দু দশক আগে সাভেজকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ফিরিয়ে এনেছিলেন ফিদেল
শান্তনু দে
সেদিনের রুদ্ধশ্বাস ৭২ ঘন্টা
‘ওরা এই রাতে আমার বাবাকে একটা হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে গেল…’
এপ্রিল, ২০০২। এই সাভেজের জন্যই দু’দিন দু’রাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি। কখনও সাভেজের সঙ্গে ফোনে কৌশল ঠিক করছেন, আবার কখনও সাভেজকে ফোনে না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায়, কখনও মন্ত্রিসভার বৈঠকে, সাভেজের বিশ্বস্ত মেজর জেনারেলকে পরামর্শ দিচ্ছেন, আবার কখনও সাভেজের মেয়ের ফোন পেয়ে তুরন্ত তা সম্প্রচার করতে একেবারে ‘সাংবাদিকের ভূমিকা’য়।
১১এপ্রিলের দুপুর।
আমরা যখন দেখলাম বিরোধীদের বিক্ষোভ মিছিল ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি ভবন মিরাফ্লোরেসের দিকে এগোচ্ছে, তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম ঘটনা গুরুতর দিকে মোড় নিচ্ছে। আসলে আমরা তখন ওই বিক্ষোভ মিছিলের সরাসরি সম্প্রচার দেখছিলাম। কেবেল চ্যানেল ভেনেজোলানা দে টেলিভিশনে। ওরা তখনও সম্প্রচার করছিল।
প্ররোচনা, গুলিবৃষ্টি। রূদ্ধশ্বাস মুহূর্ত। সব পর পর ঘটে চলেছে। মিনিটকয়েক বাদেই ভেনেজোলানা দে টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।
টুকরো টুকরো খবর আসতে শুরু করে, আসতে থাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে। আমরা জানতে পারলাম শীর্ষস্তরের কয়েকজন অফিসার রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। জানতে পারলাম রাষ্ট্রপতির প্রহরা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী আক্রমণ করছে মিরাফ্লোরেসে। ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকজন তখন তাঁদের কিউবার বন্ধুদের ফোন করছেন। শেষবিদায় জানাতে। কারণ তাঁরা প্রতিরোধ করতে এবং শহীদ হতে প্রস্তুত। বলছিলেন, তাঁরা তাঁদের দেশের জন্য নিজেদের জীবন দিতে প্রস্তুত।
ওই দুপুর থেকেই আমি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে ফোনে ধরার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছুতেই ধরতে পারছিলাম না। অবশেষে মধ্যরাতে, ১২টা ৩৮মিনিটে আমি খবর পেলাম সাভেজকে ফোনে ধরা যাচ্ছে।
আমি তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম সেই মুহূর্তের পরিস্থিতি কী?
সে জবাব দেয়— ‘আমরা এখন রাষ্ট্রপতি ভবনে, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। সামরিক প্রহরা আমরা হারিয়েছি। ওরা টেলিভিশনের লাইন কেটে দিয়েছে। লড়াইয়ে এগোনোর মতো আমার সঙ্গে কোনও বাহিনী নেই। তবে আমি পরিস্থিতি খুঁটিয়ে দেখছি, বিশ্লেষণ করছি।’
সঙ্গে সঙ্গেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওখানে তোমার সঙ্গে কীরকম বাহিনী আছে?’
‘২০০ থেকে ৩০০ জন, সবাই ক্লান্ত বিধ্বস্ত।’
‘কোনও ট্যাঙ্ক?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘না। কিছু ছিল, তবে প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফিরে গিয়েছে সেনা ছাউনিতে।’
আমি আবারও জিজ্ঞাসা করি, ‘অন্যান্য কী বাহিনী তোমার সঙ্গে রয়েছে?’
সে জানায়, ‘আছে কিছু, তবে তারা রয়েছে অনেক দূরে। তাদের সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই।’
সে আমায় আরও জানায় জেনারেল রাউল বাদুয়েল, প্যারাট্রুপার, ট্যাঙ্ক ও সামরিক বহরের শাখাসহ অন্যান্য বাহিনীর কথা। তবে সেই অনুগত বাহিনীর সঙ্গে সে সমস্ত যোগাযোগ হারিয়েছে।
আমি জিজ্ঞাসা করি, ‘আমি কি আমার মতামত তোমায় জানাতে পারি?’
সে সম্মতি জানায়, আমায় বলতে বলে।
‘একটা সম্মানজনক চুক্তির জন্য শর্ত তৈরি করো, রক্ষা করো তোমার সঙ্গে যারা আছেন তাঁদের জীবন, যাঁরা কি না তোমার সবচেয়ে অনুগত, বিশ্বস্ত। তাঁদের জীবন বিসর্জন দিতে নিষেধ করো, তুমি নিজেও দিও না।’
প্রত্যয় মেশানো অবেগভরা গলায় সে জবাব দেয়: ‘এখানে আমরা সবাই জীবন দিতে প্রস্তুত।’
সঙ্গে সঙ্গে আমি তাকে বলে উঠি, ‘আমি জানি সেকথা, তবে আমি মনে করি এই পরিস্থিতিতে আমি তোমার চেয়ে অনেক বেশি শান্তমনে চিন্তা করতে পারব। তাই পদত্যাগ করো না, আত্মসমর্পণের জন্য সম্মানজনক শর্ত দাবি করো। সুনিশ্চিত করো যাতে তুমি গণহত্যার শিকার না হও। কারণ আমি বিশ্বাস করি, তোমার নিজেকে রক্ষা করা উচিত। তাছাড়া, তোমার সঙ্গে যাঁরা আছেন, তাঁদেরও রক্ষা করাও উচিত। তাই নিজের জীবন বিসর্জন দিও না!’
১৯৭৩ সালে ১১ সেপ্টেম্বরে সালভাদোর আলেন্দের পরিস্থিতি আর ২০০২ সালের ১২ এপ্রিল সাভেজের অবস্থার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আমি ছিলাম পূর্ণ সচেতন। আলেন্দের সঙ্গে একজন সেনারও সমর্থন ছিল না। সাভেজের সঙ্গে ছিল অধিকাংশ সেনার সমর্থন, সেনাবাহিনীর মধ্যে অফিসাররা ছিলেন তাঁর পিছনে, বিশেষ করে তরুণরা।
‘পদত্যাগ করো না! পদত্যাগ করো না!’ আমি বলতে থাকি।
সেইসঙ্গেই অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকি। কীভাবে সাময়িক সময়ের জন্য সে দেশ ছাড়তে পারে, কীভাবে অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত কিছু অফিসারদের সঙ্গে সে যোগাযোগ করতে পারে, দেশ ছাড়ার আগ্রহের ব্যাপারে তাঁদেরকে আশ্বস্ত করতে পারে— কিন্তু পদত্যাগ করা নয়।
সাভেজ কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়, শেষে আমার প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত হয়। সবকিছুই তখন শত্রু শিবিরের সামরিক কর্তাদের উপর নির্ভর করছে।
সেসময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসে ভিসেন্তে রাঙ্গেল, যিনি তখন সাভেজের সঙ্গে ছিলেন, তিনি পরে ‘আমাদের সাভেজ’ গ্রন্থে লেখককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন: ‘গণ-আত্মবলিদান থেকে সরে আসতে সেসময় ফিদেলের আহ্বান ছিল নির্ণায়ক। এটি সত্যিই ছিল নির্ণায়ক উপাদান। অস্পষ্ট অবস্থা থেকে আরও ভালো কিছু দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন ফিদেলই। যা সত্যিই আমাদের সাহায্য করেছিল।’
সাভেজের সামনে ছিল তিনটি সমাধান সূত্র: নিজেকে মিরাফ্লোরেসের মধ্যে ব্যারিকেড করে রাখা এবং মৃত্যুকে প্রতিরোধ করা— জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়ে বেরিয়ে এসে মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করা, যদিও ওই পরিস্থিতে যা সফল হওয়ার বস্তুতই কোনও সম্ভাবনা ছিল না— অথবা পদত্যাগ না করে দেশ ত্যাগ করা, অন্য কোনও সময়ে লড়াইয়ের জন্য কিছুটা সময় নেওয়া, যাতে ছিল সাফল্যের প্রকৃত বাস্তব সম্ভাবনা।
আমাদের প্রস্তাব ছিল তৃতীয় পথ।
আমার শেষ কথা যা সে মেনে নিয়েছিল, তার মর্মবস্তু: ‘সেইসব সাহসী মানুষদের জীবন রক্ষা করো যাঁরা এই অপ্রয়োজনীয় লড়াইয়ে তোমার সঙ্গে আছেন।’
প্রবল প্রত্যয় থেকেই আমার মনে এসেছিল এই ধারণা। সাভেজের মতো একজন তুমুল জনপ্রিয় নেতাকে যদি প্রতারণার পথে উৎখাত করা হয়, যদি সেই পরিস্থিতিতে তাকে হত্যা করা না হয়, তবে মানুষ— তাঁর সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে ভালো সংখ্যার সমর্থন— তাকে ফেরানোর দাবি জানাবেই জানাবে। এবং সেই প্রত্যাবর্তন অনিবার্য। সেকারণেই আমি এই প্রস্তাবের দায়িত্ব নিয়েছিলাম।
সেই মুহূর্তে, যখন তাঁর দ্রুততার সঙ্গে ফিরে আসার প্রকৃত বিকল্প মজুত, তখন লড়াইয়ে গিয়ে আত্মবলিদানের কোনও মানে হয় না। যেমন করেছিলেন সালভাদোর আলেন্দে। যদিও, সেই পরিস্থিতিতে তিনি সঠিকই করেছিলেন।
ওই মুহূর্তে, কূটনৈতিক সহযোগিতা করা ছাড়া কিউবার আর কোনও পথ ছিল না। মাঝরাতে আমরা সমস্ত রাষ্ট্রদূতকে ডাকি। বলি আমাদের বিদেশমন্ত্রী ফেলিপে রোকের সঙ্গে তাঁদের কারাকাসে যেতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপতি সাভেজকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসতে হবে।
ফিদেল বলে চলেছেন ইগনাসিও রামোনেটকে। সেই সাক্ষাৎকার নিয়েই রামেনেটের বই ‘মাই লাইফ’।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যে সাভেজ ফিরে আসবেন, তা নিয়ে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ আমার ছিল না। আমার তখন একটাই কাজ— কীভাবে ওকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
ওকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা দু’টো প্লেন পাঠানোর প্রস্তাব দিলাম। অভ্যুত্থানের নেতারা কি তাকে ছেড়ে দিতে রাজি হবে? অভ্যুত্থানের নেতারা ওই সূত্র খারিজ করে দিলেন। বললেন সাভেজের কোর্ট-মার্শাল হবে।
প্যারাট্রুপারের উর্দি পরে সাভেজ বেরিয়ে গেলেন। সঙ্গী একমাত্র তাঁর বিশ্বস্ত জেশাস সুয়ারেজ। গেলেন অভ্যুত্থানের সদরদপ্তর ও কমান্ড সেন্টার ফোর্ট তিউনায়।
ঘণ্টাদুয়েক পর যখন আমি ওকে আবার ফোনে ধরার চেষ্টা করি, তখন সাভেজ বন্দি। ওর সঙ্গে সমস্ত রকমের যোগাযোগ ততক্ষণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। টেলিভিশনে তখন ওর ‘পদত্যাগের’ খবর সম্প্রচার করা হচ্ছে। ওর সমর্থকসহ বাকি দেশকে হতাশায় ডুবিয়ে দিতেই ছিল এই ‘পদত্যাগের’ খবর।
ঘণ্টাকয়েক বাদে ১২ এপ্রিলের সকাল। সাভেজ ফোনে কথা বলেন তার মেয়ে মারিয়া গাব্রিয়েলার সঙ্গে। মারিয়াকে জানায় সে পদত্যাগ করেনি। সে এখন ‘বন্দি রাষ্ট্রপতি।’ মারিয়াকে সাভেজ বলে আমার (ফিদেল) সঙ্গে যোগাযোগ করতে, যাতে আমি গোটা বিশ্বকে একথা জানাতে পারি। মারিয়া সঙ্গেই সঙ্গেই আমায় ফোন করে। সকাল ১০টা ০২ মিনিট। মারিয়া বারবার আমায় বাবার কথাগুলো শোনাতে থাকে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞাসা করি, ‘তুমি কি গোটা দুনিয়াকে এই কথা শোনাতে চাও?’ সে জানায়, ‘বাবার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।’
এক সেকেন্ডও সময় অপচয় না করে আমি কিউবা টি ভি চ্যানলের বিশেষ অনুষ্ঠান গোল টেবিলের সঞ্চালক রান্ডি অ্যালেনসোকে ফোনে ধরি। টেপ-রেকর্ডার হাতে রান্ডি আমার দেওয়া নাম্বারে মোবাইল ফোনে ধরে মারিয়াকে। তখন প্রায় ১১টা বাজে। স্পষ্ট, আবেগভরা মারিয়ার গলা রেকর্ড করা হয়। ওই দিন বেলা ১২টা ৪০মিনিটে আমাদের জাতীয় টেলিভিশনে মারিয়ার সেই কণ্ঠস্বর সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেইসঙ্গে ওই টেপের কপি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন সংস্থাগুলিকেও দেওয়া হয়। সি এন এন সেই সংবাদ ভেনেজুয়েলা থেকে সস্প্রচার করে। যেমন তাদের দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেইভাবেই।
রাত সওয়া এগারোটা। আবার মারিয়ার ফোন। গলায় আতঙ্ক। আমি জিজ্ঞাসা করি ‘কী হলো?’
‘ওরা এই রাতে আমার বাবাকে একটা হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে গেল।’ বলল মারিয়া। ‘কেউ জানে না কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো!’
রান্ডি আমার সঙ্গেই ছিল। সঙ্গে ওঁর রেকর্ডারও। দুপুরের মতোই মারিয়ার ফোনকল রেকর্ড করা হলো। এবং তুরন্ত সম্প্রচার।
পরদিন মারিয়া বলল, সশস্ত্র বাহিনীর ইনস্পেকটার জেনারেল লুকাস রিনকন আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি পরে লুকাসের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমায় জানান, প্যারাশুট ব্রিগেড, আর্মড ডিভিসন এবং এফ-১৬— সবই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে। পালটা পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। আমি তাঁকে সেনারা যাতে নিজেরা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে না জড়িয়ে পড়েন, তা দেখার কথা বলি।
মিনিটকয়েক বাদেই আবার মারিয়ার ফোন।
এবারে সে আমাকে জানায় প্যারাশুট ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল বাদুয়েল আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি ও তাঁর ব্রিগেড ভেনেজুয়েলার মানুষ ও দুনিয়ার জন্য বিবৃতি দিতে চান। আমি বাদুয়েলকে বলি, এখন এই মুহূর্তের কাজ হলো সাভেজকে কোথায় বন্দি করে রাখা হয়েছে তা খুঁজে বের করা। এবং বিশ্বস্ত বাহিনী পাঠিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা। তিনি তখন সিনিয়র অফিসার মেজর জেনারেল জুলিও গার্সিয়াকে ফোনে ধরিয়ে দেন। গার্সিয়া তখন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সচিব। আমি তাঁকে আবার বলি সাভেজের মেয়ের কথা। বলি সাভেজ এখনও সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি। আমি তাঁকে বলি সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা, সিমন বলিভারের কথা, ভেনেজুয়েলার ইতিহাস। সবশুনে দেশপ্রেমিক, সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ সেই অফিসার আমায় বলেন, সাভেজ পদত্যাগ করেননি এটা যদি সত্যি হয়, তবে তিনি বন্দি রাষ্ট্রপতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন।
মোবাইল ফোন, রেকর্ডার হাতে রান্ডির পাশে আমিও তখন একজন সাংবাদিক। খবর সংগ্রহ করছি, আর সম্প্রচার করছি।
এদিকে কারাকাসের বিশপ গিয়ে তখন সাভেজকে বোঝাচ্ছেন কেন তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। ‘গৃহযুদ্ধ এড়াতে’ এটা করা উচিত বলে বিশপ সাভেজের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। তিনি সাভেজকে পদত্যাগ করে একটি চিঠি লিখতে বলেন। সাভেজ তখনও জানে না কারাকাসে কী ঘটে চলেছে।
সাভেজকে হত্যার জন্য ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ফায়ারিং স্কোয়াডের সেনারা তাঁকে হত্যা করতে অস্বীকার করেন। তাঁরা পালটা বিদ্রোহের হুঁশিয়ারি দেন। যাঁরা সাভেজের দেহরক্ষী ছিলেন, তাঁরা সাভেজকে রক্ষা করার ব্যাপারে তখন প্রস্তুত। সাভেজ বিশপের কাছে সময় নিতে থাকে। বিবৃতির একটা খসড়া প্রথমে লেখে। সাভেজ বুঝে গিয়েছিল একবার লেখা শেষ হলেই তাকে হত্যা করা হবে। পদত্যাগ করার কোনও ইচ্ছে তার নেই। আগে তাকে হত্যা করতে হবে।
পরে আবার বাদুয়েলকে ফোনে ধরতে পারি। সে আমায় জানায় সাভেজের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সাভেজ এখন লা অর্চিলা দ্বীপে। সবচেয়ে ভালো কোন পথে তাঁকে উদ্ধার করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করি। আমি তিনটি মৌলক পদক্ষেপের কথা বলি: বিচক্ষণতা-সতর্কতা, দক্ষতা এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো বাহিনী।
এদিকে কারাকাসে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছেন। সাভেজকে ফেরানোর দাবিতে কারাকাস উত্তাল। রাষ্ট্রপতির বিশেষ বাহিনী আবার মিরাফ্লোরেসের দখল নিয়েছে। সাভেজকে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছে।
শেষে ১৪ এপ্রিলের কাকভোর। সাভেজের বিশ্বস্ত সেনাবহিনী তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে মিরাফ্লোরেসে।
দু’দিন আমি চোখের পাতা এক করতে পারিনি। তবে কীভাবে মানুষ, দেশপ্রেমিক সেনারা আইনের শাসনকে রক্ষা করেন, তার সাক্ষী থাকা আমার কাছে পরম পাওয়া।
চিলির ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি আর হয়নি।
শান্তনু দের লেখাটা পড়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে। এত সাবলীল লেখা।এত সহজ ভাষা।গভীর বিষয়কে সহজবোধ্য করে লেখা, এটা মুখের কথা নয়।
লেখক কমরেড শান্তনু এবং টিম ছাত্র সংগ্রামকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন।
বহুল প্রচার দরকার। কিছু অংশ স্ক্রিন শট করে আমার স্টোরি তে রাখলাম ।