বাজেট ২০২৬-২৭ : অবহেলিত শিক্ষা

Budget 2026-27: Neglected Education

শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগের বিষয়টিকে প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। ‘স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (SCERT)-এর মানোন্নয়নের কথা কেবল পরিশিষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তাও পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গে (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ৩২)। শিক্ষকদের ঘাটতি, চুক্তিবদ্ধ নিয়োগ বা চাকরির অবস্থার অবনতি নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। প্রযুক্তিকে এখানে শিক্ষকদের সহায়ক হিসেবে নয়, বরং বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হওয়ার সময় বলেছিলেন, ” নতুন এক যুগের বীজ বপন করবে নয় শিক্ষা নীতি যা একবিংশ শতাব্দীর ভারতকে নতুন দিশা দেখাবে।” আর গতকাল যে বাজেট দেশের সংসদে পেশ হলো তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোদির দাবির সাথে কেন্দ্রের সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের কোন মিল নেই। স্কুল শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য বরাদ্দগুলোকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করলে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোকে শক্তিশালী করবার পরিবর্তে এই বাজেটে স্থবিরতা, ভারসাম্যহীনতা এবং ভুল অগ্রাধিকারের চিত্র ফুটে ওঠে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ৬৫ পাতার ভাষণ শুনলে বিজেপির সরকারের শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিবর্তে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতি অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

বিজেপি এই বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে মোট বাজেট বরাদ্দ নিয়ে লাফালাফি করছে। কিন্তু আসল বাস্তবতা কি? এই বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে জন্য মোট ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ৮.২৭ শতাংশ বেশি (Union Budget 2026–27, Summary of Expenditure, Ministry of Finance)। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিবেচনায় আসলে তথাকথিত এই বৃদ্ধি স্থবিরতার সাক্ষ্যই বহন করে। নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ তে ফলাও করে লেখা হয়েছিল শিক্ষা ক্ষেত্রে জিডিপির ৬% বরাদ্দ করা হবে (National Education Policy 2020, Ministry of Education)। কিন্তু এ বছরের বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপির মাত্র ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে (Union Budget 2026–27, Education Expenditure vs GDP; World Bank Education Spending Data 2022)। মোট ৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বাজেটের মাত্র ২.৬ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে যা মহামারী পূর্ববর্তী ২০১৯-২০ সালের (৩%) তুলনায় কম (Union Budget 2019–20, Expenditure Profile, Ministry of Finance)।

২০২৬-২৭ সালের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ হলো ৮৩৫৬২ কোটি টাকা (Notes on Demands for Grants 2026–27, Department of School Education and Literacy, পৃষ্ঠা ৮৮)। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই পরিমান বরাদ্দে মহামারী পরবর্তী সময়ে সরকারি শিক্ষাক্ষেত্রে যে চরম সংকট ঘনীভূত হয়েছে তা থেকে রেহাই পাওয়ার কোনও উপায় নেই। সবচেয়ে সমস্যা হল ব্যয়ের কাঠামোর মধ্যে। কারণ শিক্ষার জন্য মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপিটাল আউটলে এখনো নগণ্য। ৮৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেটের মধ্যে ক্যাপিটাল আউটলে মাত্র ০.৮৫ কোটি টাকা (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৮৮)। এর অর্থ হল নতুন স্কুল , শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি গবেষণাগার তথা পরিকাঠামো সম্প্রসারনের জন্য কার্যত কোন বরাদ্দ নেই। এখন এটা আমাদের ধরে নিতে হবে নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপি মনে করে পরিকাঠামোর না গড়ে তুলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা সম্ভব।

“সমগ্র শিক্ষা অভিযান” আগে যাকে আমরা সর্বশিক্ষা অভিযান নামে জানতাম, স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল অর্থের যোগান দেয়। এ বছর বাজেটে “সমগ্র শিক্ষা অভিযান”-এর বরাদ্দ গত বাজেট থেকে নামমাত্র বাড়িয়ে ৪২ হাজার ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৮৯)। অনেকের কাছে এই নামমাত্র বৃদ্ধি ইতিবাচক মনে হলেও বর্তমানে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের ভিতর প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা , শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল লার্নিং সহ প্রায় সবই নথিভুক্ত। ফলত দেখা যাচ্ছে এই বাজেটে ছাত্র প্রতি বরাদ্দ কার্যত কমে গেছে।

PM Poshan এর আওতায় মিড ডে মিলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রেও গত বাজেটের থেকে সামান্য কিছু টাকা বরাদ্দ বেড়ে মোট বরাদ্দ হয়েছে ১২৭৫০ কোটি টাকা (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৮৯)। বস্তুত খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রান্নার খরচ বৃদ্ধির ফলে মিড ডে মিলে দেওয়া খাবারের প্রকৃত পুষ্টি মান ব্যাপকভাবে কমতে চলেছে। আসলে এই বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত মান উন্নয়ন বা সুযোগের অভাব পূরণে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আগের বছরের বাজেটে কাটছাঁট করা বরাদ্দ কে পুনর্বহাল করা হয়েছে মাত্র।

শিক্ষা ক্ষেত্রে বুনিয়াদি এবং কাঠামোগত প্রয়োজনের বদলে কিছু প্রতীকী উদ্যোগকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে । পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পেও বাছাই করা কিছু স্কুলকে জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে ৭৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৮৯)। কিন্তু এই প্রকল্প সীমিত সংখ্যক মডেল স্কুলের ভিতরেই কেন্দ্রীভূত। অধিকাংশ সরকারি স্কুলের দৈনন্দিন সংকট এতে সমাধান হবে না। শিক্ষক কেন্দ্রিক প্রকল্প গুলোর অবস্থা আরো উদ্বেগজনক। শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং লার্নিং আউটকাম উন্নয়নের জন্য “স্টারস” প্রকল্পের বরাদ্দ এবছরের বাজেটে একই রাখা হয়েছে (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৮৯)। এর থেকেই পরিষ্কার শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন অগ্রাধিকার হারিয়েছে।

এই বাজেটে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে মোট বাজেট বরাদ্দ গত বছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় মাত্র চার হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৫৫ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে (Notes on Demands for Grants 2026–27, Department of Higher Education, পৃষ্ঠা ৯২)। যদিও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির বড় অংশই গেছে নির্দিষ্ট কিছু ফ্লাগশিপ বা নামি প্রতিষ্ঠানে এবং সাধারণভাবে উচ্চশিক্ষা অবহেলিত থেকেছে। উচ্চশিক্ষায় প্রস্তাবিত বরাদ্দের একটি বড় অংশ আইআইটি (১২১২৩ কোটি) এবং এনআইটির (৬২৬০ কোটি) মতন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৯৪–৯৫)। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলির জন্য বরাদ্দ, গত বছরের সংশোধিত বরাদ্দ ১৭ হাজার ৮৫ কোটি টাকার তুলনায় খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৭৪৪০ কোটি টাকা (Notes on Demands for Grants 2026–27, পৃষ্ঠা ৯৪)।

এই বাজেটের প্রধান দুর্বলতা হলো কাঠামোগত বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিটি এবং ‘চ্যালেঞ্জ-ভিত্তিক’ প্রকল্পের ওপর নির্ভরতা। সরকার একটি ‘হাই পাওয়ারড এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ স্ট্যান্ডিং কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেছে (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ১০)। এই কমিটিকে কর্মসংস্থান, পরিষেবা এবং দক্ষতা নিয়ে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কমিটি ক্লাসরুম তৈরি করে না, শিক্ষক নিয়োগ করে না বা স্কুল ছুটের হার কমায় না। এই প্রস্তাবটি মূলত শিক্ষাক্ষেত্রের সংকটকে মোকাবিলার পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সমস্যাগুলিকে প্রলম্বিত রাখার একটি কৌশল। এখানে কোনো সময়সীমা, তহবিলের পরিমাণ বা এর টার্গেট কি হবে তার বিস্তারিত কোনও উল্লেখ নেই।
বাজেট বক্তৃতায় প্রাথমিক ও স্কুল শিক্ষা প্রায় পুরোপুরি অদৃশ্য। সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কমানো, মহামারীর পরবর্তী ঘাটতি মেটানো বা মিড-ডে মিলকে শক্তিশালী করার কোনো উল্লেখ নেই। সার্বজনীন স্কুল শিক্ষার বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকা এই বাজেটের অন্যতম বড় বিচ্যুতি। যখন সরকার স্কুল শিক্ষা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়, তখন বৈষম্য আরও গভীর হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট এই বিষয়ে কোনো সংশোধনমূলক দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও কেবল প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘চ্যালেঞ্জ রুটের’ মাধ্যমে পাঁচটি ‘ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ’ তৈরির প্রস্তাবকে একটি ফ্ল্যাগশিপ ধারণা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ১২)। তবে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এই টাউনশিপগুলো বিদ্যমান সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শক্তিশালী করবে নাকি উচ্চশিক্ষার বেসরকারিকরণকে উৎসাহিত করবে, তা স্পষ্ট নয়। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় যখন শিক্ষক, হোস্টেল এবং গবেষণাগারের সংকটে ভুগছে, তখন এই ধরনের বিমূর্ত নগর পরিকল্পনার ধারণা বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ।

প্রতিটি জেলায় স্টেম (STEM) প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি করে ছাত্রীদের হোস্টেল তৈরির প্রস্তাব সীমিত হস্তক্ষেপের আরেকটি উদাহরণ (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ১২)। যদিও উদ্দেশ্যটি প্রগতিশীল বলে মনে হবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো জেলার সংখ্যার তুলনায় মানসম্মত সরকারি স্টেম প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। পরিকাঠামো, স্কলারশিপ এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমান্তরাল বিনিয়োগ ছাড়া শুধু হোস্টেল উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে পারবে না।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগের বিষয়টিকে প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। ‘স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (SCERT)-এর মানোন্নয়নের কথা কেবল পরিশিষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তাও পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গে (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ৩২)। শিক্ষকদের ঘাটতি, চুক্তিবদ্ধ নিয়োগ বা চাকরির অবস্থার অবনতি নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। প্রযুক্তিকে এখানে শিক্ষকদের সহায়ক হিসেবে নয়, বরং বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই বাজেটে মৌলিক শিক্ষা যখন সম্পূর্ণ অবহেলিত তখন কেন্দ্র সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে AVGC(Animation, Visual Effects, Gaming and Comics) ল্যাব নামক একটি নতুন জুমলা দেশের সামনে হাজির করেছে। দেশের শিক্ষামন্ত্রী থেকে বিজেপির আইটি সেল AVGC ল্যাব প্রতিষ্ঠাকে যুগান্তকারী বলে প্রচার করতে চাইছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন গোটা দেশে ১৫ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫০০টি কলেজে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্য দিয়ে “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর” তৈরির জন্য AVGC ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। বস্তুতপক্ষে যখন অধিকাংশ সরকারি স্কুলে সাধারণ কম্পিউটার ল্যাব এবং নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের মতন প্রাথমিক পরিকাঠামোই নেই সেখানে এই ধরনের হাইটেক ল্যাব স্থাপন বিজ্ঞাপনী চমক ছাড়া অন্য কিছুই নয়। তদুপরি, ডিজিটাল পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও গেমিং অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং ল্যাবগুলোর দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আর্থিক রূপরেখা না থাকায়, এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি ব্যয়বহুল প্রতীকী প্রকল্পে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেকটি সংকটজনক দিক হলো শিক্ষাকে একটি সামাজিক সম্পদ হিসেবে দেখার পরিবর্তে দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া। বাজেট বক্তৃতার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে কেয়ারগিভার, অ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল, পর্যটন কর্মী এবং পরিষেবা খাতের কর্মীদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ (Union Budget Speech 2026–27, পৃষ্ঠা ১১–১৩)। এই উদ্যোগগুলো স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলেও তা শক্তিশালী গণশিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না। বাজেটে শিক্ষাকে সামাজিক উন্নয়নের পরিবর্তে কেবল বাজারের উপযোগী হওয়ার হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সবশেষে বলা যায় বরাদ্দের অভাব, কমিটির ওপর নির্ভরতা, স্কুল শিক্ষা নিয়ে নীরবতা এবং শিক্ষক-কেন্দ্রিক সংস্কারের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে এই বাজেট শিক্ষাক্ষেত্রে অর্থবহ রূপান্তরের জন্য অকার্যকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *