বন্ধ।
স্ংসদ রাজনীতিতে তো ভোট পেতে হবে এমন যাতে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে বেশি ভোট আসে আর তা আসবে নৈতিকতা বর্জন না করে, কিন্তু কোথাও কোন রাস্তা নেই যাতে পৌঁছনো যায় লক্ষ্যে..