ইতিহাস বিকৃতি: একটি ষড়যন্ত্র
দেবব্রত রায়
আরএসএস ও বিজেপি, যে কেবল বামপন্থী ও কমিউনিস্টদের অপমান করে এসেছে তাই নয়, বরং বাঙালি বিপ্লবীদেরকেও এরা অপমান করতে ছাড়েনি। সম্প্রতি আরএসএসের পোস্টার বয় অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘Kesari: Chapter 2’তে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুকে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ এবং বারিন্দ্রকুমার ঘোষ কে ‘বীরেন্দ্র কুমার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকবার কিছু হিন্দি ছবিতে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ও বলা হয়েছে। এভাবেই পাঠ্য পুস্তক ও সিনেমা তথা বিনোদন জগতে প্রকৃত ইতিহাসকে বাদ দিয়ে রীতিমতো “ছদ্ম ইতিহাস” রচনা করার মাধ্যমে, তা তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়ে এবং ছাত্র ছাত্রীদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে । বলা বাহুল্য হিটলারের শিষ্যরা হিটলারের- “Catch them young” নীতিকে খুব ভালোভাবেই প্রয়োগ করছে।
ইতিহাস বিষয়টিকে অনেকেই খুব একটা পছন্দ করেন না, কারো কারো মতে এটি অপ্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। সম্ভবত এই কারণেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচর্চা দিনদিন কমে আসছে। তবে ইতিহাস যারা পড়েন, ইতিহাস চর্চা যারা করে থাকেন এবং সর্বোপরি ইতিহাসকে যারা ভালবাসেন, তারা জানবেন যে এই বিষয়টির মধ্যে একটা আলাদা নেশা আছে, মানব সভ্যতার সেই গহীন অন্ধকারময় যুগ পেরিয়ে গুহামানব থেকে আধুনিক মানুষের বিবর্তন, কত রাজা, কত শাসক, তাদের আবার কত কত সাম্রাজ্য। সময়ে সময়ে পৃথিবীর কত দেশে গড়ে ওঠা সাধারণ মানুষের মুক্তির সংগ্রামের কাহিনী- মূলত এসব নিয়েই ইতিহাস।ইতিহাসকে ভালোবাসতে পারলে একে অপছন্দ করার কোনো জায়গা নেই। John Dalberg Acton এর ভাষায় বলতে গেলে, “History is not a burden on the memory but an illumination of the soul.” তবে ইতিহাস ততক্ষণ অবধিই পাঠযোগ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত তা অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করে নির্ভুল তথ্য প্রদান করে এবং যদি তা না হয়, তবে সেই ইতিহাস কেবল পাঠের অযোগ্যই নয়, বরং সমাজের পক্ষে একটি বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুত এখন তাই হচ্ছে। আরএসএস ও বিজেপি নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে ইতিহাস বিকৃতির কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
ইতিহাস ও ঐতিহাসিকদের নিয়ে আরএসএস এবং বিজেপি’র মাথা ব্যাথা আজকের নয়, কেননা অতীতের গর্ভেই লুকিয়ে আছে আরএসএসের স্বাধীনতা বিরোধিতা এবং ব্রিটিশদের দালালি করার খতিয়ান। এই আরএসএস’ই স্বাধীনতার পর ভারতের জাতীয় পতাকা’কে অস্বীকার করেছিল। তারা তাদের গোপন ইতিহাস আজকের নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চেয়ে নির্মাণ করতে চেয়েছে এক বিকৃত ইতিহাস ভাষ্য। ইতিহাস বোধকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে গেলে সবার আগে বদলে ফেলতে হবে ইতিহাসের যাবতীয় সিলেবাস, স্কুল স্তর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত।
সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (এনসিইআরটি)-এর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম ও নবম – দশম শ্রেণীর পাঠ্যসূচীতে দেশভাগ সম্পর্কিত একটি নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করা হয়েছে। যেখানে আগে দেশভাগের জন্য মহম্মদ আলী জিন্না ও লর্ড মাউন্টব্যাটেন’কে দায়ী করা হতো, সেখানে বর্তমান সিলেবাসে সরাসরি ভাবে জিন্না ও মাউন্টব্যাটেন-এর পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী ও কংগ্রেসকে দায়ী করা হয়েছে। এই ধরনের পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল উঠেছে, বিরোধীরা এর বিরুদ্ধে সুর চরালেও বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা এই পরিবর্তনকে দু’হাত তুলে সমর্থন করছেন। বস্তুত, দেশভাগের পেছনে ‘হিন্দু মহাসভা’ ও ‘মুসলিম লীগে’র গোপন আঁতাত দায়ী। ১৯৩৮ সালে প্রথমবার দেশভাগের দাবী তোলে ‘হিন্দু মহাসভা’, ১৯৪০ সালে জিন্নার নেতৃত্বে ‘মুসলিম লীগ’ তারই পুনরাবৃত্তি করে।
এখানেই শেষ নয়। এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের অবদানকে বারংবার তুচ্ছ করে দেখানো এবং কমিউনিস্টদের দেশদ্রোহীর আখ্যা দিয়ে কালিমালিপ্ত করতে আরএসএস সর্বদাই প্রচেষ্টা করে আসছে। যেখানে ১৯২১ সালে কমিউনিস্টরাই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সর্বপ্রথম ‘পূর্ণ স্বরাজে’র দাবি তুলেছিলো, আন্দামানের সেলুলার জেলে কারাবন্দী বিপ্লবীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন কমিউনিস্ট। তা সত্ত্বেও কমিউনিস্টদের “দেশদ্রোহী”- এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করে অপমান করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ‘আসল দেশদ্রোহী কারা?’ জেলবন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা প্রদানকারী বিনায়ক দামোদর সাভারকার কে বিজেপি ও আরএসএস “বীর” উপাধি তে ভূষিত করেছে। সাভারকার নিজের ‘Mercy Petition’ এ নিজেকে “ব্রিটিশ সরকারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেবক”- বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি। যদিও সাভারকারের জীবনীর লেখক বিক্রম সম্পান্থ দাবি করেন যে, সেলুলার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাভারকার পুনরায় স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে সক্রিয়ভাবে অংসগ্রহন করেন। ভগৎ সিং, রাসবিহারী বসু, সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে নাকি তার যোগাযোগ ছিলো। কিন্তু এসবের কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তাছাড়া যদি আমরা সাভারকারের কিছু বিখ্যাত বই, যেমন ‘The essentials of Hindutva’, ‘Hindutva: who is a Hindu’ ঘেঁটে দেখি তবে বুঝতে পারবো যে ভগৎ সিং, রাসবিহারী বসু ও সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে সাভারকারের মতাদর্শের পার্থক্য আকাশ পাতাল এবং সাভারকার যে কি পরিমান সাম্প্রদায়িক ছিলেন, তাও এই বই গুলি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।
আরএসএস ও বিজেপি, যে কেবল বামপন্থী ও কমিউনিস্টদের অপমান করে এসেছে তাই নয়, বরং বাঙালি বিপ্লবীদেরকেও এরা অপমান করতে ছাড়েনি। সম্প্রতি আরএসএসের পোস্টার বয় অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘Kesari: Chapter 2’তে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুকে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ এবং বারিন্দ্রকুমার ঘোষ কে ‘বীরেন্দ্র কুমার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকবার কিছু হিন্দি ছবিতে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ও বলা হয়েছে। এভাবেই পাঠ্য পুস্তক ও সিনেমা তথা বিনোদন জগতে প্রকৃত ইতিহাসকে বাদ দিয়ে রীতিমতো “ছদ্ম ইতিহাস” রচনা করার মাধ্যমে, তা তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়ে এবং ছাত্র ছাত্রীদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে । বলা বাহুল্য হিটলারের শিষ্যরা হিটলারের- “Catch them young” নীতিকে খুব ভালোভাবেই প্রয়োগ করছে। কেননা, তরুণ প্রজন্মের ছাত্র ছাত্রীদের মগজে এই “ছদ্ম ইতিহাস”কে পাঠ্য সিলেবাসের মাধ্যমে প্রবেশ করালে তা, বিজেপি ও আরএসএসের “হিন্দি – হিন্দু – হিন্দুস্তান” এর অ্যাজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে বিশেষ সহায়কের ভূমিকা পালন করবে।
আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো যে, ২০১৪ সালের পর থেকেই মূলত ইতিহাসের নামে বিকৃত বিজ্ঞান ও যুক্তিহীনতার চর্চা ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালে মুম্বাই এ আয়োজিত ‘All India Medical Science’ এর একটি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হিন্দু পুরাণে বর্ণিত গণেশের শরীরে হাতির মাথা লাগানোর ঘটনাকে প্রাচীন ভারতের প্লাস্টিক সার্জারির একটি নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন। একবার ভেবে দেখুন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল, গণতান্ত্রিক দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের অ-বিজ্ঞানের প্রচার নিজ মুখে করছেন । এটি কেবল একটি উদাহরণ মাত্র, এরপর থেকে আরও বেশি বেশি তত্ত্ব সামনে আসতে থাকে, যেমন – রামায়ণ ও মহাভারতে বর্ণিত ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হলো আধুনিক বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্র, রাবণের ‘পুষ্পক রথ’ ই হলো বিশ্বের প্রথম নির্মিত বিমান এবং এই বিমান নির্মাণের পদ্ধতি নাকি রাইট ব্রাদার্সের বহুপূর্বে ঋষি ভরদ্বাজ ‘বৈমানিকা শাস্ত্র’ এ বর্ণনা করে গেছেন। ‘স্টেম সেল গবেষণা’ ও ‘টেস্ট টিউব বেবি’ প্রসঙ্গে কৌরবদের জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এখানেই শেষ নয়। ২০১৮ সালে মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী, ড: সত্যপাল সিং চার্লস ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ কে সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়ার কথাও বলেন। কেননা, তার মতে ডারউইনের বিবর্তনবাদ নাকি ভ্রান্ত। মজার বিষয় হলো এই যে, যারা নিজেদেরকে ‘বানর সেনা’ বলে সগর্বে পরিচয় দেয়, তারা নিজেদেরকে বাঁদরের উত্তরপুরুষ বলে মেনে নিচ্ছে না কেনো, এই বিষয়টি আশ্চর্যের।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাস চর্চা ভারতের ইতিহাসকে তিনভাগে ভাগ করেছে যথা – ‘হিন্দু যুগ’, ‘মুসলমান যুগ’ ও ‘ব্রিটিশ যুগ’। ভারতীয় ইতিহাসের এই তিনটি পর্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত পর্যায় হলো- ‘মুসলমান যুগ’, যাকে আমরা ‘সুলতানি’ ও ‘মুঘল যুগ’ বলেও জানি। আরএসএস বারংবার এই কথা তুলে ধরেছে যে, প্রাচীন তথা ‘হিন্দু যুগ’ ছিলো ভারতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময়কাল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই গৌরব বিনষ্ট হলো কি করে? কি করে আমাদের বিকাশের অগ্রগতি থেমে গেলো? তখন তারা সোজাসুজি দোষ চাপায় মধ্যযুগীয় মুসলমান শাসনের ওপর, তারাই নাকি ভারতের অগ্রগতির চাকা থামিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশরাও এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই এদেশের শাসন ক্ষমতা হস্তগত করে যে, মুসলমান শাসকদের অপশাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ভারতীয়দের সভ্য করতেই তারা এসেছে। এর থেকে ভারতের হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক এক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় নিজেদের ইতিহাস নিয়ে, যেই দ্বন্দ্বের সূচনা করেছিল ব্রিটিশরা এবং তাদের চ্যালারা আজও এই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, তারা ক্রমাগত মানুষকে বুঝিয়েছে যে, মুসলমান শাসকরা তাদের শাসনকালে বেছে বেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের অত্যাচার করেছে, এবং ধর্মগত ভেদাভেদের কারণেই হিন্দু শাসকদের সাথে তাঁদের দ্বন্দ্ব ছিলো। তবে ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখলে আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত হবো যে এই ধারণা সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যা। মুঘল আমলে যোগ্য ব্যক্তিরা নিজেদের অধিকার যথাযথ ভাবে পেয়েছিলেন। ধর্মীয় পরিচয় সেক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আকবরের শাসনকালে তাঁর সাম্রাজ্যের অর্থনীতির দায়িত্বে থাকা টোডরমল ছিলেন হিন্দু তার পাশাপাশি তিনি ছিলেন আকবরের মূল পরামর্শদাতা। ‘হলদিঘাটির যুদ্ধ’, যাকে কেন্দ্র করে আজ পর্যন্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বলেন যে, এই যুদ্ধ ছিলো মুসলমান আকবর এবং হিন্দু রাজা মহারানা প্রতাপের মধ্যে ধর্মের লড়াই। তবে বাস্তবে তা সত্য নয়। কেননা, এই যুদ্ধে আকবরের সেনাপ্রধান ছিলেন রাজা মানসিংহ এবং মহারানা প্রতাপের সৈন্যদলের প্রধান ছিলেন হাকিম খান সুরি। শুধু হলদিঘাটির যুদ্ধই নয়, পুরিন্দরের যুদ্ধে ঔরঙ্গজেবের হয়ে ছত্রপতি শিবাজীর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন রাজা জয়সিংহ এবং শিবাজীর সৈন্যদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে ছিলেন নূর খান বেগ। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, হিন্দু রাজাদের সাথে মুঘল শাসকদের দ্বন্দ্বের মূল কারণ কখনোই ধর্মীয় পার্থক্য ছিলো না বরং এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ ছিলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির কৃতি ছাত্রছাত্রীরা এইসব তথ্য মানতে নারাজ।
২০২০ সালে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বক্তৃতায় বলেন যে, বাল গঙ্গাধর তিলকই ছিলেন প্রথম ভারতীয়,
যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামকে জনপ্রিয় ও জনমুখী করে তোলেন। তিনি এও বলেন যে গান্ধীজি থেকে শুরু করে সভারকার পর্যন্ত সকলেই তিলকের রক্ষণশীল চিন্তার দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আসলে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বহুমুখী ধারাগুলিকে ভুলিয়ে আরএসএস এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার দ্বারা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত চরিত্রকে একপ্রকার অপমান করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো- ‘ বিজেপি-আরএসএস তথা হিন্দুত্ববাদীরা ক্রমাগত এই ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেনো? এই প্রশ্নের উত্তরে, প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এবং অধ্যাপক ইরফান হাবিব বলেছেন- তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের শত্রু হিসেবে তুলে ধরা। তার মতে ‘হিন্দু’ শব্দটিই আরবিক। তাই, যদি সত্যিই সংশোধন করতে হয় তবে সবার আগে এই ‘হিন্দু’ শব্দটিকে পরিত্যাগ করা উচিত।কিন্তু তারা সেটা করবে না । আমাদের বুঝতে হবে এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এই বিভাজন তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি।
তবে কি আমরা নিরুপায়? কিছুই কি করার নেই? আর যদি থেকে থাকে, তবে সেটা কি? আমাদের পৌঁছতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে, সাধারণ মানুষের ইতিহাস নিয়ে। বিভাজনকারীদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে, কেবলমাত্র ক্ষমতার জোরে পাঠ্যসূচিতে ইতিহাসের বদল ঘটিয়ে দিলেই মিথ্যেটা সত্যি হয়ে যায় না। এই দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রগতিশীল জনগণ সর্বদাই বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনের নীতি কায়েম করার চেষ্টা কে বিফল করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জ্যোতি বসু বলেছিলেন-” মানুষই ইতিহাস রচনা করে” এবং তা যদি সত্যি হয় তবে এই দেশের মানুষ একদিন নিজেই নিজেদের এমন ইতিহাস লিখবে, যার বিকৃতি সম্ভব নয়।
লেখাটি সুপাঠ্য এবং ভাল। কিছু বানান ভুল খুব চোখে লাগছে। এবিষয়ে ভবিষ্যতে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়।